আজ বুধবার,৮ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৩শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ১১:৩৫

অতিবৃষ্টিতে ঝিনাইদহে পাটের ফলন বিপর্যয়ের শঙ্কা!

Print This Post Print This Post

নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৈরী আবহাওয়া আর অসময়ে বৃষ্টির কারণে ঝিনাইদহে পাটের ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন চাষীরা। এরই মধ্যে ৭০ ভাগ জমির পাট কাটা হয়েছে বলে জানিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর। কৃষি অধিদপ্তরের দেয়া তথ্যমতে, এ বছর জেলার ছয় উপজেলায় ২২ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হাজার ২২০ হেক্টর, কালীগঞ্জে ১ হাজার ৬০০, কোটচাঁদপুরে ৮২০, মহেশপুরে ৩ হাজার ২১০, শৈলকুপায় ৭ হাজার ৯৫০ ও হরিণাকুণ্ডুতে ৩ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। পাটের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫১ হাজার ৪৯৬ টন। পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হলেও উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হচ্ছে না। কৃষকরা বলছেন, পাটের বাড়ন্ত সময় বৃষ্টির কারণে ফলন ভালো হয়নি।

শৈলকুপা উপজেলার উত্তর মির্জাপুর গ্রামের পাটচাষী রুহুল আমিন জানান, পাটবীজ জমিতে রোপণ করার পর পাটের চারা ভালো গজিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টির কারণে পাটের গোড়ায় শিকড় গজিয়ে যায়। যে কারণে উচ্চতা কমে যাওয়ায় এবার ফলন কম হয়েছে।

মহেশপুর উপজেলার সামন্তা গ্রামের কৃষক সবুজ মিয়া বলেন, এ বছর আমি তিন বিঘা জমিতে পাট আবাদ করেছিলাম। বৃষ্টির কারণে একটি জমির পাট বড় না হওয়ায় শুরুর দিকে তা কেটে অন্য ফসল আবাদ করছি। দুই বিঘা জমিতে যে পাট ছিল তারও ফলন ভালো হয়নি। এ বছর পাট চাষে লোকসান গুনতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার পবহাটি গ্রামের কৃষক আলিম উদ্দিন জানান, তিনি এক বিঘা জমিতে এ বছর পাটের আবাদ করেছেন। পাটবীজ, চাষাবাদ, সার, নিড়ানী, পাট পরিচর্যা, শ্রমিক খরচ, পাট জমি থেকে কেটে পানিতে জাগ দেয়া, আঁশ ছাড়ানো পর্যন্ত তার খরচ হয়েছে ৩৪ হাজার টাকা। ২২ কাঠা জমিতে তিনি পাট উৎপাদনের আশা করছেন ১৩-১৪ মণ, যার বর্তমান বাজারমূল্য ২৮ হাজার টাকা। পাটকাঠি বিক্রি হবে ৫ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে তার লোকসান হচ্ছে ১ হাজার টাকা। তিনি বলেন, আমার জমিতে অন্যদের তুলনায় পাটের ফলন ভালো হয়েছে। তবুও লোকসান হবে। তাহলে যাদের ফলন ভালো হয়নি তাদের কী পরিমাণ লোকসান গুনতে হচ্ছে একবার ভেবে দেখুন।

শৈলকুপা উপজেলার ভাটই গ্রামের পাটচাষী রাশেদ মোল্লা বলেন, বর্তমানে বাজারে পাটের দাম ১ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও উৎপাদন কম হওয়ায় এবার লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষীদের।

এ ব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ কৃপাংশু শেখর বিশ্বাস বলেন, আবাদ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হলেও পূরণ হচ্ছে না উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা। এক্ষেত্রে সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সহযোগিতা করা হবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ