আজ বুধবার,২৪শে আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৮ই জুলাই ২০২০ ইং,দুপুর ২:৩৯

আইনসভায় আদম ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম

Print This Post Print This Post

বিশ্ব সভায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের দায় বাংলাদেশের আদম সন্তানদেরই। গত বছর মার্চ মাসে কুয়ালালামপুর বেড়াতে গিয়েছিলাম। এয়ারপোর্টে নামার পর টয়লেটে গিয়ে প্রথম পেলাম বাঙালীকে। ক্লিনার হিসেবে কর্মরত। যেখানে অড জব শেখানেই বাঙালি। তবে যারা দেশের টাকা চুরি করে সেকেন্ড হোম বানিয়েছে তাদের চোখে পড়েনি। হয়তো তারা ওখানে আছে বহাল তবিয়তে। আমার মত ক্ষুদ্র মানুষের ফুটপাতে হাটার সময় অথবা পাবলিক টয়লেটে তারা যাবেই বা কেন। কি অসহায় জীবন আমার দেশের শ্রমিক ভাইদের কথা বললে আন্তরিকতার অভাব নেই। মরে হয় কতদিনের চেনা। চাচাতো ভাই, খালাতো ভায়ের মতো

প্রশ্ন করি বাংলাদেশে যাওনা কতদিন? হাতের আঙ্গুল গুনে কেউ বলে ৪ বছর কেউ বলে ৫ বছর। দেশে কে কে আছে? মা, বাবা, ভাই, বোন, বউ, বাচ্চা। এতোদিন বিদেশে আছো বাড়িতে যেতে ইচ্ছে করেনা? উত্তর দেয় না। ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে। আমি বুঝতে পারি আমার দিকে তাকিয়ে থাকলেও ও এখন কল্পনায় ওর সেই ছোট শিশুটির কথা ভাবছে যে কিনা ইমুতে কলদিয়ে বাবার কাছে খেলনা চাই, বাবার আদর চাই। চোখ দুটো আমাদের দুজনের ছল ছল করে। চোখ ফিরিয়ে নিই ওর চোখের থেকে। ছেলেটা মোবাইল নিয়ে ভিডিও কলে একটু দুরে দাড়িয়ে ফিসফিস করে আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলে। পাশ দিয়ে বড়লোক বাঙালি মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায় মার্সিডিজ হাকিয়ে আর ছেলেটি মাইডিন মার্কেটের নিচে দাড়িয়ে থাকে কখন ফ্রি বাস আসবে.

কি দেখার কথা কি দেখছি। আজ মালেশিয়ায় কাজ করে দুটো ভাত খাওয়ার জন্য লক্ষ লক্ষ যুবক অবৈধ বসবাস করছে। সব সময় আতঙ্ক। কখন পুলিশ তুলে নিয়ে যায়।

কিন্তু মালেশিয়া তো বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দিন স্বাধীন হয়নি। কিন্তু একজন নেতা আজ মালেশিয়াকে কোথায় নিয়ে গেছে। আজ যদি বঙ্গবন্ধু ১৫ আগষ্ট শহীদ না হতেন তাহলে বাংলাদেশ হয়তো মালেশিয়ার চেয়ে উন্নত হতো, হয়তো পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষ বাংলাদেশে আসতো কাজের সন্ধানে। কিন্তু আমাদের দূর্ভাগ্য যে আমরা নিজেই নিজের পিতাকে হত্যা করা জাতি। মরুভূমিতে উটের জকি আর নারীদের আত্ম ক্রন্দন আমাদের কপালের লিখন।এটা আমাদের পাওনা। একটি সঠিক নেতৃত্ব জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। দরকার সুনাগরিকের। আমাদের সুনাগরিকের বড় অভাব, যোগ্য নেতৃত্বের যেমন অভাব তেমন অভাব দেশপ্রেমিক জনগণের। নেতৃত্ব রাতারাতি তৈরি হয়না। দেশের নেতৃত্ব দেওয়ার মতো রাজনৈতিক দূরদর্শিতা দরকার। দরকার জনগণের সাথে মেশা। জনগণের পালস বোঝা, হার্ট বিট ধরতে পারা। কিন্তু আমরা কি দেখছি। কোনদিন রাজনীতি করেন নি। তিনি বিভিন্ন অসাধুভাব টাকা ইনকাম করে হঠাৎ জনসেবায় নেমে যান পপুলদের মত।

২০১৭ সালে জনসেবা শুরু করলো।২০১৮ সালে সংসদ সদস্য। টাকা দিয়ে নাকি বাংলাদেশে বাঘের চোখ মেলে সেখানে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতাদের চোখে পড়া তো এক নিমিষের ব্যাপার। ফেলো কড়ি মাখো তৈল। কিনে ফেলো কদবেল। নেতারা ফিট। মনোনয়ন পাকা। আর ভুদাই পাবলিক তো একটা চা, বিড়ি, টোস্ট বিস্কুট, পান পেলে খুশি। তার পরে একটা লুঙ্গি, শাড়ী পেলে তো কথাই নেই। কে চোর কে চোরের ছেলে দেখার দরকার নেই। ছিল মারো ভাই সিল মারো শ্লোগান দিয়ে ওঠে, আর ইফতার পার্টি ওয়াজ মাহাফিল মসজিদ মন্দিরে দান করলে তো চোদ্দগুষ্টির জন্য দোয়া।ইহকাল ও পরকাল দুটোই পেয়ে যায়। আমার ভাই, তোমার ভাই, অমুক ভাই তমুক ভাই। অমুক ভাইয়ের চরিত্র ফুলের মত পবিত্র.!!

কিন্তু আইনসভার কাজ কি? গম, চাল ভাগাভাগি? না আইন প্রনয়ণ? সংসদ সদস্যদের কাজ আর স্হানীয় সরকারের কাজ এক নয়। যার যেটা কাজ সেটা বুঝতে হবে। ইতিহাসের শিক্ষক দিয়ে অংকের মাস্টারি করালে যা হয় আরকি। আইন সভায় আইন প্রনয়নের ভার তুলে দিই কাদের হাতে। যাদের আইন প্রনয়নের বিন্দু মাত্র অভিজ্ঞতা নেই। নেই রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা। ইষ্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী ভারতীয় উপমহাদেশে এসেছিল বানিজ্য করতে। এখানে এসে দেখলো শাসন ব্যবস্হায় দূর্বলতা, অভ্যন্তরিন কোন্দল। সেই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে হয়ে গেলো রাষ্ট্র ক্ষমতার মালিক। সেই অবস্থার কথা বলতে যেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিবাজি উৎসব কবিতার লিখেছেন “বণিকের মানদণ্ড দেখা দিল পোহালে শর্বরী রাজদণ্ডরূপে।

এই কবিতাটি চরন আজ শতভাগ প্রাসঙ্গিক। কিন্তু আমরা চাই রাজনীতিবিদদের হাতেই থাক রাজ দন্ড।
তৎকালীন আমলে রাজনীতিকদের ব্যক্তিত্ব, অভিজাত্যতা কেমন ছিল?

আর আজ! কোথায় গেল সেসব আদর্শিক রাজনীতিকরা? কোথায় হারিয়ে গেল সততা, ব্যক্তিত্ব, আভিজাত্যপূর্ণ রাজনীতিকরা? কোথায় হারিয়ে গেল রাজনীতিকদের সততা? কোথায় হারিয়ে গেল প্রকৃত দেশপ্রেমিকরা? কেন রাজনীতি আজ অপাত্রে চলে গেছে? এ সবের নেপথ্যে কী কী কাজ করছে? কারা এখন এদেশের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করছেন? ছড়ি ঘুরাচ্ছেন, এসি রুমে বসে কলকাঠি নাড়ছেন? এরা কারা? রাজনীতির রঙ্গালয়ে প্রকৃত রাজনীতিকদের পদচারণা থাকা উচিত ছিল। কেন পেশাধারী রাজনীতিকরা হারিয়ে যাচ্ছেন? কেন সেই ত্যাগি রাজনীতিকরা আজ কোণঠাঁসা? কেন তারা আজ অপাংক্তেয়? রাজনীতিকদের বাইরে দেশ-জাতিকে নিয়ে কিছুই ভাবা যায় না। উপনিবেশিক শাসনামলে রাজনীতিকরা কেমন ছিলেন, কেমন ছিল তাদের দেশত্ববোধ, কেমন ছিল তাদের সততা, কেমন ছিল তাদের নীতি, নৈতিকতা এবং আদর্শবোধ। আর এখন কেমন চলছে রাজনীতি, কেমন আছেন রাজনীতিকরা। সেই রাজনীতির পীঠস্থানে এখন কারা রাজনীতির চাকা ঘুরাচ্ছেন। রাজনীতি আছে তবে….!!

একজন পেশাধারী ব্যবসায়ী, আমলা, শিক্ষক, নৃত্য শিল্পী, চলচ্চিত্র শিল্পী, গায়ক, চিকিৎসক যদি অর্থের জোরে রাতারাতি বড় হাইব্রীড রাজনীতিক সেজে বসেন, দেশের পার্লামেন্টের সদস্য হন সে দেশে কেমন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হতে পারে, গোটা দেশ কেমন চলতে পারে, কেমনভাবে বিশ্ব সভায় আসীন হতে পারে। তা কী বলার অপেক্ষা রাখে? কাজেই যার যে পেশা তাকে সেই পেশায় মনোনিবেশ করাই শ্রেয়। মনে রাখতে হবে রাজনীতি শুধুমাত্র রাজনীতিকদের জন্য। রাজনীতির সাইন বোর্ড় গাঁয়ে লাগিয়ে পর্দার নেপথ্যে অবৈধ অর্থ রোজগারের জায়গা নয়। রাজনীতির নামে টাকা বাগিয়ে মিল-করকারখানা তৈরির বিষয় নয়। রাজনীতি মানে কমিশন বিজনেস নয়। তবে এ কথা সত্য যে, টাকা থাকলে রাজনীতিক হওয়া যায় না, বড় ব্যবসায়ী হওয়া যায়। ধনবান হওয়া যায়, মন্ত্রী, সাংসদ হওয়া যায়। টাকার বিনিময়ে এ দেশে যা কিছু হচ্ছে এ সব সাময়িক মাত্র।

এক কথায় যারা দেশকে নিয়ে, জাতিকে নিয়ে ভাবেন, দেশকে আগামির প্রত্যাশায় এগিয়ে যাবার সংকল্প করেন তারাই রাজনীতিক। যাদের মধ্যে রয়েছে সিংহভাগ সততা, আদর্শ, দেশাত্ববোধ তারাই রাজনীতিক।

সৎ, নির্মোহ নেতৃত্বের দিক নির্দেশনার ওপর গড়ে উঠে একটি দেশ, একটি জাতি। সেই রাজনৈতিক নেতৃত্বকে অস্বীকার করে একটি জাতি সামনে এগিয়ে যেতে পারেন না। প্রকৃত গণতন্ত্র বিকশিত হতে পারে না। আমাদের মুক্তি সংগ্রামে যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, সংগ্রাম করেছেন প্রকৃতঅর্থে তারা ছিলেন দেশ-প্রেমিক রাজনীতিক। ব্রিটিশ-পাকিস্তান আমলে রাজনীতিকরা দেশ-জাতির বাইরে কোনোদিন কিছু ভাবেননি। নিজের পরিবার নিয়ে কখনো চিন্তা করেননি। মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে নিরন্তর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন। আগে জ্ঞান ও নীতির জায়গা থেকে রাজনীতি চর্চা হতো। কিন্তু এখন সেই ধারার রাজনীতি আর নেই। এ জন্য আদর্শ ও সৎ চিন্তা চর্চাকারী মানুষগুলো এখন আর রাজনীতিতে আসছেন না। সেই রাজনীতিকরা আজ নির্বাসনে। দেশে রাজনীতি আছে, তবে মানি-মাসেলম্যানদের নিয়ন্ত্রণে। তারা জনগণকে নিয়ে যতোটুকু না ভাবেন, তার থেকে নিজেদের আখের গোছাতে থাকেন অভ্যস্ত।
রাজনীতির নাটাই কাদের দখলে?

আজকে স্বাধীন বাংলাদেশে কারা রাজনীতি করছেন? কারা স্বাধীন দেশের পার্লামেন্টে সাংসদ হচ্ছেন? কারা রাজনীতির ছড়ি ঘুরাচ্ছেন? এ সব প্রশ্ন আমার মতো অনেকের। কিন্তু বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধবে কে? সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসবে কে? খামোশ উচ্চারণ করবেন কে? আসলে রাজনীতি এখন আর প্রকৃত রাজনীতিকদের হাতে নেই। চলে গেছে ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে নানা বাজিকরদের দখলে। মানি-মাসেলম্যানদের নিয়ন্ত্রণে।

ইউরোপ, আমেরিকার সংসদের ৮০% এমপি যখন আইনজীবী অথবা আইনের ছাত্র। সেখানে উদাহরণ কি দিব আমেরিকার সাবেক প্রেসিডেন্ট জোহান এডামস, থমাস জেফারসন,জেমস মনরো,জোহান কুইন্সি এডামস, এনড্রিউ ডেকেশাল,মার্টিন ভেন বুরিন, মিলাউ ফ্লিমিমোর, ফ্রাংকলিন পাইয়ারসি, জেমস বুসনান, আব্রাহাম লিংকন,রুডহার্ডফোর্ড হায়েস, চেষ্টার আর্থার, গ্রোভার ক্লেভল্যান্ড, বেনজামিন হেরিসন, উইলিয়াম মেককিনলেই, উইলিয়াম টাফ্ট, উইড্রো উইলসন, কেলভিন কোলাডিজ, ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট, রিচার্ড নিক্সন, জিরাল্ড ফোর্ড, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা, ছিলেন আমেরিকান প্রেসিডেন্ট যারা সবাই আইনজীবী ছিলেন। হেলারি ক্লিনটনের নাম না বললেই নয় যিনি ব্যাপক জনপ্রিয় হওয়া সত্বেও প্রেসিডেন্ট হতে পারেনি।

বৃটেনের উদহারন দিয়ে আর সময় নষ্ট করতে চাইনা। টনি ব্লেয়ার ও উনার স্ত্রী শেরি ব্লেয়াররের নাম না বললে অনুশোচনা করতে হবে।
ইউরোপ-আমেরিকার কথা না হয় বাদ দিলাম।

ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতিতে আইনজীবীদের প্রাধান্য ছিল। মহাত্মা গান্ধী, নেহেরু, সর্দার বল্লভ ভাই প্যাটেল, জিন্নাহ, সি আর দাশ, সোহরাওয়ার্দী, শেরেবাংলা ছিলেন আইনজীবী।

বর্তমানে ভারতে প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ আছেন যারা আইনজীবী হিসেবে সফল ছিলেন, তারা হলেন অরুণ জেটলি,রবিশংকর প্রসাদ, পি চিদম্বরম,কপিল সিবল, সালমান খুরশিদ, অভিষেক প্রসাদ মনু সিংভি।

বাংলাদেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন আইনের ছাত্র যদি দেশের জন্য জেল-জুলুম খেটে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় তার ছাত্রত্ব বাতিল করলে আইন পড়া শেষ করতে পারেন নি।
স্বাধীনতার পরবর্তী বঙ্গবন্ধু একঝাঁক তরুণ আইনজীবীদের নিয়ে বাংলাদেশ সরকার গঠন করেন। কিন্তু ১৫ আগষ্ট জাতির জনকে নির্মম ভাবে হত্যা করা হলো। পাকিস্তানের ভাবধারার ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায় বিভিন্ন সময়ের পরিসংখ্যানে।

২৫ ডিসেম্বর ২০১৬ দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৭৩ সালে এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ীর যে হার ১৫% ছিল, তা এখন অতীতের সব রেকর্ড পেছনে ফেলে ৬৯%-এ এসে দাঁড়িয়েছে। অবশ্য সংসদগুলোর ধারাবাহিক পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেই বাংলাদেশের রাজনীতি ব্যবসায়ীদের পকেটে ঢুকে যাওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়। মুক্তিযুদ্ধের আগে ১৯৫৪ সালে এমপিদের মধ্যে ব্যবসায়ীর সংখ্যা ছিল মাত্র ৪ শতাংশ। পরে ধারাবাহিকভাবে এটি বেড়েছে। স্বাধীনতার দুই বছর পর প্রথম নির্বাচনে ১৯৭৩ সালে ১৫% ব্যবসায়ী ছিলেন সংসদে।

এরপর সামরিক নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় ব্যবসায়ী, সম্পদশালী ও প্রভাবশালীদের ডেকে ডেকে করা হয়েছে এমপি। মাত্র ছয় বছরে ১৯৭৯ সালে ব্যবসায়ীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩৫%। এরপর শুধুই বেড়েছে দুর্বৃত্তায়ন। গণতান্ত্রিক পদ্ধতি পুনঃপ্রবর্তনের পরও সেই একই ধারা অব্যাহত ছিল। ১৯৯৬ সালে এসে ব্যবসায়ী এমপির হার হয়েছে ৪৮%, পরে ২০০১ সালের সংসদে এ হার হয় ৫১% এবং ২০০৮ সালে মোট এমপির ৬৩ শতাংশই ছিলেন ব্যবসায়ী। সেসব রেকর্ডও ভঙ্গ হয় ২০১৪ সালের নির্বাচনে। সে নির্বাচনে অতীতের ধারাবাহিকতায় সরকারের চার ভাগের প্রায় তিন ভাগই দখল করেছেন পেশায় ব্যবসায়ীরা। সংরক্ষিত আসন বাদ দিলে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ৬৯ শতাংশে। এই সংখ্যা বেড়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা গতবছরের ৬ জানুয়ারি বেসরকারি টিভি চ্যানেল ২৪-এর সংবাদে সুজনের দেয়া তথ্যের সূত্রে একটি প্রতিবেদনে জানায়, একাদশ জাতীয় নির্বাচনে শপথ নেয়া সংসদ সদস্যদের ৭১শতাংশ পেশায় ব্যবসায়ী।

ফলে রাজনীতি এখন ব্যবসায়ীদের হাতে নিয়ন্ত্রিত। আর তাইতো পপুলা স্বপরিবারে এমপি হয় আর বিশ্ব সভায় আমাদের মাথা হেট হয়ে যায়। ত্রিশ লক্ষ প্রান আর দুই লক্ষ মায়ের সম্ভ্রম দিয়ে যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা ক্ষনিকের নিমিষেই ম্লান হয়ে যায় যখন শুনতে পায় মহান সংসদের, পবিত্র সংসদের সদস্য অনৈতিক ব্যবসা পরিচালনার দায়ে বিদেশের মাটিতে গ্রেফতার। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পদদলিত হয়। আর চোখের সামনে আমরা নির্বাক দর্শকের মত দেখি ধর্ষিত মাতৃভূমি প্রিয় বাংলাদেশ।

লেখক: এ্যাড. এনামুল হোসেন সুমন, আইনজীবী, বাংলাদেশ সুপ্রিমকোর্ট ও সাবেক কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য, বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ