আজ সোমবার,৯ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৫শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৭:৩১

ইসলামে নারীর অধিকার

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামি ডেস্ক :
পৃথিবীতে অসংখ্য ধর্ম রয়েছে। ইসলাম ব্যতীত সকল ধর্মই নারীকে তার অধিকার থেকে বঞ্চিত করেছে। অবহেলার শিকলে বন্দি করে রেখেছে। ইসলাম আগমনের পূর্বে নারীর তেমন মূল্যায়ন ছিল না। জাহিলিয়্যাতের যুগে নারীকে শুধু ভোগের পাত্র মনে করা হতো। কন্যা সন্তান জন্ম দেওয়াকে কুলক্ষণ মনে করা হতো। কন্যা সন্তানদেরকে জীবন্ত কবর দেওয়া হতো। ইসলাম আগমন করে নারী জাতিকে প্রতিটা স্তরে স্তরে সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত করেছে।

নারী জীবনে চারটি স্তর রয়েছে। কন্যা, বোন, স্ত্রী, জননী। একজন নারী কন্যা হয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারপর হয় একজন বোন। এরপর বিবাহ বন্ধনের পর নারী হয়ে উঠে একজন স্ত্রী। নারী জীবনের সর্বশেষ সিঁড়ি হলো জননী।

কন্যারূপে নারীর মর্যাদা:

হযরত জাবের ইবনে আবদুল্লাহ রা.থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যার তিনজন কন্যা সন্তান হবে আর সে তাদের লালন-পালন করে, তাদের প্রতি মমতা প্রদর্শন করে এবং তাদের ভার বহন করে তাহলে তার জান্নাত নিশ্চিত। প্রশ্ন করা হলো- হে রাসূল! যদি দুইজন হয়? তিনি বললেন: দুইজন হলেও। হযরত জাবের রা: বলেন:কারো ধারণা, যদি কেউ বলতো- একজন হলে? তাহলে নিশ্চয়ই রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলতেন: একজন হলেও”[১]

বোনরূপে নারীর মর্যাদা:

আনাস ইবনে মালিক রা.থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:”আমার যে কোনো উম্মতের তিনজন কন্যা কিংবা তিনজন বোন থাকবে আর সে তাদের দেখাশোনা ও ব্যয়ভার বহন করবে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়া পর্যন্ত। সে আমার সাথে এইভাবে জান্নাতে থাকবে বলে তিনি বৃদ্ধা ও তর্জনী এক সাথে করে দেখান”।

[২] জীবনসঙ্গিনী হিসেবে নারীর মর্যাদা:

আল্লাহ তায়ালা কুরআনুল কারীমে বলেন:”স্ত্রী হচ্ছে তোমাদের পোশাক আর তোমরা তাদের পোশাক”

[৩] অন্যত্র আল্লাহ তায়ালা বলেন:”তোমরা তাদের সাথে উত্তমরূপে জীবন যাপন করো”।

[৪] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:”তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি তার স্ত্রীদের পক্ষে ভালো সেই প্রকৃত ভালো। আর আমি আমার স্ত্রীদের পক্ষে ভালো”।[৫]

মা হিসেবে নারীর মর্যাদা:

আল্লাহ তায়ালা বলেন:” তোমার প্রতিপালক আদেশ দিয়েছেন তিনি ব্যতীত আর কারো ইবাদত না করতে এবং মা বাবার প্রতি সদ্ব্যবহার করতে। তাদের একজন অথবা উভয়েই তোমার জীবদ্দশায় বার্ধক্য উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ও বলো না এবং তাদেরকে ধমক দিও না; তাদের সাথে সম্মানসূচক কথা বলো।মমতাবশে তাদের প্রতি নম্রতার পক্ষপুট অবনমিত করো এবং বলো, হে আমার প্রতিপালক! তাদের প্রতি দয়া করো যেভাবে শৈশবে তারা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন”।

[৬] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক সাহাবী বললেন:
হে রাসূল! আমি কার সাথে উত্তম আচরণ করব? রাসূল স. সেই সাহাবীকে বললেন,তোমার মায়ের সাথে। সাহাবী রা.বললেন: তারপর? তিনি বললেন:তোমার মায়ের সাথে। এভাবে তিনবার “তোমার মায়ের সাথে” বলার পরে চতুর্থবার বললেন “তোমার বাবার সাথে”।

জাহেমা রা. রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমতে এসে আরজ করলেন, হে রাসূল! আমি যুদ্ধে যেতে চাই। এ বিষয়ে আপনার পরামর্শ চাচ্ছি। রাসূল স. বললেন: তোমার মা আছেন?
বললেন: আছেন। রাসূল স. বললেন: তাঁর সেবায় নিমগ্ন থাকো। জান্নাত তার পদদ্বয়ের তলে।

[৭] একজন নারীর জীবনের প্রতিটা ধাপে ধাপে ভরন-পোষণের দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে পুরুষের উপর। আবার অংশীদারের হক থেকে নারীকে বঞ্চিত করেনি। বাবার সম্পত্তিতে তার ভাগ রয়েছে। স্বামীর নিকট থেকে পাচ্ছে দেনমহর। আবার স্বামী ও পুত্রের সম্পদেও রয়েছে নারীর ভাগ। কুরআনে বর্ণিত মৃত্যু ব্যক্তির পরিত্যক্ত সম্পদের মোট বারো শ্রেণীর মধ্যে আট শ্রেণী নারীদের
দখলে।

এমনিভাবে ইসলাম একজন নারীকে যতটা অধিকার বা সম্মান দিয়েছে। যা অন্য কোনো ধর্ম দিতে পারেনি। সনাতন, খ্রিস্টধর্মে বা অন্য সব ধর্মে নারীকে ভোগের পাত্র মনে করা হয়।

আর যারা সমানাধিকার নিয়ে ময়দান গরম করে তুলছে। তারা কি আদৌও সমানাধিকার পাচ্ছে?মোটেও না। সবাইকে সমানাধিকার দেওয়া সম্ভব না। পরিবারের এক এক সদস্যের ভিন্ন ভিন্ন রকমের চাহিদা। যেমন: একজন ব্যক্তির দুইটা ছেলে। বড় ছেলের বয়স আঠার বছর আর ছোট ছেলের দেড় বছর। ছোট ছেলের মার্কেট খরচ যদি পাঁচশত টাকা লাগে তাহলে বড় ছেলের লাগবে দুই হাজার টাকা। ইসলাম সবার মাঝে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে বলেছে, সমানাধিকার না। সবাইকে সমানাধিকার দেওয়া কখনো সম্ভব না।

আল্লাহ তায়ালা যেভাবে যেটা সৃষ্টি করেছেন সেটা সেইভাবে রাখায় বুদ্ধিমানের কাজ। বাড়াবাড়ির মধ্যে কোনো ফায়দা নেই।

সর্বোপরি নারী বা পুরুষ যেই হোক না কেন, আল্লাহ তায়ালার নিকট তার মর্যাদা বেশি যে অধিক মুত্তাকী।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:”তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তিই আল্লাহর নিকট অধিক মর্যাদা সম্পন্ন যে অধিক মুত্তাকী”।

[৮] সর্বশেষ কথা হলো ইসলামে পুরুষের তুলনায় নারীর অধিকারের ব্যাপারে বেশি মূল্যায়ন করা হয়েছে।

মর্যাদায় আল্লাহর কাছে নারী-পুরুষ সমান।তারতম্য হবে তাকওয়া ও আমলে সালিহার ভিত্তিতে।
অধিকারের দিক থেকে তো ইসলাম নারীকে অগ্রাধিকার দিয়েছে।প্রায়োরিটির সর্বোচ্চ আসনে সমাসীন করেছে। বাকি রইল দায়িত্ব কিংবা নেতৃত্ব। এক্ষেত্রে পুরুষকে আল্লাহ তায়ালা আগে রেখেছেন।কেননা সৃষ্টিগতভাবেই নারীর তনু-মন নরম,কোমল,আবেগপ্রবণ। [৯]

তথ্যসূত্র:

[১]মাজমাউয্-যাওয়াইদ:হাদিস:১৩৪৯০
[২]মাজমাউয-যাওয়াইদ, হাদীস:১৩৪৯৫)
[৩]সূরা বাকারা,আয়াত ১৮৭
[৪]সূরা আন-নিসা,আয়াত ১৯
[৫]মিশকাত ৩১১৪
[৬]সূরা বানি ইসরাইল,আয়াত ২৩-২৪
[৭]মুসনাদে আহমাদ
[৮]সূরা হুজরাত,আয়াত ১৩
[৯]ইমান ভঙ্গের কারণ, পৃষ্ঠা: ৬২

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ