আজ সোমবার,২৩শে ফাল্গুন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৮ই মার্চ ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৮:৪৭

এসো কুরআন পড়ি

Print This Post Print This Post

আল্লাহ তায়ালা যুগে যুগে অসংখ্য নবী-রাসূলগণকে প্রেরণ করেছেন মানুষের হেদায়াতের জন্য। আর গাডলাইন হিশেবে তাঁদের প্রতি অবতীর্ণ করেছেন কিতাব। এর ধারাবাহিকতায় আমাদের নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি কুরআন অবতীর্ণের মাধ্যমে নবুওয়াতের সিলাসিলা পরিসমাপ্তি ঘটেছে। প্রতিটা মুসলিমের জন্য আবশ্যক হলো কিয়ামত অবধি মহাগ্রন্থ পবিত্র কুরআনুল কারীমের বিধি-বিধান পালন করা।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অগণিত মুজিযা(১) দান করা হয়েছিল। সবচেয়ে বড় মুজিযা ছিলো কুরআন মাজীদ

বর্তমান আমাদের জন্য দুঃখজনক বিষয় হলেও সত্য যে,আমাদের অনেক ভাই-বোনেরা কুরআন পড়তে পারেন না। আর যারা পড়তে পারেন তাদের বিরাট একটা অংশ ঠিকমতো তেলাওয়াত করেন না। আর অর্থসহ পড়েন এমন লোকের সংখ্য তো শূন্যর কোটায়।

বেশ কিছুদিন হয়নি আমাদের থেকে ২০২০ সাল বিদায় নিয়েছে। কখনো কি ভেবে দেখেছি, বিগত এক বছরে কত খতম কুরআন পড়েছি? বা কতটুকু পরিমাণ কুরআন অনুধাবন করার চেষ্টা করেছি?
অথচ আমাদের মধ্যে অসংখ্য এমন মানুষ রয়েছেন, যারা গত বছরে গল্প,কবিতা, উপন্যাসের শত শত বই পড়েছেন। (বই যে পড়তে পারবেন না, তা কিন্তু একদম না)

একটা বই সম্পর্কে বুক রিভিও লেখার জন্য একবার বইয়ের পরিপূর্ণ বিষয়টা বোধগম্য না হলে বার বার পড়তে পারি। অন্য দিকে কুরআনের একটি আয়াত বা সূরা আমল করার নিয়তে কতবার পড়েছি?

তাই আসুন!
দিনে অনন্ত ত্রিশ মিনিট করে হলেও কুরআনের পিছনে সময় দিই। তেলাওয়াত করতে না পারলে আজ থেকেই শুরু করে দিই কুরআন শিক্ষা।

উসমান ইবনে আফফান রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন,রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

তোমাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি সর্বোত্তম যে কুরআন শিক্ষা দেয় এবং শিক্ষা করে”(২)

ফরজ ইবাদত পালনের পর কুরআন তেলাওয়াত করা সর্বোত্তম ইবাদত।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন: “কুরআন তেলাওয়াত করাই সর্বোত্তম ইবাদত”(৩)

প্রিয় পাঠকবৃন্দ!

কুরআন বড় আজীব ও বিস্ময়কর পরশপাথর, যেখানেই সে লাগে তাকে সর্বসেরা করে তোলে, যেই তার স্পর্শ পায় সেই সর্বশ্রেষ্ঠ হয়ে যায়।

আপনি কি জানেন না?
অসংখ্য, অগনিত ফেরেশতাদের মধ্যে যার সাথে কুরআনের বহনের সম্পর্ক লেগেছে, সেই ফেরেশতাদের সর্দার হয়ে গেছে।

আপনি কি জানেন না?
সমস্ত নবি- রাসুলদের মধ্যে যার সাথে কুরআনের সম্পর্ক লেগেছে, যার উপর কুরআন নাযিল হয়েছে, সেই নবি, নবিদের সর্দার হয়ে গেছে।

আপনি কি জানেন না?
যে উম্মতের উদ্দেশ্য কুরআন অর্বতীণ হয়েছে, সেই
উম্মত শ্রেষ্ঠ উম্মাতের উপাধিতে ভূষিত হয়েছে।

আপনি কি জানেন না?
যে মাসে এই কুরআন নাযিল হয়েছে, সেই মাস সেরা মাস হয়ে গেছে।

আপনি কি জানেন না?
যেই শহরে কুরআন নাযিল হয়েছে, সেই শহর সেরা শহর হয়ে গেছে।

আপনি কি জানেন না?
সেই অন্তর পৃথিবীর সেরা অন্তর, যাতে কুরআনের স্পর্শ লেগেছে। যাকে আমরা কুরআনের হাফেজ বলি।

আপনি কি জানেন না?
সারা দুনিয়ার সেরা জীবন তো সেই জীবন যার প্রতিটা পরতে পরতে রয়েছে কুরআনের সম্পর্ক।

আপনি কি জানেন না?
যে কাঠের উপর কুরআন রাখা হয় সেই কাঠ পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী কাঠ। যেটাকে আমরা রেহাল কাঠ বলি।

আপনি কি জানেন না?
যে কাপড়ের মধ্যে কুরআন রাখা হয় অর্থাৎ গেলাফ,সেই কাপড়টা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে দামী কাপড়। এমন অসংখ্য উদাহরন রয়েছে।

এমনিভাবে কুরআনের সাথে যার সম্পর্ক লেগেছে সেই আলোকিত হয়ে গেছে। আপনি কি আলোকিত হতে চান না? আপনি কি চান না কুরআন আপনার জন্য সুপারিশ করুক! তবে কেন বসে আছেন? আজ থেকেই নতুন রুটিন করি। কুরআন তেলাওয়াতের জন্য সময় নির্ধারন করি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের বেশি বেশি কুরআন তেলাওয়াত এবং সেই অনুযায়ী জীবন পরিচালিত করার তাওফিক দিন। (আমীন)

ফুটনোট :

(১) অলৌকিক ঘটনা/অভ্যাস পরিপন্থি বিষয়কে মুজিযা বলে।
(২) সুনানে আবু দাউদ, পৃষ্ঠা-২৭৫
(৩) কানযুল উম্মাল

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ

এ জাতীয় আরো সংবাদ