আজ শুক্রবার,২৩শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৭ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৩:৫০

ওপরে স্বর্ণলতা ভেতরে ঘুণপোকা, সামনে মহাবিপদ

Print This Post Print This Post

এক.
কষ্ট। দুঃখ। ভরাক্রান্ত মন। কেমন যেন অস্বস্তিকর পরিবেশ। চারিদিকে শুধুই মনখারাপের সংবাদ।

দুই.
স্বর্ণলতা, সবাই চেনেন। পরজীবী উদ্ভিদ। কোনো পাতা নেই। লতাই এর দেহ। কা-। মূল। সব। লতা থেকেই বংশবিস্তার। বিষাক্ত পুরো উদ্ভিদ। অনেক ক্ষেত্রে আশ্রয়দাতা গাছের মৃত্যু ঘটিয়ে থাকে। বিশাল বড় গাছ বুঝতেই পারে না কবে,কখন, কীভাবে,আস্তে আস্তে সর্বনাশ করে ফেলেছে। যখন বুঝতে পারে তখন করার কিছুই থাকে না।

তিন.
সত্যিই এমন সাহসী বীর কমই আছে। এই বীরদের সাহসীকতার জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হবে। পুরস্কারের কি নাম হবে ? সিদ্ধান্ত দেবে একটি উচু পর্যায়ের কমিটি। দিনক্ষণ ঠিক করা হবে। দেশ – বিদেশের অতিথি এনে আয়োজন করা হবে গণসংবর্ধনার। রাতব্যাপী হবে গান বাজনা। ওয়াকা ওয়াকা খ্যাত কলম্বিয়ার শিল্পী শাকিরা গাইবেন। নাচবেন। ১৭ কোটি মানুষের ৩৪ কোটি চোখ থাকবে অনুষ্ঠানের দিকে।

বঙ্গোপসাগরের উপরে করা হবে সাজসজ্জা। যেখানে বসবার ব্যবস্থা থাকবে কোটি মানুষের । অন্যরা ঘরে বসেই দেখবেন সাহসী বীরদের কীর্তিগাথা। স্ক্রীনে দেখানো হবে তাদের কীর্তি।

এবার অনুষ্ঠান কল্প দেখা যাক-
প্রথমেই স্ক্রীনে হাস্যজ্জল পাপুলের মুখ। একে একে তাঁর কীর্তিগাথা ভেসে উঠবে। ব্যাকগ্রাউন্ডে নেপথ্য কণ্ঠে শব্দমালা। ইনিই শহিদ ইসলাম পাপুল।
কোনদিন রাজনীতি করেননি। এখন এমপি। তিনি আবার কুয়েতেরও নাগরিক। দ্বৈত নাগরিকের এমপি হতে বাধা হয়নি । নিজে এমপি হয়েও সুখী হতে পারেননি। স্ত্রীকেও এমপি বানিয়েছেন। তিনি স্ত্রীকে ভালোবাসেন জীবনের চেয়েও অধিক। তার ভালোবাসার কাছে হার মেনেছে সম্রাট শাহজাহানও। কারণ শাহজাহান যার জন্য তাজমহল বানিয়েছেন তার স্ত্রী মমতাজ তা দেখে যেতে পারেননি। দেশের অগণিত মানুষের রক্ত চুষে কামিয়েছেন হাজার কোটি টাকা। হেসেছেন অট্রহাসি। মানুষকে পথে বসিয়েছেন। তুলেছেন তৃপ্তির ঢেকুর। কুয়েতের পত্রিকায় রিপোর্ট হয়েছে। কৌশলে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। এখানে এসেও দেখেন কুয়েতের পত্রিকার বরাতে বাংলাদেশের মিডিয়ায় প্রতিবেদন। স্ত্রী সংসদের প্যাডে বিবৃতি দেন। বলেন, এসব মিথ্যে। তিনি ফেরৎ যান কুয়েতে । গ্রেপ্তার হন সিআইডির হাতে। অভিযোগ, মানবপাচার। মানিলন্ডারিং। স্ত্রীর দাবি তিনি গ্রেপ্তার হননি। নেয়া হয় রিমান্ডে। বেরিয়ে আসে থলের বিড়াল। বিচার চলমান ।

নেপথ্য কণ্ঠে এবার ভেসে আসে, আমরা তার এসব সাহসীকতার জন্য গণসংবর্ধণার আয়োজন করেছি। ১৭ কোটি মানুষের হৃদয়ে দোলা দিতে পেরেছেন বলেই আজকের এই আয়োজন। এর পরই স্ক্রীনে ভেসে উঠে রিজেন্ট শাহেদের ছবি। নেপথ্যে বর্ণনা-
ইনি সেই সাহসী বীর শাহেদ। যিনি টকশোতে মুখে ফেনা তুলতেন। তার সাহসের কীর্তি অনেক। সাতক্ষীরা থেকে এসে অল্প কয়েক বছরে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। লেখাপড়ায় স্কুলের গন্ডি না পেরুলেও গড়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান। করোনাকালের কীর্তির কথা শুনলে আপনারা হাত তালি দেবেন। করোনা টেস্টের স্যাম্পল সংগ্রহ করতেন। দিতেন মনগড়া রিপোর্ট ।

ল্যাবের ফ্রীজে রাখা হতো মাছ । হাসপাতালটির লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২০১৪ সালে।
তার বিরুদ্ধে রয়েছে ৬২ টি মামলা। প্রতারণা মামলায় জেল খাটা একজন দাগী অপরাধী। সাহেদ করিম একাধারে ব্যবসায়ী, টকশো‘র আলোচক; রাজনীতিবিদও বটে। তিনি এক বিশিষ্ট ব্যক্তি। সমাজের গণ্যমান্য সব লোকের সঙ্গে তাঁর ওঠাবসা। রাজনীতিবিদ, সুশীল সমাজ, বুদ্ধিজীবী, গণমাধ্যমকর্মী সবার সঙ্গে তাঁর গভীর সখ্য। এহেন বিশিষ্ট ভদ্রলোকের নানা কীর্তিকলাপ এখন সবার মুখে মুখে। মাফিয়াদের চরিত্রের সঙ্গে মিল খুঁজে পাওয়া যায়। সারা বিশ্বে বড় বড় মাফিয়াকে নিয়ে একটা গল্প প্রচলিত আছে। এই মাফিয়ারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থাকে। রাজনীতি, অর্থনীতি, সিনেমা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করেন। সবার সঙ্গেই মধুর সম্পর্ক। কেবল হিসাবে গরমিল হলেই তারা ধরা পড়েন। ধরিয়ে দেয়া হয়। যেসব তথ্য উপাত্ত এখন পর্যন্ত গণমাধ্যম থেকে পাওয়া যাচ্ছে, তা এক কথায় অবিশ্বাস্য। এর আগে প্রতারণার মামলা হয়েছে, গ্রেপ্তারও হন। সবকিছু এড়িয়ে, থোড়াই কেয়ার করে সাহেদ রমরমা বাণিজ্য করে যাচ্ছিছলেন। সমাজের এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নেই, যাঁর সঙ্গে তার ছবি নেই। পাশের দেশ ভারতের অন্দর মহলে ঢুকে গিয়েছিলেন। ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি কিংবা বিজেপি নেতাদের সঙ্গেও তাঁর ছবির দেখা মেলে

গোটা বিশ্ব তথা দেশ যখন করোনার থাবায় বিপর্যস্ত তখন মানুষের জীবন নিয়ে তার কীর্তি মনে রাখার মত। সু¯’ মস্তিস্কে, সুষ্ঠু জ্ঞানে এমন কীর্তি করেছেন। তাই আমরা এই সাহসী বীরকে সংবর্ধনা দিচ্ছি।
নেপথ্যে কণ্ঠে এবারও ভেসে আসে- ডিয়ার গাইস আসুন স্ক্রীনে চোখ রাখি সুন্দরী ললনা ডা. সাবরিনার কিছু ঝলক চিত্রে-পাঁচ দিনের রিমান্ডে ডা. সাবরিনা নিজের অপরাধ, প্রতারণা কবুল করেছেন। দিয়েছেন অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য। জেকেজি’র সিইও আরিফ চৌধুরীও তার অপরাধ কবুল করেছেন। আরিফ চৌধুরীর চতুর্থ স্ত্রী দিনাজপুরের মেয়ে ডা. সাবরিনা চৌধুরী। আর সাবরিনার তৃতীয় স্বামী আরিফ চৌধুরী।
শাহেদের সঙ্গে সাবরিনার আগে থেকেই ঘনিষ্ঠতা ছিল। সাবরিনাও শাহেদের মতো জেকেজি হেলথ কেয়ারের নামে নমুনা সংগ্রহের কাজ বাগিয়ে আনেন। ৪০টি বুথ বসিয়ে ৫-৬‘শ নমুনা সংগ্রহ করতো। প্রতিটি নমুনার বিপরীতে নিতো ৫-১০ হাজার টাকা। বিদেশিদের কাছ থেকে এক‘শ ডলার । তিতুমীর কলেজে বুথ বসিয়ে রাতভর চলতো মাদকতা, ডিজে গান, বাজনা, উন্মাতাল নৃত্য । প্রতিবাদ করায় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের ওপর চালায় হামলা । বাদ যায়নি সংবাদকর্মীরাও ।

নেপথ্যে আবারও মধুর কন্ঠের আহব্বান,
প্রিয় রসিক বন্ধুগণ- বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউ আজকের আয়োজনকে এনে দিয়েছে অন্যরকম আবহ। পুরস্কার তুলে দেয়ার আগে আপনাদের জন্য বিশেষ আয়োজন। বিশ্বখ্যাত গায়িকা শাকিরার গান। মঞ্চে এলেন শাকিরা। গান ধরলেন- ও পাপুল ও পাপুল/ ও শাহেদ ও শাহেদ/ সাবরিনা-সাবরিনা ও আরিফ ও আরিফ তোমাদের কীর্তি যেন রয় বহমান। চারদিকে কোটি মানুষের হাত তালি আর ওয়াও ওয়াও চিৎকার!!!

চার.
ভুয়া করোনার সনদ দিয়ে শত শত কোটি টাকা পকেটে ভরেছে জেকেজি। রিজেন্ট হাসপাতাল। অনুমোদন ছাড়াই দিব্যি চার বছর সবার নাকের ডগায় ব্যবসা চালিয়ে গেল। কেউ কোনো কিছু টেরই পেল না ? সবাই দেখেও না দেখার ভান করেছে ?

আলোচনায় এখন নতুন নাম সাহেদ-সাবরিনা। ক্যাসিনোসম্রাট আর পাপিয়াপর্ব শেষ। এখন শুরু সাহেদ-সাবরিনা পর্ব। সাহেদ, পাপিয়া, শামিম, সম্রাটরা একে অপরের কীর্তিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত।

পাঁচ.
রবীন্দ্রনাথের কবিতায় বৈশাখ মাসে হাঁটুজলের কথা বলা আছে। আর আমাদের শহর-বন্দরে আধঘণ্টা বৃষ্টি হলেই জমে কোমর জল ।

ছয়.
এক জমজমাট অ্যাকশন সিনেমার দর্শক হয়ে বসে আছি আমরা। কুমিল্লায় জুমার নামাজের পর কাউন্সিলরের নেতৃত্বে এক ব্যক্তিকে শত শত মানুষের সামনে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এই সিনেমাতে কী নেই ? অ্যাকশন, ড্রামা, সাসপেন্স, মধুকুঞ্জ, ক্যাসিনো বার, প্রকাশ্যে গোলাগুলির দৃশ্য। সিনেমাতেই ভালো লাগে। বাস্তবে এসব কারোর-ই ভালো লাগার কথা নয়।

সাত.
পৌরাণিক কাহিনি রামায়ণে উল্লেখ রয়েছে, একবার লঙ্কার রাজা রাবণ সীতার খোঁজে যাওয়া হনুমানের লেজে আগুন ধরিয়ে দেয়। হনুমান নিজের লেজের আগুন ছড়িয়ে দিয়ে সমগ্র লঙ্কাপুরি ভস্মীভূত করে । পরে কিষ্কিন্ধায় ফিরে হনুমান রামকে সীতার খবর দেয়।

আট.
প্রশ্নটি সবার মনেই আসা উচিত। আসে কি ? একজন মানুষের জীবনে কতো টাকার দরকার ? উত্তরটি যদিও এক হবে না। তবে প্রত্যেকের ক্ষেত্রে সঠিক উত্তরে সমান মিল থাকবে। জীবন ধারণে প্রয়োজন স্বাভাবিক অর্থ। অর্থের এই ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’ নিজের ব্যাকগ্রাউন্ডকে সামনে রেখে সে নিজেই নির্ধারণ করবে।

সৎ পথে নিজের অবস্থার উন্নতি করতে দোষ নেই। অন্য পথে ? কেন ? কি হবে এই টাকা দিয়ে। কতো টাকা আয় করলেন সেটি বড় কথা নয়, কিভাবে আয় করলেন সেটিই বড় কথা। এখন যেখানে আছেন, সারা জীবন একই অবস্থায় থাকবেন, এটা কাম্য নয়। এভাবে নিম্ন-মধ্যবিত্তের কাতারে আসবে নিম্নবিত্ত। মধ্যবিত্ত আসুক উ”চ-মধ্যবিত্তের কাতারে। কে, কবে বারণ করেছে।

অপ্রয়োজনীয় সম্পদ আসলেই অপ্রয়োজনীয়। তাহলে বেঁচে থাকার জন্য এতো চায় কেন মানুষ ? কার জন্য চায় সে, কেন ? উঠোনে লাশ ফেলে রেখে সম্পদের ভাগাভাগি কতো দেখেছি। বাবার মৃত্যুর পর, লাশের কাছে আসতে পারেন না, এই টাকার জন্য। পালিয়ে বেড়াতে হয় আপনাকে। আপনার মা কতোটা উৎকণ্ঠায় থাকে প্রতি মুহুর্তে।

তাহলে টাকা দিয়ে জীবনে কি হলো ? অসৎ পথে টাকা কামিয়ে, ফেরারি জীবনে বাবার মৃত্যুতেও বাড়ি ফিরতে পারলেন না, শেষবারের মতো মুখখানি দেখে জানাজায় শরিক হতে পারলেন না। বাবার লাশটি কাঁধে বয়ে, বুকে নিয়ে কবরে একমুঠো মাটি দিতে পারলেন না।

আপনি কি ভেবেছেন এর মূল্য কতো ? কতো টাকার লোকসান হলো আপনার ? আপনি তো টাকা ছাড়া কিছু বোঝেন না, এই হিসাবটা কি করেছেন ? আখেরে কতোটা ব্যর্থ হলেন আপনি!

চেয়ে দেখুন, একজন দিনমজুরের কর্মক্লান্ত মুখের দিকে। দারিদ্রের বোঝা পিঠে টানা পেটানো শরীরটা নিয়ে বিছানায় শুয়েই সে ঘুমিয়ে পড়ে। বউ পিটানো লোকটির মৃত্যুতেও ক্ষুধার্ত স্ত্রীর কান্না দেখুন। আর আপনার স্ত্রী-ছেলে-মেয়ে ? তাদের কাছে আশা করতে পারেন এমনটি?

সবার চোখ ফাঁকি দিতে পারেন, কিš‘ নিজের বিবেককে কি ফাঁকি দিতে পারেন। উত্তর হতে পারে, বিবেককে ফাঁকি দিতে না পারলে এতো টাকা আয় করলেন কিভাবে? তা অবশ্য ঠিক!

আপনি যদি জেলে থাকেন, ফেরার থাকেন, এমনকি কবরে থাকেন; হিসাব করুন। দেখুন কতো টাকা আছে আপনার। কতোটা কাজে লাগলো আসলে!

আপনি কি কারুনের মতো অর্থবান হতে চান ? ফেরাউনের মতো ক্ষমতাবান হওয়ার খায়েশ আপনার ? পারবেন না। তাহলে, অর্থ আর ক্ষমতার পেছনে ছুটছেন কেন ? অর্থ বা ক্ষমতা কি তাদের কাজে লেগেছে ?

কতো মানুষের অভিশাপ, দীর্ঘশ্বাস লেগে আছে আপনার ঘাড়ে। তা কি জানেন ? টের পান না ? এতো মানুষের বিষাক্ত বর নিয়ে থাকেন কি করে। রাতে ঘুম হয় আপনার ? এ সবই কিš‘ এই টাকার জন্য, ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’ না মেনে নিজের ‘ব্যাকগ্রাউন্ড’ ভুলে যে কোনোভাবে হাতিয়ে নেয়ার অব্যবহিত ও অনিবার্য ফল।

আমাদের দ্যাখেন, কত আরামসে ঘুমাই। ঘুম ভেঙে নামাজ শেষে বই নিয়ে বসি। আবার টেবিলের ওপরে, বইয়ের বুকেই ঘুমে লুটিয়ে পড়ি। হাতে কিš‘ অতো টাকা নেই। তাতে আক্ষেপও নেই। মনে আছে সাহস। আত্মবিশ্বাস। জীবনে কতো টাকা লাগবে ? ‘প্রয়োজনীয়তা’ ও ‘স্বাভাবিকতা’র নিরিখে ব্যাকগ্রাউন্ড সামনে রেখে, নিজেই নির্ধারণ করে ফেলেছি।

নয়.
ঘুণপোকা এক ধরনের কাঠখেকো পতঙ্গ। লার্ভা থাকায় এরা কাঠে গর্ত করে এবং তা খেয়ে বেঁচে থাকে। পুরো কাঠ বুঝতেই পারে না কখন সব শেষ। বাইরে থেকে বোঝাই যায় না যে ঘুণে পুরো ভেতরটা খেয়ে ফেলছে। যখন ভেঙে পড়ে তখন মাথায় হাত। হাজার চেষ্টায়ও আর পূর্বের অবস্থায় ফেরা সম্ভব হয় না।

গাছের ওপরে পাতায় পাতায় বসবাস। এই স্বর্ণলতা দ্রুত পরিষ্কার না করলে একসময় হয়তো গাছটাকেই বাঁচানো যাবে না। স্বর্ণলতা মূল গাছেরই সব সুবিধা ভোগ করে কিš‘ কখনও মূল গাছের অংশ হয় না।
ঘুণ হলো কতিপয় অসৎ ক্ষমতাধর, যারা ভেতরে ভেতরে খেয়ে খোলসখানা বাঁচিয়ে রাখে। আবার ভেঙে পড়ার আগেই গোপনে অন্য কাঠে আশ্রয় নেয়। ওপরে স্বর্ণলতা আর ভেতরে ঘুণপোকা। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে। সামনে মহাবিপদ।

লেখক : এম এ কবীর সাংবাদিক কলামিস্ট, গবেষক, সমাজ চিন্তক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ