আজ বৃহস্পতিবার,১৮ই আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২রা জুলাই ২০২০ ইং,বিকাল ৩:০৫

করোনায় সংকটের পর প্রাইভেট শিক্ষকদের মানবতার ঈদ

Print This Post Print This Post

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে খুশি। ঈদের আনন্দ- খুশিতে পারস্পারিক কোলাকুলি। তবে ঈদের আনন্দটা আরো মধুর করে নতুন পোশাকের পিচ। তবে বর্তমান চলমান পরিস্থিতিতে কোনটায় যেন নিজস্বে রূপে দেখা মিলছে না। একদিকে মহামারি করোনার থাবা, অন্যদিকে প্রলঙ্কায়ী ঘূর্ণিঝড় আম্ফান।কোন ভাবেই যেন দাঁড়ানো হয়ে উঠছেনা।তবুও দিন যায় রাত আসে। ভোরের সূর্য উকি মারে নতুন দিনের দিগন্ত পথে। নতুন করে বাঁচতে শেখায়, নতুন ভাবে ঢেলে সাজাতে।

চলমান আপোষহীন পরিস্থিতিতে অধিকাংশ কর্মজীবী মানুষই রয়েছে কর্মহীন হয়ে। কর্মহীন হলেও সরকারি ও বেসরকারি মানুষ গুলো বেতন বোনাস দিয়ে চলছে অবিরাম। দিনমজুর মানুষেরও টানাপোড়া থাকলেও চলে যাচ্ছে কোন রকমে। থেমে থেমেও হলেও পাচ্ছে সাহায্য সহযোগিতা।

তবে একটা শ্রেণির মানুষ রয়েছে। যারা কাগজে কলমে অবৈধ হলেও সমাজ, জাতি ও দেশ গঠনে রয়েছে অসামান্য ভূমিকা। তাদের অবদান কোনভাবেই অস্বীকার্য নয়। তারা হলেন-প্রাইভেট বা কোচিং সেন্টারের শিক্ষকবৃন্দ। পদমর্যাদায় একটু অন্ধঁকার জগতের হলেও জাতির শিক্ষার আলো জ্বালাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় প্রতিটি নক্ষত্রের সাথে তাদের রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। একজন শিক্ষার্থীকে খুব কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ ও তার মেধা পরিপূর্ণ বিকাশে তার এত ভূমিকা এতোটাই বা কম কিসে!

স্বীকৃতিপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানে কাজ করেই শুধু আদর্শ শিক্ষক হওয়া যায়, আদর্শবান বা বিদ্যার বিদ্যান লাভ করা যায়। এমনটা ভাবছেন তো।না! এখানে আদর্শ শিক্ষক বা আদর্শবান হওয়ার সুযোগ আছে। অঘোষিত স্বীকৃতি পেয়েছেন অনেকে। হয়তো পুরস্কার গ্রহণের মুহূর্তটা দেওয়ালের ফ্রেমে বাঁধাতে পারেননি।

কিন্তু বিপদজনক করোনা ভাইরাসে কেমন আছেন তারা? সে খবর ক’জনই বা রাখে। আর কিছু না থাক খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকার মত কিছু আছে তো বাসায়? না সরকারি বে-সরকারি সাহায্য সহযোগীতা পেয়েছেন? না কোথায় হাত পেতেছেন।নাকি চক্ষু লজ্জায় অনাহারে আছেন? না আত্মমানবতায় ফেলে আসা জীবন কাটিয়ে এবারো ঈদেও পৌছে গেছেন পরিবার পরিজন নিয়ে?

বড় বড় প্রাইভেট সেন্টারের শিক্ষক গুলো হয়তো আরো কয়েক মাস চলতে পারবে।তবে অন্যান্যদের তো আরো ক’দিন আগেই সে সক্ষমতা হারানোর কথা।

সাধারনতা এপথে কেউ আসে শখ করে, কেউবা জ্ঞানচর্চা করতে। আবার কেউ আসে দরিদ্র পরিবারের দারিদ্রতা কাটিয়ে নিজেকে শিক্ষার শেষ ধাপে পৌছাতে। আবার ছোট ভাই বোনদের সুন্দর জীবনে শিক্ষার আলো ধরে রাখতেও অনেকে আছেন এপেশায়।চমৎকার অভিজ্ঞতা আর মহৎ মহৎ মুহূর্ত যেন এপথে আসতে বাঁধ্য করে। তবে অনেকে আবার সবকিছু উপেক্ষা করে নিজেকে বিলিয়ে নিজের মত ডুপ্লিকেট তৈরির নেশাতেও এপথে আসেন,আছেন, থেকে যায় আজীবন। কেটে যায় টেনশন নিয়ে পেনশন বিহীন একজীবন।

তাহলে কি ভাবছেন আপনি? নতুন কোনো নাটক উপস্থাপনা করবেন পরিবারের কাছে। নতুন অভিনয়ের নায়ক হবেন নিজের কাছে। নাকি ভাবছেন ভিলেন হয়েও থাকবেন….?

🌙🌙ঈদ মোবারক🌙🌙

লেখক: মিজানুর রহমান নয়ন, একজন প্রাইভেট শিক্ষক ও সংবাদকর্মী।

এ জাতীয় আরো সংবাদ