আজ মঙ্গলবার,২২শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,৭ই ডিসেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,রাত ১১:২৬

কুমারখালীতে ফুটপাতে বৃদ্ধের পাশে দাঁড়ালো ইউএনও

Print This Post Print This Post

কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি :
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার ঝাউতলা নামক স্থানে এক নির্মাণাধীন দোকানে শীত ও কুয়াশা উপেক্ষা করে পড়ে আছে বয়োজ্যেষ্ঠ এক বৃদ্ধ। কেউ খাবার দিলে খায়, না দিলে না খেয়েই থাকেন তিনি।

এমন বেদনাদায়ক খবর পৌছে যায় মানবিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ( ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল পর্যন্ত। খবর পেয়ে বুধবার দুপুরে ওই বৃদ্ধের কাছে যান ইউএনও। তিনি বৃদ্ধের খোঁজ খবর নেন এবং প্রাথমিকভাবে তাঁকে খাদ্য ও শীতবস্ত্র সহায়তা দেন। এছাড়াও ইউএনও বৃদ্ধকে একটি নিরাপদ আশ্রায়ণের আশ্বস্ত দেন। এসময় উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাহমুদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

ওই বৃদ্ধের নাম ইমান আলী শেখ (৮৫)। তিনি সদকী ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের মৃত হাতিম আলী শেখের ছেলে। তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ও অনেকটা মানসিক ভারসাম্যহীন।

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ইমান আলী শেখের এক ছেলে ও মেয়ে ছিল। কর্মজীবনে তিনি একজন কৃষক ছিলেন। নিজের সামন্য কৃষিজমির পাশাপাশি অন্যের জমিতে কাজ করতেন। প্রায় ২০ বছর পূর্বে তাঁর জায়গা জমি বিক্রি করে নেন সন্তানেরা। কিন্তু সন্তানেরা তাঁর কোন দাঁয়িত্ব নেয়নি।

এরপর তিনি অসহায় হয়েছে চলে আসেন
ঈমান আলী পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড তেবাড়িয়া এলাকায় বোনের বাড়িতে চলে আসেন। বোনের বাড়িতে এক পরিত্যাক্ত টিনের ঘরে কোনমতে চলছিল জীবন। কিন্তু মেরামতের অভাবে বোনের বাড়ির ঘরটি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যায়। স্থান হওয়ায় ঝাউতলা এলাকার ফুটপাতে। শীতের কারণে ফুটপাত থেকে ওই এলাকার একটি নির্মাণাধীন দোকান ঘরেই কাটছে তাঁর দুঃখ দুর্দশার জীবন।

এবিষয়ে তাঁর বোনের ছেলে তেবাড়িয়া এলাকার মোঃ সাদেক(৫৫) বলেন, মামা প্রায় ২০ বছর আমাদের বাড়িতেই ছিল।আমারও ৫ জনের সংসার। একটি ছোট হোটেলে কাজ করি। নিজেরই চলেনা। তাছাড়াও মামা যে ঘরে থাকত, তা অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। মামার ছেলে মেয়েরদের কোন ঠিকানা জানিনা। তাই মামা এখন ফুটপাতেই থাকেন। আমি শুধু খাবার দিয়ে যায়। এলাকাবাসীও তাঁকে খাবার দেন।

তিনি আরো বলেন, আমার বাড়িতে জমি আছে। কেউ মাথা গুজার ঠাই নির্মাণ করে দিলে মামাকে আবার বাড়ি নিয়ে যেতাম।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মন্ডল বলেন, লোকমুখে শুনে বৃদ্ধের খোঁজ খবর নিয়েছি। প্রাথমিকভাবে ভাবে তাঁর স্বজনদের হাতে খাবার ও কম্বল দেওয়া হয়েছে। তাঁর একটা নিরাপদ আবাস্থল নির্মাণ করার পরিকল্পপনা চলছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ