আজ বুধবার,১২ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৮শে অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,ভোর ৫:৪৯

কোরাসবাজির জয় জয়াকার

Print This Post Print This Post

এম এ কবীর, সাংবাদিক :
চারিদিকে কোরাসবাজির জয় জয়াকার। কোরাস হচ্ছে নেতা নিয়ে। দূর্নীতি নিয়ে। কর্মসূচি নিয়ে। বিভক্তি নিয়ে। আলোচনা সর্বত্র । স্বামী-স্ত্রী,পিতা-পুত্র থেকে শুরু করে সমাজে কোথায় নেই বিভক্তি? যুক্তি-পাল্টা যুক্তি তো মুখে মুখে। ঝগড়া, ফ্যাসাদও লেগেই আছে। তর্ক-বিতর্ক হচ্ছে কথায় কথায়। এতে পরিবেশ বদলে যাচ্ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষের মন। চিন্তার পরিসরও।

নাসিরুদ্দিন হোজ্জার জন্ম তুরস্কে ত্রয়োদশ শতাব্দীর প্রথম ভাগে। নানা চরিত্রে ও পেশায় তাঁকে তাঁর কয়েক‘শ গল্পে হাজির হতে দেখা যায়। হোজ্জা এখন আর তুরস্কের নন,সারা বিশ্বের। ইউনেসকো তাঁর গল্পগুলোকে বিশ্বসাহিত্যিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি দিয়েছে। হোজ্জা অবশ্য একেক অঞ্চলে একেক নামে অভিহিত। যেমন উজবেকিস্তান ও চীনে তিনি আফেন্দি বা এফেন্দি। তাঁর গল্প কখনো নির্মল হাস্যকৌতুকে, কখনো বুদ্ধির ঝলকে, কখনোবা নৈতিক শিক্ষার দ্যুতিতে উজ্জ্বল। কখনো নিজেকে নিজেই ব্যঙ্গ করেছেন।

মানুষের জন্য ভালবাসা নেই। আছে যতটুকু তা প্রেমিকের জন্য, স্ত্রী-সন্তানের জন্য। পিতা-মাতার ঠাঁইও নেই সেখানে। জগৎ-সংসার মূখ্য না হয়ে মূখ্য হয়ে উঠেছে অন্য কিছু। এখানেও স্বার্থ। লোভ,লালসা মানুষকে ধ্বংস করে জানার পরও সবাই ছুটছে সেদিকে।

ছ’মাস আগেও শিশুদের হাতে মোবাইল ফোন বেমানান ছিল। ফোন ব্যবহারে অভিভাবকের ছিল কড়া নিষেধাজ্ঞা। করোনা পাল্টে দিয়েছে সেই প্রেক্ষাপট। ১৭ মার্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ায় অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অনলাইনে ভিডিও ক্লাস আপলোড করছে। ফলে বইয়ের পরিবর্তে যুক্তিসঙ্গত কারণেই শিক্ষার্থীর হাতে শোভা পাচ্ছে স্মার্টফোন। ডিজিটাল ক্লাসের জন্য ডিজিটাল ডিভাইস থাকাটাই স্বাভাবিক। এই মুহূর্তে অনলাইন বা টিভিতে ক্লাস পাওয়াটাও কম কিসের ? এতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হচ্ছে।

সহজে আসক্ত করায় শিশুদের মোবাইল ফোন চালানো নিষিদ্ধ ছিল। সেই স্মার্টফোন শিশুরা কীভাবে ব্যবহার করছে ? বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা মোবাইল ফোনের সঠিক ব্যবহার বুঝলেও মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের ফোন বা অনলাইন সম্পর্কে কতটুকু ধারণা আছে? স্মার্টফোন হাতে পেয়ে অপব্যবহার করছে না তো ? যদি ফোনের অপব্যবহার হয় সে ক্ষেত্রে উদ্দেশ্য পন্ড হয়ে ক্ষতির পাল্লাটাই ভারী হবে।
যাদের দুটি ছেলেসন্তান আছে তাদের একজনকে স্কুলে অন্যজনকে মাদ্রাসায় পাঠানো হয়। দেখা যায় অনেক দম্পতির ছেলেসন্তান হচ্ছে না। তারা মানত করে তাদের ছেলেসন্তান হলে হাফেজ বানাবে। আবার অনেকে তিন-চারজন কন্যাসন্তান হওয়ার পর একটা ছেলেসন্তানের জন্ম হয়। তারাও ভেবে থাকে তাকে মাদ্রাসায় পড়াবেন। তাঁরা নিয়ত সঠিক না রেখেই বাচ্চাদের কোরআন শিখতে মক্তব বা হিফজখানায় পাঠাচ্ছেন।

কোরআন শিক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে বিভিন্ন পর্যায়ে বাচ্চাদের কোরআন শেখানো হয়। মক্তবে। নূরানি মাদ্রাসায়। অথবা যারা কোরআন শরিফ মুখস্থ-আত্মস্থ বা কণ্ঠস্থ করতে আগ্রহী তাদের জন্য হিফজখানা। এই কোরআন মাজিদ হিফজ করানোর প্রক্রিয়ার মধ্যে বাচ্চারা অনেক সময় শিখতে চায় না। বাসায় চলে আসে। পলায়ন করে কিংবা শিক্ষকদের জোর-জুলুমের শিকার হয়ে।

চোখের সামনে দেখছে কোটি কোটি টাকার সম্পদ রেখে মানুষকে কবরে যেতে হচ্ছে শূন্য হাতে। তারপরও কেন অর্থের লোভ ছাড়তে পারছে না মানুষ। এর পেছনে কাজ করছে কে? শয়তান ? হয়তো তাই। এই শয়তানের হাত থেকে বাঁচার উপায়ও তো আছে। তারপরও কেন আমরা ছুটছি শয়তানের পেছনে? কেন বিবেককে জিজ্ঞেস করে পথ চলি না? পৃথিবী সৃষ্টির পেছনেও নাকি শয়তান কাজ করেছে? বেহেশতে আদম আর হাওয়া তো সুখেই ছিলেন। মহাসুখে। এটা শয়তানের ভাল লাগেনি। তাই সৃষ্টিকর্তার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে তারা শয়তানের পাল্লায় পড়ে গন্দম ফল খেলেন। যার পরিণতিতে তাদের বেহেশত ছাড়া হতে হয়। এই শয়তান এখনও মানুষের পেছনে লেগে আছে। যে মানুষের মাধ্যমে শয়তানি কাজ করায়। এ সময় বিবেক মজবুত হলে শয়তান পরাস্ত হয়। না হলে শয়তানের জয় হয়। আবার ক্ষমতা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। এ অন্ধত্বের সুযোগও নেয় শয়তান।

একসময় চিকিৎসক হিসেবে নাসিরুদ্দিনের বেশ সুনাম ছিল। একদিন গ্রামের জমিদার এলেন তাঁর কাছে। বললেন,‘বড় মুটিয়ে যাচ্ছি নাসিরুদ্দিন,মেদ কমাতে চাই। একটু ওষুধ দাও।

নাসিরুদ্দিন অনেকক্ষণ ধরে তাঁর দিকে তাকিয়ে থেকে বললেন,‘ওষুধ আমি দেব না। দিন আপনার ফুরিয়ে এসেছে। দিন পনেরোর মধ্যেই আপনি মারা যাবেন।’
ভয়ে-ভাবনায় জমিদার টলতে টলতে বাড়ি ফিরে বিছানায় শুয়ে পড়লেন। খাবারে তাঁর রুচি নেই। চা অত ভালোবাসতেন, সেই চা-ও আর ভালো লাগে না। ঘুম আসে না। চোখে সামান্য একটু তন্দ্রামতো এলেও ক্ষণে ক্ষণে চমকে ওঠেন দুঃস্বপ্নে।

মেমসাহেব-ইয়ার-বন্ধুপরিবৃত হয়ে আড্ডা মারা, গল্পগুজব করাতেও তাঁর আর অভিরুচি নেই। তাড়াতাড়ি হারিয়ে গেল সেই উজ্জ্বল দিনগুলো! দেহখানা শুকিয়ে প্রায় কাঠ। পনেরোটা দিন কাটিয়ে, বিপদসীমা অতিক্রম করে জমিদার এলেন নাসিরুদ্দিনের কাছে। বললেন, ‘এদিকে আয় ব্যাটা হাতুড়ে ডাক্তার,দ্যাখ,বহাল তবিয়তে আমি তোর সামনে এসে দাঁড়িয়েছি। পনেরো দিন পরে আপনি মারা যাবেন, কী আমার গণক ঠাকুর রে!’
নাসিরুদ্দিন বললেন,‘রাগ করবেন না,জমিদার হুজুর। নিজের শরীরের দিকে চেয়ে দেখুন। রোগা হতে চেয়েছিলেন,রোগা করে দিয়েছি। এখন চিকিৎসাবাবদ পারিশ্রমিকের টাকাটা দিয়ে দিন।’

যুগে যুগে ক্ষমতাবানদের কাছে পছন্দের ছিল কোরাসবাজরা। যারা ক্ষমতাবানদের সব কাজের কোরাস গাইতেন। এখনও গাইছেন। জি হুজুর নামের এ কোরাসবাজদের দাপট সবখানে। ভালো করলেও ভালো, চরম খারাপ হলেও তারা কোরাস ধরেন- ভালো হয়েছে সব ভালো। আর ক্ষমতাবানরাও কোরাসবাজদের এ কোরাস শুনতে ভালোবাসেন। সবার আগে তাই কোরাসবাজ থেকে সাবধান থাকতে হবে সবাইকে। তাহলেই হয়তো অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারবেন সবাই।

বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, ১৪ থেকে ২৪ বছর বয়সিরা দ্রুত ইন্টারনেটে আসক্ত হয়। সঙ্গত কারণে এই ধাপের শিশুরা মোবাইল ফোন হাতে পাচ্ছে। যুক্তরাজ্যে এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ১৩-১৭ বছর বয়সি অর্ধেকের বেশি শিশু সপ্তাহে ৩০ ঘণ্টার অধিক সময় ব্যয় করে ভিডিও গেমস, কম্পিউটার, ই-রিডার্স, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য স্ক্রিনভিত্তিক প্রযুক্তির পেছনে। করোনাকালে সেই ব্যবহার বেড়েছে দ্বিগুণ।
অন্য একটি গবেষণা প্রতিবেদন বলছে, বর্তমানে পৃথিবীতে ২২০ কোটি মানুষ ভিডিও গেম খেলে। এদের অধিকাংশই অল্প বয়সি। যার বদৌলতে গ্লোবাল ভিডিও গেম বাজারের আর্থিক মূল্য দাঁড়িয়েছে ১০৮.৯০ মিলিয়ন ডলার। স্মার্টফোন ও ট্যাবলেটে গেমিং প্রতিবছর ১৯ শতাংশ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাবজি অর্থাৎ প্লেয়ার্স আননোন ব্যাটেল গ্রাউন্ড! বর্তমান জনপ্রিয় অনলাইন গেম।
সরকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মারধর নিষিদ্ধ করেছেন। তারপরও কিছু একগুঁয়ে গার্ডিয়ানদের জন্যই সব বিপত্তি বাধে। তাদের বাচ্চার সঠিক জ্ঞান-মেধা না থাকা সত্ত্বেও বাচ্চাদের জোর করে হিফজখানায় ভর্তি করে। আর টিচারদের বলে থাকে, রক্ত-মাংস আপনার আর হাড্ডি আমার। এরপর টিচার যখন মারেন অভিভাবকই রেগেমেগে হাঙ্গামা সৃষ্টি করে।
কোরাস নিয়ে লিখতে গিয়ে একটি গল্প মনে পড়ে গেল- গ্রামের কিছু লোক গেছে বাজারে। গ্রাম থেকে বেশ ক’মাইল দূরে বাজার। যেতে হয় নৌকায়। সেদিন বাজার করতে করতে তাদের সন্ধ্যা হয়ে গেছে। নৌকায় করে একসঙ্গে রওনা দিয়েছেন তারা। মাঝ নদীতে যাওয়ার পর নৌকাটি ডাকাত দল ঘিরে ফেলে। ডাকাতরা বলে, এ-ই নৌকা থামাও। এ নৌকায় গ্রামের এক বয়স্ক লোক ছিলেন। তিনি মনে মনে বললেন, আমাদের সব শেষ। এখন কি করা? শেষ পর্যন্ত কিছু একটা করা যায় কিনা ভাবতে লাগলেন। হঠাৎ তিনি দাঁড়ালেন। ডাকাতদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ভাইয়েরা আমার, তোমরা আমাদের কাছে যা আছে সবই নিয়ে যাও। কিন্তু এর আগে আমার একটা কথা শুনতে হবে তোমাদের। ডাকাত সর্দার বললো- তোমার আবার কি কথা? লোকটি বললেন, আমার বড় শখ হয়েছে একটি কোরাস গাওয়ার। ডাকাত সর্দার বললো, তাহলে শোনাও তোমার কোরাস। এ ফাঁকে গ্রামের লোকটি ডাকাত ক’জন আছে গুণে নিয়েছেন। দেখে ডাকাতের চেয়ে তারা সংখ্যায় একজন বেশি। তবে ডাকাত দলে একজন মোটা আছে। বৃদ্ধ কোরাস ধরলেন- এই জনকা জন ধর, মোটকারে দুই জনে ধর। কোরাস শোনার সঙ্গে সঙ্গে নৌকার লোকজন ডাকাত দলের উপর আক্রমণ করে বসে। আর যায় কোথায় ? ডাকাত দল পরাস্ত হয়।

পৃথিবীতে প্রতিমাসে ২২৭ মিলিয়ন মানুষ গেম খেলে। আর প্রতিদিন খেলে ৮৭ মিলিয়ন মানুষ। বাংলাদেশেও প্রতিদিন এ গেম খেলছেন ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ! ভারতের গুজরাট হাইকোর্ট সম্প্রতি জনসম্মুখে পাবজি গেম খেলা নিষিদ্ধ করেছে। নেপাল, ইরাক ও জর্ডানেও নিষিদ্ধ। ইতোপূর্বে ক্ল্যাশ অব ক্ল্যান, মনস্টার হান্টার ওয়ার্ল্ড, ডটা টু, ভাইস সিটি এবং হাঙ্গার গেমসহ অসংখ্য গেমে আসক্তি বাড়ছে। বিশ^ স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবি¬উএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে, ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরনের মানসিক রোগ। ২০১৩ সালে আমেরিকান সাইকিয়াট্রিক অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত মানসিক রোগ নির্ণয় বিষয়ক গাইডলাইনে (ডিএসএম-৫) বিষয়টিকে ‘ইন্টারনেট গেমিং ডিজঅর্ডার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

অনেক সময় পরিলক্ষিত হয়েছে হিফজখানার টিচাররা ছোট বাচ্চাদের ওপর বেশিই অত্যাচার করেছেন। যা টোটালি ক্রাইম। কিছুদিন আগে একটি ভাইরাল ভিডিওতে দেখা গেছে একজন শিক্ষক তার ছাত্রকে বেদম মার মেরেছেন। যা কখনো একজন কোরআনের শিক্ষক থেকে কাম্য নয়। শুধু কোরআন শরিফ মুখস্থ করলেই হবে না। কোরআনের ধারক-বাহক হতে হবে। কোরআনের আলোয় আলোকিত হতে হবে।

পরে ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করা হয়। একটি বদ ধারণা আছে,যারা কোরআন মুখস্থ করে তাদের রেগুলার বেত্রাঘাত না করলে মনে হয়,হাফেজ হবে না। যারা ভেবে থাকেন বাচ্চাদের মারধর করেই হাফেজ বানাতে হবে তাদের ধারণাটি ভুল। যাদের মেধা আছে তারা পুরো কোরআন শরিফ মুখস্থ করবে। যাদের কম মেধা তাদের নূরানি মাদ্রাসায় পড়ান। অন্তত কোরআন সহীহভাবে পড়া শিখুক। বাচ্চাদের মেরে হাফেজ বানানোর কালচার থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এত অমানবিক নিষ্ঠুর হলে বাচ্চারা মানসিক রোগী হয়ে যাবে। এর দায়ভার কে নেবে। যারা এমন করছেন,তারা নীরবে ইসলামের- কোরআনের কত ক্ষতি করেছেন জানেন না। আপনাদের নিন্দনীয় কর্মকান্ড দেখে নানান মানুষ নানান সুরে কথা বলার সুযোগ পায়। যারা কোরআনের শিক্ষক আপনারা মানবিক হোন। বাচ্চা কোরআন শিখতে অপারগ হলে গার্ডিয়ান ডেকে বাসায় পাঠানোর ব্যবস্থা করুন। আর গার্ডিয়ানরা সচেতন হোন আপনার আদরের বাচ্চার ব্যাপারে। তারা কোনোভাবে মানসিক-শারীরিক অশান্তিতে ভুগছে কিনা তার খোঁজখবর রাখুন। পৃথিবী হোক কোরআনের আলোয় আলোকিত।

জার্মানির পশ্চিমের একটি শহরে আজান দেয়া নিষিদ্ধ করেছিল একটি আদালত। উচ্চ আদালত সেই রায় নাকচ করে দিয়েছে। মসজিদে আজান ধর্মীয় অধিকার। রাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। এই অধিকার অন্য ধর্মের অধিকারেও হস্তক্ষেপ করে না। জানিয়ে দিল জার্মানির আদালত। খবর ডয়েচে ভেলের। ২০১৮ সাল থেকে সেখানে আজান নিষিদ্ধ হয়েছিল। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০ ইং) জার্মানির ওই আদালত জানিয়ে দিয়েছে,সপ্তাহে একদিন যে ভাবে সেখানে আজান দেয়া হতো, তা আগের মতোই করা যাবে।

জার্মানির শহর মুনস্টার। ২০১৮ সাল নাগাদ সেখানে এক ক্রিস্টান দম্পতি আদালতের দ্বারস্থ হন। তাঁদের অভিযোগ ছিল, বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দূরে একটি মসজিদ আছে। সেখানে সপ্তাহে একদিন আজান দেয়া হতো। যা এক কিলোমিটার দূর থেকে শোনা যেত। তারা ক্রিস্টান,ওই আজানের শব্দ তাদের ধর্মীয় অধিকারে হস্তক্ষেপ করে। ওই দম্পতির আইনজীবী আদালতে বলেছিলেন,চার্চের ঘণ্টার সঙ্গে মসজিদের আজানের তুলনা চলে না। কারণ, ঘণ্টায় কোনও ধর্মীয় শব্দ থাকে না। কিন্তু আজানে ধর্মীয় বাক্য থাকে। ফলে যে অমুসলিমদের কানে সেই শব্দ পৌঁছাচ্ছে, তারা তা শুনতে নাও চাইতে পারেন। ২০১৮ সালে নিম্ন আদালত ওই অভিযোগের ভিত্তিতে রায় দিয়েছিল মসজিদে লাউড স্পিকারে আজান দেয়া যাবে না। সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে স্থানীয় মুসলিম সংগঠন উচ্চ আদালতে গিয়েছিল। বুধবার উচ্চ আদালত জানিয়েছে, আজান দেয়া অন্যের ধর্মীয় অধিকারে কখনোই হস্তক্ষেপ হতে পারে না। ফলে সপ্তাহে একদিন মসজিদে আজান দেয়া হতেই পারে। শুধু তাই নয়, আগে ওই মসজিদে সপ্তাহে একদিন ২ মিনিট ধরে আজান দেয়া হতো। আদালত জানিয়েছে, ১৫ মিনিট ধরে সেখানে আজান দেয়া যাবে।

ধর্মীয় অধিকারের স্পষ্ট ব্যাখ্যাও দিয়েছে আদালত। বলা হয়েছে, অন্যের ধর্মের আচারের সংস্পর্শে আসা কখনো নিজের ধর্মে হস্তক্ষেপ হতে পারে না। ফলে ওই ক্রিস্টান দম্পতির অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
তাই বলি কোরাস যদি এমন হয়, তাহলে রক্ষা পাওয়া সম্ভব। আর যদি হয় তাল মেলানো, তাহলে যা হওয়ার তা-ই হবে। সব খুইয়ে শূন্য হাতে ঘরে ফিরতে হবে।

লেখক : এম এ কবীর, সাংবাদিক, কলামিস্ট,
গবেষক, সমাজচিন্তক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ