আজ শুক্রবার,৩রা বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,১৬ই এপ্রিল ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৮:২৯

খাবারের ত্রুটি এড়িয়ে চলুন

Print This Post Print This Post

ইসলামী ডেস্ক :
খাবার খাওয়ার সময় কোনো প্রকার দোষ-ত্রুটি ধরা বাদে খাবার শেষ করা বা খাবার ভালো না লাগলে রেখে দেওয়া সুন্নাত। এ সুন্নাত টা আমাদের মাঝ থেকে আজ বিলুপ্তের পথে ।

দেখুন!
আপনি যদি মনে করেন যে, খাবারে দোষ-ত্রুটি ধরবেন না রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাত টা পালন করবেন। তাহলে ইচ্ছা করলেই আপনি পারবেন।

আপনার মা,অথবা স্ত্রী বা বোন, ভাবি চাই যে কেউ-ই রান্না করুক না কেন তারা তাদের সেরাটা দিয়েই রান্না করেন। তারা আপ্রাণ চেষ্টা করেন যে, কিভাবে রান্নাটাকে সুস্বাদু করা যায়। তারপরেও তরকারিতে একটু ঝাল, লবণ কম বেশি হতেই পারে এটা স্বাভাবিক, অস্বাভাবিক নয়। তাই বলে আপনি তাদের যেটা খুশি সেটা বলবেন তা কিন্তু একদম ঠিক নয়।

রান্না করা এ কাজটা একেবারে সহজ নয়। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে কয়েকদিন রান্না করে দেখতে পারেন; তাই যারা রান্না করে তাদের ভুলত্রুটি ধরা বাদ দিয়ে যতদূর সম্ভব হয় তাদের রান্নার কাজে সাহায্য করুন। এতে তাদেরও সুবিধা হবে। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিবারের বিভিন্ন কাজে তিনি সাহায্য করতেন।

হাদিসে এসেছে:
“তিনি (রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) ঘরের কাজে-কর্মে ব্যস্ত থাকতেন ( পরিবারবর্গের কাজে সহায়তা করতেন) আর সালাতের সময় হলে সালাতের জন্য চলে যেতেন(১)

রান্না খারাপ হোক ভালো হোক সর্বদা প্রশংসা করার চেষ্টা করুন। এতে করে কি হবে জানেন? আপনার স্ত্রী আপনার জন্য আরো ভালো করে রান্না করার চেষ্টা করবে। অনেকে তরকারিতে সামান্য একটু লবণ বেশি হওয়াকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর শরীরে হাত তুলতে পর্যন্ত দ্বিধা করেন না।

রান্নার ক্ষেত্রে নববধূদেরকে যথেষ্ট ছাড় দেবার চেষ্টা করুন।কেননা আপনার বাড়িতে আসার আগে সে একজন রাজকন্যা ছিল। তাকে হয়তো কোনোদিন রান্নাঘরে প্রবেশ করা লাগেনি;অথচ আপনার বাড়িতে এসে তাকে কমপক্ষে তিনবেলা রান্নাঘরে যেতে হচ্ছে। আপনি যদি তাকে সাপোর্ট দিয়ে সহযোগিতা না করেন তাহলে কে করবে?

চলুন!

আজ থেকে আমরা চেষ্টা করি খাবারের দোষ এড়িয়ে চলব ইনশাআল্লাহ। খাবার সামনে এলে পছন্দ হলে খাব আর পছন্দ না হলে রেখে দেব। কারণ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমনটিই করতেন।

“রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কখনো কোনো খাবারের দোষ-ত্রুটি প্রকাশ করেননি। ভাল লাগলে তিনি খেতেন এবং খারাপ লাগলে রেখে দিতেন”(২)

আল্লাহ তায়ালা আমার নিজের ও আপনাদের আমল করার তাওফিক দিন। (আমীন)

ফুটনোট

(১) সহীহ বুখারী ৬৭৬
(২) সহীহ বুখারী ৫৪০৯

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ