আজ বৃহস্পতিবার,১৪ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৯শে জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৭:২৯

গান বাজনা বর্জন করুন

Print This Post Print This Post

ইসলামী ডেস্ক :
বর্তমান যুব সমাজের মাঝে অনেকগুলো সমস্য পরিলক্ষিত হয়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সমস্য হলো গান বাজনা শোনা। এটা কেবল যুব সমাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, ছোট বাচ্চা থেকে শুরু করে দাড়ি পাকা অনেক বৃদ্ধও এই হারাম কাজে জড়িত।
এদের মধ্যে কেউ গান শোনে মনের সুখে কেউ বা দুঃখে আবার অনেকেই শোনেন সময় কাটানোর মানসে।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা ইরশাদ করেছেন-
“মানুষের মাঝে কেউ কেউ এমন আছে, যে আল্লাহর পথ থেকে গোমরাহ করার জন্য অসার কথা খরিদ করে।(১)

আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাযি. আল্লাহর কসম করে বলতেন যে,উক্ত আয়াতে ‘অসার কথা’ বলে গানকে বোঝানো হয়েছে। (২)

অপর এক হাদিসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন- ” অবশ্যই এই উম্মতের মধ্যে ভূমিধস,শারীরিক অবয়ব বিকৃতি ও
পাথর বর্ষণের শাস্তি নিপতিত হবে। তখন মুসলমানের মধ্যে এক ব্যক্তি জিজ্ঞাসা করল,ইয়া রাসূলাল্লাহ! তা কবে হবে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: এসব, তখনই ঘটবে, যখন তারা মদপান শুরু করবে, গায়িকা রাখবে ও বাদ্যযন্ত্র বাজাবে। (৩)

ধর্ষণের হার দিন দিন বৃদ্ধির পিছনে গানের ভূমিকাও কোনো অংশে কম না। গানের মধ্যে নায়ক-নায়িকাদের কাল্পনিক অভিনয়গুলোকে বাস্তবে রূপ দিতে গিয়ে অনেকেই যিনা-ব্যাভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়েন।

আবার অনেকেই আছেন যারা মন খারাপের সময় আল্লাহ তায়ালার নিকট সাহায্য প্রার্থনা বা ধৈর্যধারন না করে, গান শোনেন মন ভালো করার জন্য। আদৌ কি মন ভালো হয়, না মন খারাপ থেকেই যায়? মনে রাখবেন হারামে কোনো আরাম নেই। হয়তো আপনাকে তা সাময়িক একটু শান্তি দিতে পারে। কিন্তু পরবর্তীতে শুধু অনুতপ্ত হতে হবে।

আবার নতুন করে আরো একটি নতুন সিস্টেম যোগ হয়েছে তা হলো গাঁয়ে হলুদ,বিয়ে,সুন্নাতে খৎনা, কিংবা কোনো অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাউন্ড বক্স ভাড়া করে এনে পাঁচ/সাত দিন ডিজে গান বাজানো। এর দ্বারা আপনি অসংখ্য ভালো মানুষের ইবাদতে বিঘ্ন সৃষ্টি করছেন। শিশু-বৃদ্ধ বা সাধারন মানুষের আরামকে হারাম করে দিচ্ছেন সাউন্ড বক্সের আওয়াজে। মনে রাখবেন এর জনও আপনাকে মহান রবের দরবারে জবাব দিতে হবে; আছে কি কোনো উত্তর, যা আপনার রবের নিকট পেশ করবেন?

চলুন!
আজ থেকে মেমোরি কার্ড-ফোনের সমস্ত গান এক ক্লিকে রিমুভ করে দিই। সাউন্ড বক্স ভাড়া করে এনে ডিজি বাজানো চিরতরে বন্ধ করে দিই। গান-বাজনার বিকল্প কুরআনুল কারীমের তেলাওয়াত, ইসলামী সংগীত শুনতে অভ্যস্ত হই।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের গান-বাজনা পরিত্যাগ করার তাওফিক দিন।( আমীন)

ফুটনোট

(১) সূরা লুকমান,আয়াত:৬
(২) তাফসীরে ইবনে কাসীর ৬/৩৩৩
(৩) আস সিলসিলাতুস সহীহাহ, হাদীস নং ২২০৩, সুনানে তিরমিযী
হাদীস নং ২২১২

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ