আজ বৃহস্পতিবার,১৪ই শ্রাবণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৯শে জুলাই ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৮:১৩

জিলহজ্জ মাসের ফযিলাত

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামি ডেস্ক :
আরবী বারোটি মাসের সর্বশেষ মাস পবিত্র জিলহাজ্ব মাস। এ মাসের অনেক ফযিলাতের কথা আমরা কুরআন-হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি। এই মাসের মধ্যে রয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। পবিত্র কুরবানিও এ মাসের মধ্যে। আরো রয়েছে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হজ্ব। যেটা কিছু শর্তের ভিত্তিতে একজন মুসলিমের উপর ফরজ করা হয়েছে। বিশেষ করে জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশকের ইবাদতের ব্যাপারে অনেক ফযিলাতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র জিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখার পর জিলহাজ্ব মাসের আমলসমূহ :

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনে নেক আমল করার মতো অধিক প্রিয় আর কোনো আমল আল্লাহর কাছে নাই।

(১) যারা কুরবানি করবে তাদের নখ-চুল না কাটা, যারা করবে না তারাও এটা পালন করা মুস্তাহাব। জিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখার পর হতে কুরবানির পশু জবাই না করা পযর্ন্ত নখ-চুল/লোম এসব কাটা যাবে না।

(২) জিলহজ্ব মাসের প্রথম ০৯ দিন সিয়াম পালন করা।

(৩) জিলহজ্ব মাসের ১-১০ তারিখ পর্যন্ত বেশি বেশি ইবাদত করা, বিশেষ করে রাতগুলোতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে দোয়া করা।

(৪) বিশেষ করে আরাফার দিন অর্থাৎ ৯ই জিলহজ্ব সিয়াম পালন করা।(এটার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব এসেছে হাদিসে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: যে ব্যাক্তি আরাফার দিন রোযা রাখবে তার বিগত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

(৫) তাকবিরে তাশরীক পড়া। ০৯ই জিলহজ্ব ফযর হতে ১৩ই জিলহজ্ব আসর পযর্ন্ত প্রত্যেক নামাযের পর একবার তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

তাশরিক: আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ। পুরুষরা উচ্চ আওয়াজে এবং নারীরা নিম্ন আওয়াজে পড়বে।

(৬) ১০ই জিলহজ্ব কুররবানি করা।১০ তারিখ সম্ভব না হলে ১১,ও ১২ই জিলহজ্ব করা।

(৭) ঈদের দিন ঈদুল আযহার সালাত আদায় করা।

(৮) ঈদ ও আইয়্যামে তাশরীকে সিয়াম পালন না করা।মানে ১০,১১,১২,ও ১৩ই জিলহজ্ব রোযা রাখা হারাম।

(৯) আরবি মাসের প্রতি ১৩,১৪,১৫ তারিখ আইয়্যামে বীজের রোযা রাখার নির্দেশ আছে, কিন্তু জিলহজ্ব মাসে সেটা ১৪,১৫,১৬ তারিখ রাখতে হবে, কারণ জিলহজ্ব মাসের ১৩ তারিখ রোযা রাখা যাবেনা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দিন। (আমীন)

রেফারেন্সসমূহ :

(১) সহিহ বুখারি-৯৬৯
(২) ইবনে মাজাহ -৩১৪৯
(৩) তিরমিযি -৭৫৮
(৪) সহিহ বুখারি-৯২৬
(৫) সহিহ মুসলিম -১১৬২
(৬) ফাতওয়ায়ে শামী-৬১ ইলাউস সুনান-১৪৮
(৭) সুনানে নাসাঈ-১০৫১২,তিরমিযি-১৪৯৩
(৮) ইবনে মাজাহ-১২৭৭
(৯) সহিহ বুখারি-১৯৯৭

লেখক : মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ

এ জাতীয় আরো সংবাদ