আজ শুক্রবার,২৩শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৭ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৩:০৮

দিবে আর নিবে, মিলাবে মিলিবে যাবে না, ফিরে সেটা আর হবে না

Print This Post Print This Post

রাত যত বাড়ত। বীভৎস উল্লাস ততই বাড়ত। জমিদার ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের। নানা রকম খাবার ছুড়তে ছুড়তে এক সময় আসত সেই ভয়ঙ্করক্ষণ। যখন ‘তুরুপের শেষ তাস’টি ব্যবহার করতেন শিউনন্দন।
অখন্ড ভারতে এক কালে এক জমিদার ছিলেন। নাম শিউনন্দন সিংহ। ডালটনগঞ্জ ও পালামুঁর মাঝামাঝি এক তালুকের সর্বেসর্বা ছিলেন তিনি। তার প্রকান্ড প্রাসাদে ছিল বিরাট এক পুকুর। সেই পুকুরে তিনি পুষতেন দুটি কুমির।

কিংবদন্তি আছে। সারা সপ্তাহ উপোষ রাখা হতো কুমির দুটিকে। খিদের জ্বালায় ছটফট করত হিংস্র ওই প্রাণীগুলো। প্রতি শনিবার বিকেলে দোতলার ব্যালকনিতে এসে আয়েশ করে বসতেন জমিদার। পাশে থাকত তার অনুচরেরা।

সেদিনই শুধু খাবার জুটত কুমিরের মুখে। মোরগ। খরগোশ থেকে শুরু ছোট ছাগল পুকুরে ছুড়ে দিতেন জমিদার। ক্ষুধার্ত কুমিরগুলো হামলে পড়ত খাবারের ওপর। আর তা দেখেই পুলক হতো জমিদারের।
কুমিরের মুখে সপ্তাহের শেষ খাবার হিসেবে ছুড়ে দিতেন কোমলমতি শিশুদের! বিহারের সেই জমিদারের পৈশাচিক এই ‘রেওয়াজে’র খবর ওই অঞ্চলের মানুষের মুখে মুখে। এখনো ওখানকার নারীরা দুধের শিশুদের ঘুম পাড়ান শিউনন্দনের ভয় দেখিয়ে!

ভারতীয় তথ্যচিত্র নির্মাতা সৌমিত্র ঘোষ দস্তিদার এ গল্পের খোঁজ পেয়েছেন এক মাওবাদী গেরিলার সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে। পরে এক সাংবাদিকের কাছেও শুনেছেন ভয়ঙ্কর শিউনন্দনের আখ্যান। তথ্যচিত্র নির্মাণের রসদ খুঁজতে সেই জমিদার বাড়িতে হাজিরও হয়েছিলেন সৌমিত্র। স্বভাবতই সেই জৌলুস আর নেই। বরং পরিণত হয়েছে ধ্বংসস্তুপে।

ইতিহাস বলে, জমিদারের হাতে নিপীড়িত অধিবাসীরা সংগঠিত হয়ে একদিন জমিদার বাড়িটি গুঁড়িয়ে দিয়েছিল। কুমির দুটির ভাগ্যে কী ঘটেছিল, সে কথা জানা যায়নি।

ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ওলিকে নিয়ে ‘ভিত্তিহীন’ ও ‘অপমানজনক’ সংবাদ প্রচারের জেরে আইনি ও রাজনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয় নেপাল সরকারের মুখপাত্র যুবরাজ খতিওয়াদা। এর কয়েক ঘণ্টা পরেই দূরদর্শন ছাড়া বেশ কিছু ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করে দেয়া হয়।

নেপালের প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলিকে অসম্মান করে দেশটির ‘জাতীয় অনুভূতি’তে আঘাত হানা হয়েছে- এমন অভিযোগে নেপালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বেশ কিছু ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার।
নেপালি সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট এ খবর দিয়েছে।

যদিও নেপাল সরকার বলছে, তাদের এখতিয়ার থাকলেও এখন পর্যন্ত এ ধরনের কোনও নির্দেশনা দেয়া হয়নি। দেশটির ক্যাবল অপারেটররা স্বপ্রণোদিত হয়ে নিজেরাই ভারতীয় চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দিয়েছেন।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদ চ্যানেল জি নিউজে নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশটিতে নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত হৌ ইয়ানকির সম্পর্কের বিষয়ে চাঞ্চল্যকর খবর প্রচার করা হয়েছে।

চ্যানেলটি কোনও ধরনের প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই ১৫ মিনিটের বেশি সময় ধরে নানা ভিত্তিহীন অভিযোগ প্রচার করেছে। স্থানীয় ক্যাবল টিভি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দিনেশ সুবেদি। গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘দেশপ্রেমের তাগিদে আমরা বেশ কিছু ভারতীয় সংবাদ চ্যানেলের প্রচার বন্ধ করে দিয়েছি। শুধুমাত্র দূরদর্শন চ্যানেলটির সম্প্রচার চলছে। সরকারের কোনও নির্দেশনা নয়, ক্যাবল অপারেটরদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত অনুসারেই এসব চ্যানেল বন্ধ করা হয়েছে।

নব্বইয়ের দশকের শেষ দিকে আমাদের মিডিয়া জগতের একটা বড় অর্জন হলো বেসরকারি খাতে কেবল টেলিভিশন বা ‘স্যাটেলাইট টিভি’। গঠনমূলক। সুদূরপ্রসারী চিন্তা যে দেশে ইতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, এটা তার প্রমাণ।

বাংলাদেশের বেসরকারি টেলিভিশনের কর্মীরা ‘ব্রডকাস্টার নেটওয়ার্ক, বাংলাদেশ’ নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছেন। ‘সুরক্ষিত করা হোক বেসরকারি টেলিভিশন খাত’ শিরোনামে তাঁদের প্রচারপত্রে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বেসরকারি টেলিভিশন খাতের প্রধান হুমকি হচ্ছে ভারতীয় স্যাটেলাইট টেলিভিশনের আগ্রাসন।’ তাঁদের মতে, ‘দিনরাত ভারতীয় টিভির অনুষ্ঠান দেখে আমাদের সমাজে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তাই দেশে ভারতীয় চ্যানেল প্রদর্শন সীমিত হওয়া উচিত।’
‘ব্রডকাস্টার নেটওয়ার্ক’ ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে প্রদর্শন না করে কেবল অপারেটরদের আরও সামাজিক দায়বদ্ধতার পরিচয় দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের বক্তব্যের পক্ষে ও বিপক্ষে অনেক যুক্তি রয়েছে। শিল্প। সাহিত্য। সংস্কৃতি। গণমাধ্যম। পৃথিবীর কোথাও সীমানা মানেনি।

একসময় কথা উঠেছিল, ভারতীয় বই বাজারে থাকলে বাংলাদেশের বই বিক্রি হবে না। বাস্তবে তা হয়নি।
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়। সমরেশ মজুমদার। শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের উপন্যাস বাজারে থাকা সত্ত্বেও সৈয়দ শামসুল হক। হুমায়ূন আহমেদ। ইমদাদুল হক মিলন। আনিসুল হকের বই পাঠকেরা আগ্রহ নিয়ে কিনেছেন। পড়েছেন। কলকাতার জনপ্রিয় লেখকেরা বই বিক্রিতে কোনো বাধা হননি। কারণ বাংলাদেশের বইগুলো ভালো বলেই বিক্রি হয়। কাজেই ভালো হওয়াটাই আসল কথা।

বাংলাদেশের সিনেমাকে প্রটেকশন দিতে গিয়ে সিনেমার কী দুরবস্থা হয়েছে। তা দর্শক ভালো জানেন। পাকিস্তান আমলে উর্দু ছবি। বোম্বের হিন্দি ছবি। কলকাতার সূচিত্রা-উত্তমের বাংলা হিট ছবির পাশাপাশি ঢাকার বাংলা সিনেমা প্রতিযোগিতায় উত্তীর্ণ হয়েছিল। কোনো সমস্যা হয়নি।

এখন হয়তো আমাদের টিভি অনুষ্ঠান ভারতীয় টিভির তুলনায় নিষ্প্রভ মনে হতে পারে। অব্যাহত চর্চা। অনুশীলনের ফলে আমাদের টিভি অনুষ্ঠান একদিন ভারতেও আদৃত হবে। যদি আমরা প্রতিভার সঠিক মূল্যায়ন করি। যোগ্য ব্যক্তিকে যোগ্য পদে স্থান দিই। অনুষ্ঠান নিয়ে গবেষণা করি। সৃজনশীল। প্রতিভাবান ব্যক্তিকে টিভি অনুষ্ঠানের জন্য খুঁজে বের করি। তাঁদের যোগ্য সমাদর করি।

আমাদের টিভি চ্যানেলে কী কী দুর্বলতা রয়েছে। কী কী অব্যবস্থা রয়েছে। তা আগে খুঁজে বের করা দরকার। যাঁরা টিভি চ্যানেলের লাইসেন্স পেয়েছেন, তাঁরা সবাই টিভি ব্যবসা পরিচালনার জন্য যোগ্য ব্যক্তি কি না, তা-ও দেখা দরকার। যাঁরা টিভির লাইসেন্স পেয়েছেন। তাঁদের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান মানসম্পন্ন হবে কীভাবে ? তাঁরা তো এই জগতের লোকই নন।

বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রাইভেট টিভি চ্যানেলে মানসম্পন্ন অনুষ্ঠানের সংখ্যা কম। নকল অনুষ্ঠানেরই ছড়াছড়ি। মালিকপক্ষের সঙ্গে যাঁদের হৃদ্যতা আছে। টিভি চ্যানেলে তাঁদের গুরুত্বই বেশি দেখা যায়। প্রতিটি টিভি চ্যানেলে একটা কোটারি শিল্পীগোষ্ঠী রয়েছে। পর্দায় সারাক্ষণ তাঁদেরই দেখা যায়। মনে হয় যে দেশে আর শিল্পী নেই।

এ রকম নানা দুর্বলতায় কণ্টকিত আমাদের টিভি চ্যানেলগুলো। এর মধ্যে হাতে গোনা কয়েকটি টিভি অনুষ্ঠান দর্শকের মন জয় করেছে। কয়েকটি ভালো অনুষ্ঠান দিয়ে তো ভারতের ৩০/৪০টি ঝলমলে টিভি চ্যানেলের সঙ্গে পাল্লা দেয়া যাবে না। পশ্চিমবঙ্গ যদি আমাদের টিভি চ্যানেল দেখানোর শর্ত হিসেবে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করতে পারে। আমরাও ভারতীয় চ্যানেল থেকে সে রকম টাকা দাবি করতে পারি।
তরুণেরা নিজের পয়সায় বছরব্যাপী প্রশিক্ষণ নিয়ে। পরীক্ষা দিয়ে। পাস করে টিভি অনুষ্ঠান করার চাকরিতে ঢুকবেন। এই পদ্ধতি ছাড়া টিভি মিডিয়ায় যোগ্য ও দক্ষ লোক পাওয়ার উপায় নেই। মানসম্পন্ন অনুষ্ঠান আকাশ থেকে পাওয়া যায় না। এটা চ্যানেলের দক্ষ প্রযোজকেরাই তৈরি করেন।
অনুষ্ঠানের জন্য গবেষণা। দর্শকের প্রতিক্রিয়া সংগ্রহে কোনো আগ্রহ এখানে দেখা যায় না। নিজেদের অনুষ্ঠানের কাল্পনিক সাফল্যে নিজেরাই বুঁদ হয়ে থাকেন। দর্শকের মতামত শোনার কোনো গরজ দেখা যায় না।

বিবিসির (বাংলা) ‘প্রীতিভাজনেষু’ অনুষ্ঠানের মতো একটি নিয়মিত (পাক্ষিক) ফিডব্যাক অনুষ্ঠান কি কোনো টিভি চ্যানেল চালু করতে পারবে ? দর্শকের মতামতের প্রতি কি তাদের শ্রদ্ধা আছে ?

ভারতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল প্রদর্শিত হয় না। বাংলাদেশের ঘরে ঘরে ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেলের রমরমা। আশির দশকের শেষদিকে বিটিভির জনপ্রিয়তা এই পর্যায়ের ছিল যে বিটিভি সম্প্রচারিত হওয়া শুরু হলে ভারতীয় চ্যানেল পশ্চিমবঙ্গে বড় একটা কেউ দেখত না। তখন পশ্চিমবঙ্গের মানুষ একডাকে চিনত ‘খালামনি’ ওরফে ফেরদৌসী রহমান। বাকের ভাই ওরফে আসাদুজ্জামান নূরকে।

বাংলাদেশের টিভি নাটকের জনপ্রিয়তায় ঢাকা পড়ে গেছে কলকাতায় তৈরি বাংলা সিনেমা। উপায় না দেখে কলকাতা দূরদর্শন শনিবারে চালিয়ে যাচ্ছে উত্তম। সুচিত্রা। সুপ্রিয়া। সৌমিত্র। সময় পাল্টে গেছে দ্রুত। অবস্থা উল্টে গিয়ে বাংলাদেশে একাধিপত্য বজায় করেছে ভারতীয় চ্যানেল। এতে বাংলাদেশের অনেকের মনে সৃষ্টি হয়েছে তুমুল ক্ষোভ। পরিবারের মহিলাদের চাপে নিজের বাড়িতে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ করতে না পারলেও বাইরে এসে তারা উগরে দিচ্ছেন তাদের উস্মা।

ভারতে যখন বাংলাদেশের চ্যানেল দেখানো হচ্ছে না তখন বাংলাদেশে কেন ভারতীয় চ্যানেল দেখানো হবে! বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শাহিনআরা লাইলী ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট আদালতে বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে উচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে একটি রিট করেন।
রিটে বলা হয়, ভারতীয় বিভিন্ন চ্যানেল বাংলাদেশে দেখানো হলেও ভারতে বাংলাদেশের কোনো চ্যানেল দেখানো হয় না। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় চ্যানেলের ‘অবাধ সম্প্রচারের’ কারণে দেশের টিভি চ্যানেলগুলো দর্শক হারাচ্ছে।

২০১২ সালে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এখলাসউদ্দিন ভূঁইয়া বাংলাদেশে ভারতের টিভি চ্যানেলের প্রচার নিষিদ্ধ করার দাবিতে রিট আবেদন করেন। পরবর্তীতে তিনি রিটটি প্রত্যাহার করে নেন।
আইনজীবী শাহিন আরা লাইলীকৃত রিট প্রসঙ্গে মহামান্য বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী ও জে বি এম হাসানকে নিয়ে গঠিত বেঞ্চ রায় দেন যে এধরনের কোন নিষেধাজ্ঞা এই চ্যানেলগুলির ওপরে আরোপ করা হবে না। ভারতীয় টেলিভিশন চ্যানেল চলছে। চলবে।

ভারত সরকারের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের অনুষ্ঠান ভারতে দেখানোর ক্ষেত্রে কোনো আইনি বাধা নেই। ২০১১ সালের ৫ ডিসেম্বর প্রকাশিত ভারত সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করে যে কেউ ভারতে বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংক করতে পারবে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, ‘ভারতীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও ভারতে কোনো বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংকের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করেনি। কোনো কোম্পানি যদি বাংলাদেশি চ্যানেল ডাউনলিংক করতে চায়, তা হলে ভারতের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় নীতিমালা অনুযায়ী সর্বতোভাবে সহায়তা করতে প্রস্তুত। তবে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোনো টেলিভিশন চ্যানেল ভারতে ডাউনলিংকের জন্য অনুমতি চেয়ে আবেদন করেনি।

তবে আবেদনকারী কোম্পানিকে প্রথম টেলিভিশন চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ৫ কোটি ভারতীয় রুপি এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রতিটি অতিরিক্ত চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য ২ কোটি ৫০ লাখ ভারতীয় রুপি নেট মূল্য পরিশোধ করতে হবে। এই মূল্য ছাড়াও ডাউনলিংকের অনুমতি মঞ্জুরের সময় ১০ লাখ ভারতীয় রুপি ফি দিতে হবে। এ ছাড়া বিদেশ থেকে আপলিংক করা প্রতিটি চ্যানেল ডাউনলিংকের জন্য বার্ষিক ফি হিসেবে ১৫ লাখ ভারতীয় রুপি দিতে হবে। ডাউনলিংকের নিবন্ধন ও অনুমতি ১০ বছর বহাল থাকবে।

এদিকে বাংলাদেশের ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউ বাংলাদেশের অ্যাসোসিয়েশন অফ টেলিভিশন চ্যানেল ওনারস – এর সাথে এক বৈঠকের পরে স্থির করেছিলেন ভারতীয় চ্যানেল সহ সকল বিদেশি চ্যানেলের ওপরে কর বা ফি বসানো হবে।
প্রমাদ গুনলেন ন্যাশনাল বোর্ড অফ রেভেনিউ-এর কর্তাব্যক্তিরা। এখন ইন্টারনেটের যুগ। এতে ভারতীয় ডিশ সংযোগ বেড়ে যাবে বাংলাদেশে । ভিপিএন সিসটেমে সবাই সব ভারতীয় চ্যানেল বাংলাদেশে বসেই দেখতে পাবে। তাতে তারা বাংলাদেশের চ্যানেল আদৌ দেখবে না। কাজেই রেভেনিউ আর্নিং বা কর আদায়ের ক্ষেত্রে ধ্বস নামবে। ব্যাপারটার এখানেই ইতি।
বাংলাদেশের একটি চ্যানেলের মালিক বলেছিলেন, ‘বাংলাদেশের মাত্র ২০০ কোটি টাকার বিজ্ঞাপনের বাজারে দেশীয় চ্যানেলগুলো চালাতে হিমশিম খেতে হয়। তার ওপর যদি ভারতে সম্প্রচারের জন্য টাকা দিতে হয় তাহলে বিপদে পড়তে হবে।’
কলকাতার বিপণনকারী সংস্থা মন্থনের পরিচালক শিবশঙ্কর চক্রবর্তীর মতে, বাংলাদেশে যেহেতু অধিকাংশ পশ্চিমবঙ্গবাসীর পূর্বপুরুষের ভিটা। একই সংস্কৃতি। ভাষা। খাদ্যাভ্যাস। এখানে বাংলাদেশের চ্যানেলগুলো সম্প্রচারে আসলে দর্শকদের যেমন বাংলাদেশি চ্যানেল দেখার সুযোগ হবে, তেমনই চ্যানেলগুলোও ব্যবসা করতে পারবে।
ভারতের মানুষ বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলগুলোকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত।

তবে আরেকটি কথা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের।তবে আরেকটি কথা বাংলাদেশের টিভি চ্যানেলের ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ খেয়ে নেয় বিজ্ঞাপন। সেই পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটেন ও ভারতে এই বিজ্ঞাপনের ভাগ ১১ শতাংশ। কাজেই বাংলাদেশের চ্যানেলগুলোকেও আন্তর্জাতিক বাজারে টিকে থাকতে গেলে সাবালক হতেই হবে। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর প্রথম বাস্তবসম্মত সম্প্রচার নীতিমালা এতদিনে তৈরি হয়েছে। কিন্তু এখনো সম্প্রচার আইন তৈরি হয়নি।
দিবে আর নিবে। মিলাবে মিলিবে। যাবে না ফিরে। সেটা আর হবে না।

লেখক : এম এ কবীর সাংবাদিক, কলামিষ্ট, সমাজচিন্তক.গবেষক।

এ জাতীয় আরো সংবাদ