আজ বুধবার,২৩শে অগ্রহায়ণ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,৮ই ডিসেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,রাত ১:১৯

নববী আদর্শ

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামি ডেস্ক :
সমগ্র পৃথিবী জুড়ে যখন পাপাচারে নিমজ্জিত। চারিদিকে শুধু হাহাকার।কোথাও কোনো শান্তি নেই। অশান্তির আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে।সমাজ থেকে ইনসাফকে বিদায় জানিয়ে জুলুম,অত্যাচার স্থান দখল করে নিয়েছে। মানুষের হৃদয়ের মায়া-মমতা তো একেবারে শূন্যের কোঠায়।অন্তরটা যেন শক্ত পাথরে পরিণত হয়েছে। নিজেদের কন্যা সন্তানদের জীবন্ত পুঁতে হত্যা করতেও তারা অপরাধ মনে করতো না। এমন কোনো অন্যায় নেই যা,তাদের দ্বারা সংগঠিত হত না।এক কথায় তখন ছিল আইয়ামে জাহিলিয়্যাতের যুগ। এমনই এক যুগ সন্ধিক্ষণে মা আমিনার কোল জুড়ে জন্ম নিল আমাদের প্রিয়নবী হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম। তিনি ছিলেন পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ মহান মানব; নবীকূলের সর্দার।

আল্লাহ তায়ালা যাকে সমগ্র বিশ্ববাসীর জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন:”আর আমি বিশ্বের লোকদের প্রতি আপনাকে রহমতস্বরূ’ই প্রেরণ করেছি“।[১]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র মহৎ! অতি মহৎ। যার উত্তম চরিত্রের মাধুর্যতার প্রশংসা করে আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে বলেন: “নিশ্চয়ই আপনি মহান চরিত্রে অধিষ্ঠিত “।[২]

একবার হযরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা:) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে,তিনি বলেন: ” তাঁর চরিত্র ছিল আল- কুরআন“।[৩]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন নরম তবিয়তের একজন মহান মানব। তিনি কর্কশ ও কঠোর স্বভাবের ছিলেন না।

আল্লাহ তায়ালা বলেন: ” আল্লাহর করুণায় আপনি তাদের প্রতি বিনম্র রয়েছেন আর যদি আপনি কর্কশ ও কঠোর স্বভাব হতেন,তবে তারা সকলে আপনার নিকট হতে বিক্ষিপ্ত হয়ে পড়তো“।[৪]

হযরত আনাস রাযিাআল্লাহু আনহু বর্ণনা করেন,আমি দীর্ঘ দশ বছর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের খেদমত করেছি। তিনি কখনও কোনো বিষয়ে আমাকে উফ (উহ্) পর্যন্ত বলেননি। কোনো কাজ করার দরুন একথা বলেননি, একাজ কেনো করলে, একাজ করলে না কেনো? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চরিত্র মাধুরীতে সৃষ্টির সেরা ছিলেন। আমি কখনও এমন কোনো রেশম যুক্ত কাপড় বা খাঁটি রেশম স্পর্শ করিনি যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের হস্ত মোবারকের চেয়ে অধিক কোমল। আমি কখনও এমন কোনো মেশকে আম্বরের ঘ্রাণ নেইনি যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ঘামের চেয়ে অধিক সুগন্ধিময়।[৫]

তাই আসুন!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনাদর্শ থেকে শিক্ষা গ্রহন করে আমাদের জীবনকে সেই আদর্শ অনুযায়ী পরিচালিত করি।রাসূলের জীবনীতে রয়েছে আমাদের জন্য উত্তম আদর্শ।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:
যারা আল্লাহ ও শেষ দিবসের আশা রাখে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করে, তাদের জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মধ্যে রয়েছে উত্তম আদর্শ”।[৬]

তথ্যসূত্র:

[১]সূরা আল-আম্বিয়া,আয়াত ১০৭
[২]সূরা আল-কলাম,আয়াত ০৪
[৩]মুসলিম
[৪]সূরা আলে-ইমরা,আয়াত ১৫৯
[৫]শামায়েলে তিরমিজি
[৬]সূরা আহযাব,আয়াত ২১

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ

এ জাতীয় আরো সংবাদ