আজ শুক্রবার,২৩শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৭ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৩:৩৫

পবিত্র জিলহাজ্ব মাসের ফযিলাত

Print This Post Print This Post

আরবি মাসের সর্বশেষ মাস পবিত্র জিলহাজ্ব মাস। এ মাসের অনেক ফযিলাতের কথা আমরা কুরআন-হাদিসের মাধ্যমে জানতে পারি। এই মাসের মধ্যে রয়েছে পবিত্র ঈদুল আযহা। পবিত্র কুরবানিও এ মাসের মধ্যে। আরো রয়েছে ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হাজ্ব। যেটা কিছু শর্তের ভিত্তিতে একজন মুসলিমের উপর ফরজ হয়। বিশেষ করে জিলহাজ্ব মাসের প্রথম দশকের ইবাদাতের ব্যাপারে অনেক ফযিলাতের কথা বর্ণিত হয়েছে।

পবিত্র জিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখার পর জিলহাজ্ব মাসের আমল সমূহ :

  • রাসুল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ জিলহজ্ব মাসের প্রথম ১০ দিনে নেক আমল করার মতো অধিক প্রিয় আর কোনো আমল আল্লাহর কাছে নাই।
  • যারা কুরবানি করবে নখ-চুল না কাটা, যারা করবেনা তারাও এটা পালন করা মুস্তাহাব। জিলহাজ্ব মাসের চাঁদ দেখা যাবার পর হতে কুরবানির পশু জবাই না করা পযর্ন্ত নখ-চুল/লোম এসব কাটা যাবেনা।
  • জিলহজ্ব মাসের প্রথম ০৯ দিন (বৃহস্পতিবার হতে ৩১শে জুলাই শুক্রবার পযর্ন্ত) সিয়াম পালন করা

*জিলহজ্ব মাসের ১ হতে-১০ তারিখ পর্যন্ত বেশি বেশি ইবাদত করা, বিশেষ করে রাতগুলোতে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ে দোয়া করা।

  • বিশেষ করে আরাফার দিন অর্থাৎ ৯ই যিলহজ্ব (৩১শে জুলাই শুক্রবার) সিয়াম পালন করা।(এটার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব এসেছে হাদিসে, রাসুল ( সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেনঃ যে ব্যাক্তি আরাফার দিন রোযা রাখবে তার বিগত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেওয়া হবে।

*তাকবিরে তাশরীক পড়া।
০৯ই জিলহজ্ব (৩১শে জুলাই শুক্রবার) ফযর হতে ১৩ই জিলহজ্ব (৪ই আগষ্ট মঙ্গলবার) আসর পযর্ন্ত প্রত্যেক নামাযের পর একবার তাশরিক পড়া ওয়াজিব।

তাশরিক: আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু, আল্লাহু আকবর, আল্লাহু আকবর ওয়ালিল্লাহিল হামদ।

পুরুষরা উচ্চ আওয়াজে এবং নারীরা নিম্ন আওয়াজে পড়বে।

*১০ই জিলহজ্ব (শনিবার) কুররবানি করা,১০ তারিখ সম্ভব না হলে ১১,ও ১২ই জিলহজ্ব (রবিবার ও সোমবার) করা।

  • ঈদের দিন ঈদুল আযহার সালাত আদায় করা।(সহিহ)

*ঈদ ও আইয়্যামে তাশরীকে সিয়াম পালন না করা।মানে ১০,১১,১২,ও ১৩ই জিলহজ্ব (শনি, রবি, সোম, মঙ্গলবার) রোযা রাখা হারাম। আরবি মাসের প্রতি ১৩, ১৪, ১৫ তারিখ আইয়্যামে বীজের রোযা রাখার নির্দেশ আছে, কিন্তু জিলহজ্ব মাসে সেটা ১৪, ১৫, ১৬ তারিখ রাখতে হবে, কারণ জিলহজ্ব মাসের ১৩ তারিখ রোযা রাখা যাবেনা।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের আমল করার তাওফিক দিন। (আমীন)

রেফারেন্সসমূহ

(১)সহিহ বুখারি-৯৬৯
(২) ইবনে মাজাহ -৩১৪৯
(৩) তিরমিযি -৭৫৮
(৪) সহিহ বুখারি-৯২৬
(৫) সহিহ মুসলিম -১১৬২
(৬)ফাতওয়ায়ে শামী-৬১ ইলাউস সুনান-১৪৮
(৭) সুনানে নাসাঈ-১০৫১২,তিরমিযি-১৪৯৩
(৮) ইবনে মাজাহ-১২৭৭
(৯)সহিহ বুখারি-১৯৯৭

লেখক : মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ