আজ বুধবার,১৫ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৩০শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,ভোর ৫:০৭

ভুল সংশোধনে নববী পদ্ধতি

Print This Post Print This Post

ভুলে ভরা আমাদের জীবন। ভুলটা কখনো ছোট হয়। আবার কখনো বা বড়। ভুলটা কখনো ইচ্ছায় করে ফেলি, আবার কখনো বা অনিচ্ছায়। কখনো বড় ব্যক্তি করে ফেলে, আবার কখনো বা ছোট ব্যক্তি।কিন্তু আমাদের উচিত, যে কাজটা যেভাবে করলে সুন্দর হয়, যে কথাটা যেভাবে বললে ভালো হয়,নির্ভুল হয়। এমনিভাবে আমাদের প্রতিটা কাজই তার যথাযথ নিয়মনুযায়ী করা।

আমাদের মধ্যে কেউ কোনো ভুল করলে আমরা সাধারণত সর্বাত্মক চেষ্টা করি তার ভুল সংশোধনের ব্যাপারে। আর আমাদের ভুল সংশোধনের সঠিক পদ্ধতি না জেনে থাকার কারণে কিংবা জানা সত্বেও তা সঠিকভাবে পালন না করার কারণে, ভুল সংশোধনের পরিবর্তে আরো বৃদ্ধি হতে থাকে। যেমন ধরুন, একজন ভাই নামাজ পড়েন না, রোজা রাখেন না, দাঁড়ি রাখেন না, বিভিন্ন গুনাহের কাজে লিপ্ত থাকেন। অথবা একজন বোন নামাজ পড়েন না, পর্দা করেন না, বিভিন্ন অশ্লীল কাজে লিপ্ত থাকেন। এখন যদি আমরা এ সমস্ত ভাই অথবা বোনদের ভুল সংশোধনের জন্য ভালো ব্যবহার না করি, তাদেরকে ধমক দিই কিংবা কটু কথা বলি। তাহলে তারা অনেক সময় ভুল থেকে নিজেকে শুধরিয়ে নেওয়ার পরিবর্তে ঐ একই ভুল আরো বেশী পরিমাণে করতে থাকেন।

অনেক সময় রাগান্বিত হয়ে এমন কথা মুখ দিয়ে বাহির করেন যার কারণে ঈমান হারানোর সম্ভাবনা পর্যন্ত থেকে যায়।

ভুল করা মানুষের স্বভাবজাত বিষয়। তবে ভুল করার পর ভুল থেকে প্রত্যাবর্তনকারী উত্তম। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আদম সন্তানের প্রত্যেকেই ভুলকারী। আর ভুলকারীদের মধ্যে তারাই উত্তম, যারা তাওবাকারী তথা সঠিক পথে প্রত্যাবর্তনকারী। ( তিরমিযি ২৪৯৯, ইবনে মাজাহ ৪২৫১, মিশকাত ২৩৪১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ভুল সংশোধনের পদ্ধতি কেমন ছিল? এ ব্যাপারে অসংখ্য হাদীস রয়েছে, তার থেকে আমরা মাত্র দুটি হাদীসের দিকে দৃষ্টিপাত করব ইনশাআল্লাহ।

*এক বেদুঈন ব্যক্তি মসজিদে (মসজিদে নববী) প্রবেশ করল, তখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর সাহাবীদেরকে নিয়ে মসজিদে বসে ছিলেন। বেদুঈনটি মসজিদের এক পাশে পেশাব করল। সাহাবীগণ তাকে কঠোরভাবে ধমক দিল। কিন্তু আল্লাহর হিকমত প্রাপ্ত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটিকে পেশাব করতে বারণ না করে সাহাবীদের ধমক দিতে বারণ করলেন। বেদুঈন লোকটি পেশাব শেষ করলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাহাবীদেরকে নির্দেশ দিলেন লোকটির পেশাবের উপর এক বালতি পানি ঢেলে দিতে। ফলে মসজিদ থেকে ময়লা দূর হলো এবং পবিত্র হয়ে গেল। আর বেদুঈন লোকটিকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ডেকে বলল, মসজিদসমূহে কষ্টদায়ক ও অপবিত্রকর কিছু করা উচিত নয়, এগুলো নামায ও কুরআন তিলাওয়াতের স্থান।(বুখারী ৬০২৫)

  • আবু উমামা রাযি: থেকে বর্ণিত,
    এক যুবক গোলাম এসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলল,ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমাকে ব্যাভিচার করার অনুমতি দিন। তার কথা শুনে লোকেরা চিৎকার করে উঠল। কিন্তু নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমরা চুপ করো তাকে জায়গা দাও।তারপর তিনি তাকে বললেন, কাছে এসো,সে কাছে আসতে আসতে একেবারে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সামনে বসে গেল। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাকে বললেন, তুমি কি তোমার মায়ের জন্য যিনা করা ভালো মনে করো? সে বলল, না। তিনি বললেন অনুরূপভাবে সকল লোকই তাদের মায়ের জন্য এ কাজ ভালো মনে করে না। তোমার মেয়ের জন্য কি তা ভালবাসো? সে বলল, না। তিনি বললেন, এমনিভাবে সকলেই তাদের মেয়েদের সাথে এ কাজ ভালবাসে না। তোমার বোনের জন্য কি তুমি এটা পছন্দ করো?সে বলল,না। তিনি বললেন, একইভাবে কোন লোকই তাদের বোনদের জন্য তা পছন্দ করে না।তুমি কি তোমার ফুফুর জন্য এ কাজ ভালবাসো?সে বলল, না। তিনি বললেন, অনুরূপভাবে সকল লোকই তাদের ফুফুদের জন্য এটা ভালোবাসে না। তুমি কি তোমার খালার জন্য এ কাজ পছন্দ করো? সে বলল, না। তিনি বললেন, একইভাবে সকল লোকই তাদের খালাদের সাথে তা পছন্দ করে না। অতঃপর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর হাত তার বুকের ওপর রেখে বললেন,হে আল্লাহ! তার পাপ মোচন করে দাও, তার ক্বলব পবিত্র করে দাও এবং তার লজ্জাস্থানের হেফাজত করো।(ত্বাবারানী, আল-মুজামুল কাবীর হা/৭৬৭৯,৭৭৫৯ সহিহাহ্ হা/৩৭০)

প্রিয় পাঠকবৃন্দ!
দেখুন, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কত সুন্দর ভাবে তাদেরকে ভুল সংশোধন করে দিলেন । দুই জন ব্যক্তির কাউকেও তিনি কিন্তু ধমক দেননি, তাদের ওপর রাগান্বিত হননি, কটু কথা বলেননি। যেটা আমরা দুটি হাদিস ভালোভাবে অবলোকন করলেই বুঝতে পারব। আর আমরা! কাজের ভুল সংশোধন করার আগেই ব্যক্তির ওপর আঘাত করি। স্থিরচিত্তে ভুল সংশোধন করা যেন ভুলে গিয়েছি। দুই ব্যক্তির মাঝে ভুল সংশোধনের ব্যাপারে অনেক সময় পক্ষপাত্বিত করে থাকি। এছাড়া অন্যর ভুল শুধরিয়ে দিতে গিয়ে নিজেরাই অনেক ভুল করে ফেলি।

তাই আসুন! ভুল সংশোধনের ব্যাপারে নববী অর্থাৎ রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের পদ্ধতি অবলম্বন করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দিন। (আমীন)

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ