আজ রবিবার,১২ই আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,বিকাল ৫:০৭

মাদককে না বলি

Print This Post Print This Post

বর্তমান যুব সমাজে যে কয়টা পাপ কাজ প্রচলিত রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি পাপ কাজ হল মাদকদ্রব্য সেবন করা। মাদকদ্রব্য শব্দটা অনেক কিছুর সমন্বয়ে। যেমনঃ বিড়ি, সিগারেট, গাজা, ফেন্সিডিল, ইয়াবা, ইত্যাদি নেশাজাতীয় দ্রব্য। এক কথায় আমরা মাদকদ্রব্য বলতে বুঝি যা নেশাজাতীয় দ্রব্য। যেটা খাওয়ার পর বা ব্যবহার করার পর একজন সুস্হ মানুষ আর সুস্হ থাকে না বরং অসুস্হ হয়ে যায়। মাদকদ্রব্য ব্যবহারকারী রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবারের জন্য ক্ষতিকারক। সে শুধু নিজেই বরবাদ হয় না বরং সাথে অন্যকেও বরবাদ করে দেয়।

মাদকদ্রব্যের কুফল

  • মাদকাসক্ত ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না।(নাসায়ী)
  • মাদকদ্রব্য জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ করে দেয়।
    *হতাশা, অবসাদ ও দূর্বলতা বেড়ে যায়।
  • যৌন শক্তি হ্রাস পায়।
  • লিভার ও কিডনি বিনষ্ট হয়ে যায়।
  • মানসিক তীব্র প্রতিক্রিয়া ও সাময়িক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
  • উগ্র মেজাজের হয়ে যায়।
  • চেহারা পরিবর্তন হয়ে যায়। চেহারার উপর কেমন যেন এক হতাশার ছাপ ভেসে উঠে।
  • মাদকাসক্ত ব্যক্তি নিজের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয়। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃতোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি অতি দয়ালু।(সুরা আন-নিসা ২৯)
    অন্যত্রে আল্লাহ তায়ালা বলেনঃএবং তোমরা নিজ হাতে নিজেকে ধ্বংসে পতিত করো না। (সুরা আল বাকারা ১৯৫)
  • মাদকাসক্ত ব্যক্তি দেশ, জাতি, সমাজ ও পরিবারের জন্য ক্ষতিকারক।
  • এই হারামে কাজে লিপ্ত থাকার কারনে রোজগারে কোনো বরকত থাকে না।
    মাদকদ্রব্য সেবনের কুফল আরো অনেক অনেক রয়েছে যা এখানে লেখে শেষ করা অসম্ভব প্রায়।

মাদকাসক্ত হওয়ার কারণ :

  • পিতা-মাতার সন্তানের প্রতি যথেষ্ট তদারকি না থাকার কারনে
  • বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে ভালো বন্ধু গ্রহন না করার কারনে। অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেনঃহে মুমিনগণ!
    আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।( সুরা আত-তাওবা ১১৯)
  • মাদকদ্রব্যের ব্যবহারের ব্যাপারে কঠিন হুশিয়ারি না থাকার কারনে।
    *মাদকদ্রব্য খুব সহজে হাতের নাগালে পাওয়ার কারণে।
    এছাড়া মাদকাসক্ত হওয়ার অনেক কারন রয়েছে।

মাদকাসক্ত থেকে মুক্তির উপায় :

  • প্রতিটা পিতা-মাতার তাদের নিজ নিজ সন্তানের প্রতি দায়িত্বশীল হতে হবে। সন্তানদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরন করতে হবে। তাদের সর্ববিষয়ে দেখাশোনা করতে হবে।
  • বন্ধু নির্বাচনের ক্ষেত্রে কুরআনের উল্লেখিত সুরা আত-তাওবার ১১৯ নং আয়াতকে অনুসরন করতে হবে। বখাটে, খারাপ বন্ধুদের থেকে সবসময় এড়িয়ে চলতে হবে।
  • সর্বদা নিজেকে কোনো একটা ভালো কাজে জড়িয়ে রাখতে হবে।
  • দ্বীন পালনের ক্ষেত্রে মনোযোগী হতে হবে।
  • সমসময় আল্লাহকে স্মরণ রাখতে হবে। যখন কোনো মাদকদ্রব্য সেবন করতে মন চাইবে তখন মনে করতে হবে আল্লাহ তায়ালা আমাকে সব দেখছেন।
  • শয়তানের ধোঁকা থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহ তায়ালার নিকট দুআ ও সাহায্য চাইতে হবে। কেননা আমাদের মধ্য যারা মাদকদ্রব্য নেশায় মগ্ন, তারা তো একাজগুলো শয়তানের ধোকায় পড়েই করে।

শেষ কথা :

যারা মাদকাসক্ত আছেন তারা আজই বের হয়ে আসুন। তাওবা করুন যে আর কোনো দিন মাদকাসক্ত হবেন না। নিজেকে ভালোবাসুন। নিজের পরিবারকে ভালোবাসুন। নিজের দেশকে ভালোবাসুন। আপনার থেকে জাতি অনেক কিছু আশা করে। আপনি নিজেকে আর ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিবেন না।

আসুন আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করি, মাদকদ্রব্য ত্যাগ করার অঙ্গীকার করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের সহীহ বুঝ দান করুন। (আমীন)

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ

এ জাতীয় আরো সংবাদ