আজ সোমবার,১২ই আশ্বিন ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৭শে সেপ্টেম্বর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৩:৫৫

মুহাররম মাস ও আশুরার ফযিলাত

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামি ডেস্ক :
হিজরী সনের প্রথম মাস মুহাররম।কুরআন-হাদীসে এই মাসের অনেক ফযিলাতের কথা বর্ণিত হয়েছে। ইসলামী শরীয়তে যে ৪টি মাসের বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছে, তার মধ্যে মুহাররম মাসও রয়েছে। মুহাররম মাসকে শাহরুল্লাহ অর্থাৎ আল্লাহর মাসও বলা হয়।

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:
“রমযানের পরে সবচেয়ে বেশি ফযিলাতের সিয়াম হলো মুহাররমের সিয়াম “( মুসলিম, আস-সহীহ ২/৮৬১)

মুহাররম মাসের ১০ তারিখকে আশুরা বলে।

বিশেষভাবে এ দিনটির সিয়াম পালনের উৎসাহ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মদীনায় এসে দেখেন যে, ইহুদীরা আশুরার দিনে সিয়াম পালন করে। তিনি তাদেরকে বলেন, এ দিনটির বিষয় কি যে তোমরা এ দিনে সিয়াম পালন করো?তারা বলেন, এটি একটি মহান দিন। এ দিনে আল্লাহ মুসা (আ) ও তাঁর জাতিকে পরিত্রাণ দান করেন। এবং ফিরআউন ও তার জাতিকে নিমজ্জিত করেন। এ জন্য মুসা (আ:) কৃতজ্ঞতা-স্বরূপ এ দিন সিয়াম পালন করেন। তাই আমরা এ দিন সিয়াম পালন করি। তখন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, মুসার (আ) এর বিষয়ে আমাদের অধিকার বেশি। এরপর তিনি এ দিবস সিয়াম পালন করেন এবং সিয়াম পালন করার নির্দেশ প্রদান করেন। ( বুখারি ২/৭০৪, ৪/১৭২২ মুসলিম ২/৭৯৬)

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইহুদিদের ব্যতিক্রম করতে বলেছেন।ইহুদিদের সাথে যাতে মিল না হয়ে যায় তাই আশুরার দিনের সাথে আগে কিংবা পরে আরো একদিন রোজা রাখা উচিত।

তবে আশুরার সিয়াম ফরজ নয়। রমযানের সিয়াম ফরজ হওয়ার আগে আশুরার সিয়াম ফরজ ছিল। রমযানের সিয়াম ফরজ হওয়ার পর আশুরার সিয়াম ঐচ্ছিক ইবাদত বলে গন্য করা হয়। তা পালন না করলে কেউ গুনাহগার হবেন না। তবে পালন করলে অনেক সওয়াবের অধিকারী হবেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : “আমি আশা করি, আশুরার সিয়াম-এর কারণে আল্লাহ পূর্ববর্তী বৎসরের কাফফারা করবেন “। (মুসলিম ২/৮১৮)

মুহররম মাসের আশুরাকে কেন্দ্র করে বর্জনীয় আমল হলো, আশুরা কারবালার ইতিহাস মনে করে পালন করা, শরীরের আঘাত করা, শরীর রক্তাক্ত করে ফেলা, কৃত্তিম ঘোড়া বানিয়ে সেগুলো নিয়ে রাস্তায় তাজিয়া মিছিল করে বেড়ানো,হায় হুসাইন! হায় হুসাইন! ইয়া আলী! এগুলা বলা থেকে বিরত থাকা ইত্যাদি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের মুহাররম মাসের বিশুদ্ধ ফযিলাত জেনে সেগুলোর উপর আমল করার তাওফিক দিন।

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ

এ জাতীয় আরো সংবাদ