আজ বৃহস্পতিবার,১৮ই আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২রা জুলাই ২০২০ ইং,দুপুর ২:৫৬

মূল্যবোধের অবক্ষয়

Print This Post Print This Post

মূল্যবোধ হলো মানুষের আচরণ পরিচালনাকারী নীতি ও মানদন্ড। যে শিক্ষার মাধ্যমে সমাজের আচরণ রীতিনীতি, প্রথা, আদর্শ ইত্যাদির বিকাশ ঘটে তাই হলো ‍মূল্যবোধ শিক্ষা। মূল্যবোধ হলো সমাজ ও রাষ্ট্রের ভিত্তি, এটি মানুষের আচরণের সামাজিক মাপকাঠি।

উপরের বাক্যগুলো হলো মূল্যবোধের সংজ্ঞার অংশ বিশেষ। যা বর্তমানে শুধুমাত্র মোড়ককে মোড়ানো পুস্তকের মধ্যে আটকে গেছে। রাষ্ট্র, সমাজ, পরিবার এমনকি ব্যক্তি পর্যায়েও মূল্যবোধ অবক্ষয়ের সূচক দিন দিন উর্ধ্বমূখী। গত ২০ বছরে বাংলাদেশের শিক্ষার হার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে ঠিকই কিন্তু সুশিক্ষিতের হার কমেছে বৈ বাড়েনি।

একটি ছাত্র পরীক্ষায় নকল করার অর্থ হলো সে মেধাবী নয়, আর যে ছাত্রটি তার শিক্ষকের গায়ে হাত তুলছে সে কি শিক্ষিত?? আজ সমাজের মধ্যে মানুষের সঙ্গে মানুষের অসম প্রতিযোগিতা বাড়ছে আর তাইতো বাড়ছে মানুষে মানুষে দূরত্ব। প্রত্যেকে পরোক্ষভাবে একে-অপরের ক্ষতিসাধনে মগ্ন। ব্যক্তিজীবনে কমে আসছে ধৈর্যশীলতা। নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া কিংবা রাতারাতি বড়লোক হওয়ার লোভও বিরাজ করছে মাত্রাতিরিক্ত। একজন মানুষের চরম নৈতিক মূল্যবোধের ধাক্কায় ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছে অন্য মানুষ। দিন দিন মানুষের মানসিক বিকৃতি বাড়ছে। হতাশা বা অস্থিরতা বিরাজ করছে ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে বেঁচে থাকার প্রতিটি ধাপে। মায়া-মমতা, স্নেহ-ভালোবাসাকে বিসর্জন দিয়ে মানুষ পাশবিক হয়ে উঠছে। দেশ, জাতি, সমাজ, পরিবার ক্রমেই ধাবিত হচ্ছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।
আলেমে আলেমে বাকযুদদ্ধ করে ইসলামকে করছে কুলশিত। বেশিরভাগ পরিবারগুলো তাদের সন্তানকে ধর্মীয় শিক্ষা দিচ্ছেনা। স্ত্রী স্বামীকে, স্বামী স্ত্রীকে, মা-বাবা নিজ সন্তানকে, ভাই ভাইকে অবলীলায় হত্যা করছে। সুষ্ঠ বিচার না পেয়ে বাবা-মেয়ে, মা-মেয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়ছে। প্রেমের কারণে নানাবিধ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। হতাশা, নিঃসঙ্গতা, অবিশ্বাস আর অপ্রাপ্তিতে সমাজে আত্মহননের ঘটনাও বেড়ে চলছে মারাত্নকভাবে, বেড়ে গেছে মাদকাসক্তের সংখ্যা।

মাদকের অর্থ জোগাড় করতে খুন করছে পরিবারের সদস্যকে, অথচ পরিবারই মানুষের বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়স্থল। ছিচকে চোরটি হয়ে যাচ্ছে সমাজের মাতব্বর, চিহ্নিত সুদখোর হয়ে যাচ্ছে মসজিদ মাদ্রাসার কমিটির সদস্য, নিজের নামটিও বানান করে পড়তে না পারা মানুষটি হয়ে যাচ্ছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি, শিক্ষক দ্বারা হচ্ছে ছাত্রী ধর্ষণ। আর রাজীনীতি তো এখন চামচা-তোষামোদকারীদের অভয়ারণ্য।

এই অবক্ষয় থেকে বেরিয়ে আসতে হলে একত্রে পরিবার, সমাজ তথা রাষ্ট্রকে যথাযথ ভূমিকা ও দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। তবে, কোনো সমাজ বা রাষ্ট্রের পক্ষেই নৈতিকতা ও মূল্যাবোধের অবক্ষয় থেকে সম্পূর্ণভাবে বেরিয়ে আসা সম্ভম নয়। কারণ, সমাজ বা রাষ্ট্রে নানা বিশ্বাসের লোক বাস করে, এদের একেকজনের চরিত্র একেকরকম,একজনের চরিত্র অন্যজনের সাথে মেলে না। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সর্বাগ্রে প্রতিটি পরিবারকেই আলাদা আলাদা ভাবে দায়িত্ব নিতে হবে, নতুবা অচিরেই জাতি হিসেবে নিকৃষ্ট খ্যাতিটাও পেয়ে যেতে পারি।

লেখক : মোমিনুর রহমান, চাকুরিজীবী, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ