আজ বৃহস্পতিবার,১৮ই আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২রা জুলাই ২০২০ ইং,দুপুর ২:২৬

যিকিরের মনোগত উপকারিতা

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামী ডেস্ক :
জ্ঞানী মানুষের অন্তর শাসন করে চোখ ও কান বিশেষ করে জিহবাকে।মূর্খ মানুষের চোখ,কান,জিহবা শাসন করে অন্তরকে। চোখের চাহিদা নতুন নতুন সুন্দর অত্যাশ্চর্য কিছু দেখা।এসব দেখলে চোখ খুশী হয়।লাফিয়ে উঠে। কানের সুখও তেমনি। আর জিহবা তো নড়াচড়ায়। শুধু এই তিন ইন্দ্রীয়ের শাসন মনের উপর চাপালে অন্তর কলুষিত হয়ে যায়। ফলে কু-কর্ম খুব সহজেই সংঘটিত হয় এসব অঙ্গ দ্বারা।

অনেক টাকার গল্প শুনলে স্থির থাকতে না পারাটা কানের শাসন। নেতার পেছনে বিশাল গাড়ীর বহর দেখে নেতা হতে চাওয়াটা চোখের শাসন। আবোল তাবোল বলে যুক্তি খোঁজাটা জিহবার শাসন। জ্ঞানী লোক আগে ভাবেন তারপর বলেন।

আজ কোন মহিলাকে দেখে কেউ ফিদা হয়ে গেল।তার জন্য পাগল হয়ে গেল।বিয়ে হলো।দেখা গেলো সংসার বেশী দিন টিকলো না। এজাতীয় ঘটনা এতো বেশী যে, নির্দিষ্টিভাবে উদাহরণ দেয়াটাই বাহুল্য হবে।

House is built by hands but home is built by hearts.

মানুষের মন বা অন্তর কখনো স্থির হয় না। আজ এরকম তো কাল অন্যরকম। ফলে অন্তরের পরিবর্তনে আচরণেও পরিবর্তন হয়। তাই মানবীয় আচরণের মূল চালিকা শক্তি বলা যায় অন্তরকে। অন্তরের রয়েছে অন্যদের মতো চাহিদা। এ চাহিদায় আছে তারুণ্য।দেহে যতদিন শ্বাস থাকবে এ চাহিদার শেষ নেই। বড় চাহিদা চঞ্চল মানুষের অন্তর!

অন্তরের এই বেপরোয়া চাহিদা প্রশমিত করা যায়।এই চাহিদাকে দুর্বল করা যায়। অন্তরকে শান্তিতে রাখা যায়।প্রশান্তির ছোঁয়ায় স্বর্গীয় আবেশে নির্মল অনুভূতি প্রদান করা যায়। যখন মানুষের মন প্রশান্ত হয়, তখন সে শাসন করতে পারে চোখ, কান, নাক ও জিহবাকে। ফলে এদের আচরণও তখন হয় সুন্দর ও যথোচিত।

আল্লাহ বলেন, মানুষের অন্তর প্রশান্ত হয় আল্লাহর স্মরণে, যিকিরে। প্রতিটি মুহূর্তে আল্লাহর স্মরণ, তিনি এখন কি করতে বলেছেন, কীভাবে করতে বলেছেন এসব নিয়মাবলী চর্চায় আল্লাহর স্মরণ করা হয়।একাজ করলে আল্লাহ বলেছেন, অন্তর তৃপ্ত হয়।

একটা উদাহরণ দিই, ঘটনাটা একজন আলেমের কাছ থেকে শুনেছি। একজন কুশ্রী বেঢপ পুরুষের সাথে বিয়ে হয়েছিল খুবই সুন্দরী, রুপসী ও গুণবতী মহিলার। তবু তারা ঘর- সংসার করছিল। বেশ সুখেই কাটছিল তাদের সময়।

একদিন কুশ্রী স্বামী তার স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে হেসে দেয়। হাসি দেখে রুপসী স্ত্রী বলে আমরা দু’জনই জান্নাতি।

স্বামী জিজ্ঞেস করেন কীভাবে? স্ত্রী উত্তর দেয়, আপনি যখন আমার দিকে তাকান আপনার অন্তর আনন্দে ভরে যায়। আপনি আল্লাহর নেয়ামতের কথা স্মরণ করে তার শুকরিয়া আদায় করেন। আর আমি আপনার দিকে তাকালে সবর করি। ধৈর্য ধরি। আল্লাহ প্রদত্ত তাকদিরে সবর করি। ইসলাম বলে, শুকরিয়া আদায়কারী ও ধৈর্যধারণকারী দুজনই জান্নাতে যাবে।

সুবহানআল্লাহ! এভাবেই প্রতিটি মুহুর্ত আল্লাহ তা’য়ালার স্মরণে, যিকিরে অন্তরে প্রশান্তি আসে।

যে অন্তর আল্লাহ তা’য়ালার প্রতি ঝুকেছে সে অন্তর তো প্রশান্তিতে ভরিয়ে দিবেন আল্লাহ নিজেই।আর অন্তর প্রশান্ত হলেই শুধু অন্যান্য আচরণের সৌন্দর্য ফুটে উঠবে। নতুবা তো সব অভিনয় মনে হবে। যাদের অন্তর প্রশান্ত নয়, শুধু তারাই বলে এ দুনিয়াটা অভিনয়ের মস্তবড় মঞ্চ!!!

মুমিনের হৃদয়ের এ তারুণ্য সব সময় খোঁজবে কোন কাজে আল্লাহ সন্তুষ্ট হন। আজীবন তার হৃদয়ে এ তারুণ্য থাকবে।যার অবসান হবে জান্নাতে।

লেখক : মুফতী ইলিয়াস আলমগীর, মুহতামিম, কাতলাগাড়ী কওমী মাদরাসা, শৈলকুপা, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ