আজ বুধবার,১২ই কার্তিক ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২৮শে অক্টোবর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৬:০৪

যিনা নয়, বিবাহকে সহজ করি

Print This Post Print This Post

চারিদিকে শুধু ধর্ষণ আর ধর্ষণ। ধর্ষিতার আর্তচিৎকারে আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে যাচ্ছে। স্বামীর সামনে স্ত্রীকে ধর্ষণ, মা-বাবার সামনে মেয়েকে ধর্ষণ। শিক্ষার্থীদেরকে তো অহরহ ধর্ষণ করাই হয়।
এমনকি অবুঝ শিশুকেও ধর্ষণ করা হয়। এভাবে বিভিন্ন শ্রেণীর নারীকে ধর্ষণ করার মাত্রা দিন দিন বেড়েই চলছে। ধর্ষণ করা যেন আমাদের অভ্যাসে পরিণত হয়ে গিয়েছে।

একজন মানুষের যখন ক্ষুধা লাগে, সে যদি বৈধ পন্থায় খাবার না খেতে পারে তখন অবৈধ পন্থা বেছে নেয়। অনুরূপ জৈবিক চাহিদাও এক ধরনের ক্ষুধা। যখন মানুষ বৈধ পন্থায় সেই চাহিদা টা পূরণ করতে না পারে তখন ধর্ষণ বা যিনার মত অবৈধ পন্থায় জৈবিক চাহিদা পূরণ করেন।

অথচ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন:
“তোমরা যিনার নিকটবর্তী হয়ো না। নিঃসন্দেহে তা বড়ই নির্লজ্জতার কাজ এবং অসৎপন্থা”( সুরা বানী ইসরাইল-৩২)

ধর্ষণের অনেকগুলো কারণ থাকতে পারে তার মধ্যে অন্যতম কারণ হলো নারী-পুরুষের পর্দাহীনতা।

আল্লাহ তায়ালা নারীদের যেমন পর্দার বিধান দিয়েছেন। অনুরূপ পুরুষের জন্যও পর্দার বিধান দিয়েছেন।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি মুমিন পুরুষদেরকে বলে দিন তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন। ঈমানদার নারীদেরকে বলে দিন,তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন
না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ
দেশে ফেলে রাখে এবং তারা যেন তাদের স্বামী,
পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র,
ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক, যারা নারীদের
গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে। মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও। (সুরা আন নুরঃ৩০-৩১)

রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ
যে ব্যক্তি আমার জন্য তার দু’ চোয়ালের মধ্যস্থিত বস্তু (তথা মুখ ও জিহ্বা) এবং দু’ পায়ের মধ্যস্থিত বস্তু (তথা লজ্জাস্থান) এর জিম্মাদার হবে আমি তার জন্য জান্নাতের জিম্মাদার হবো। (বুখারী ৬৪৭৪)

ধর্ষনের আরো একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হলো যথা সময়ে বিবাহ না হওয়া। কেউ পরিবারে কারণে বিবাহ করতে পারেন না। কেউ বা লেখা-পড়ার কারণে, অথবা কেউ বেকার জীবনের কারণে। এছাড়া অনেক কারণ থাকতে পারে। যথাসময়ে বিবাহ না হওয়ার কারণে এই দীর্ঘ সময়ে অনেকে হারাম রিলেশনশিপে, যিনা ইত্যাদি অপকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েন।

আল্লাহ তায়ালা বলেছেন :
“আর তোমাদের মধ্যকার অবিবাহিতদের বিবাহ করিয়ে দাও। এবং তোমাদের ক্রীতদাস এবং দাসীদের মধ্যে যারা এর সমর্থ হয় তাদেরকেও। যদি তারা দরিদ্র হয়, তবে আল্লাহ তায়ালা আপন অনুগ্রহে তাদেরকে ধনী করে দিবেন। এবং আল্লাহ প্রাচুর্যময়, মহাজ্ঞানী “( সুরা আন নুর -৩২)

তাই আসুন!
আল্লাহ তায়ালার বিধানকে মেনে চলি
যিনার মতো অপকর্ম থেকে বেঁচে থাকি।

লেখক : মুহা: আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ