আজ বৃহস্পতিবার,১৮ই আষাঢ় ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,২রা জুলাই ২০২০ ইং,দুপুর ২:৪২

রক্তদান একটি মহৎ কাজ

Print This Post Print This Post

রক্তদান একটি মহৎ কাজ। আমাদের সমাজে এই মহৎ কাজটি করতে অনেকেই অনাগ্রহী। তারা মনে করেন যে, রক্ত দিলে শরীরের অনেক ক্ষতি হয়। আসলে বিষয়টা তেমন নয়। একজন সুস্থ মানুষের জন্য ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার পরে রক্ত দান করলে অনেক উপকার। আবার তার রক্তের মাধ্যমে অন্য একজন মানুষের জীবন বাঁচাতে সে সাহায্য করল। আল্লাহ তায়ালা সুরা মায়িদার ৩২নং আয়াতে বলেছেন : একজন মানুষের জীবন রক্ষা করা সমগ্র মানবজাতির জীবন রক্ষা করার মত মহান কাজ।

মানুষ মানুষের জন্য। একজন মানুষের বিপদে-আপদে সাহায্য করা আরেকজন মানুষের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এই সাহায্য করাটা বিভিন্নভাবে হতে পারে। আর্থিক সাহায্যের পাশাপাশি আমরা রক্ত দান করেও সাহায্য করতে পারি। কারণ রক্ত দান তুচ্ছ নয়, বাঁচাতে পারে একটি প্রাণ।

জারীর ইবনু আব্দুল্লাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা তার প্রতি অনুগ্রহ করেন না, যে মানুষের প্রতি অনুগ্রহ করে না’
(সহিহ বুখারী, হা/৬০১৩; সহিহ মুসলিম, হা/২৩১৯; মিশকাত, হা/৪৯৪৭)।

রক্তদানের উপকারিতা :

• রক্তদানে কোনো সমস্যা হয় না। কেননা একজন সুস্থ মানুষের শরীরে পাঁচ-ছয় লিটার রক্ত থাকে। এর মধ্যে সাধারণত ২৫০ থেকে ৪০০ মিলিলিটার রক্ত দান করা হয়, যা শরীরে থাকা মোট রক্তের মাত্র ১০ ভাগের এক ভাগ। রক্তের মূল উপাদান পানি, যা ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পূরণ হয়।

• রক্তদান স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। রক্তদানের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের ‘বোনম্যারো’ নতুন কণিকা তৈরির জন্য উদ্দীপ্ত হয়। দুই সপ্তাহের মধ্যে নতুন রক্তকণিকা জন্ম হয়, ঘাটতি পূরণ হয়।

• বছরে ৩বার রক্তদান শরীরে লোহিত কণিকাগুলোর প্রাণবন্ততা বাড়িয়ে তোলে ও নতুন কণিকা তৈরির হার বাড়ায়।

• নিয়মিত রক্তদানকারীর হার্ট ও লিভার ভালো থাকে।

• স্বেচ্ছায় রক্তদানের মাধ্যমে পাঁচটি পরীক্ষা সম্পূর্ণ বিনা খরচে করা হয়। এর মাধ্যমে জানা যায় শরীরে অন্য বড় কোনো রোগ আছে কি না। যেমন—হেপাটাইটিস-বি, হেপাটাইটিস-সি, ম্যালেরিয়া, সিফিলিস, এইচআইভি (এইডস) ইত্যাদি।

• রক্তদান অনেক ক্ষেত্রে ক্যান্সার প্রতিরোধেও সহায়তা করে।

• রক্তে কোলস্টেরলের উপস্থিতি কমাতে সাহায্য করে।

• শরীরে অতিরিক্ত আয়রনের উপস্থিতিকে বলে Hemochromatosis। নিয়মিত রক্তদান এই রোগ প্রতিরোধ করে।

• স্থূলদেহী মানুষের ওজন কমাতে রক্তদান সহায়ক।

• মুমূর্ষুকে রক্ত দিলে মানসিক তৃপ্তি মেলে।

রক্তদানের শর্তগুলো :

• রক্তদাতাকে সুস্থ থাকতে হবে। ১৮ থেকে ৬০ বছর বয়সী ৪৫ কেজি ওজনের যেকোনো মানুষ রক্তদান করতে পারে।

• দাতার রক্তের স্ক্রিনিং টেস্ট বা রক্ত নিরাপদ কি না তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা।

• ভরপেটে খাওয়ার ৪ ঘণ্টা পর রক্ত দেওয়া শ্রেয়।

• কোনো রূপ এনার্জি ড্রিংক রক্তদানের আগে সেবন না করাই ভালো।

• যাঁদের ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে তাঁরা চিকিৎসকের পরামর্শে রক্তদান করতে পারেন।

যাদের রক্তদান নিষেধ :

• ক্যান্সার, হিমোফিলিয়া, ম্যালেরিয়াসহ জীবাণুঘটিত কোনো রোগী।

• এইচআইভি বা এইডস আক্রান্তরা।

• মাদক সেবনকারী।

• হেপাটাইটিস-বি ও সি-র এন্টিজেন পজিটিভ যাঁদের। পরবর্তী সময় তা নেগেটিভ হলেও রক্ত দেওয়া যাবে না।

• গর্ভবতী মহিলারা।

• যাঁদের অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হয়।

• যাঁরা বারবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হন।

• গত তিন মাসের মধ্যে রক্তদান করেছেন এমন মানুষ।

• যাঁদের শরীরের কোনো স্থানের গ্ল্যান্ড (লিম্ফনোড) ফুলে গেছে। বিশেষ করে ঘাড়, গলায়, হাতের নিচের গ্লান্ড। ( সূত্র, ডাঃ মনিরুজ্জামান)

তাই আসুন!
আমদের মধ্যে যাদের সামার্থ্য আছে, সেচ্ছায় রক্ত দানে এগিয়ে আসি এবং অন্যকে রক্তদানে উৎসাহ প্রদান করি। আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাওফিক দান করুন। আমীন।

লেখক : মুহা : আব্দুল্লাহ আল আফিক, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ