আজ বৃহস্পতিবার,১লা শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,১৬ই জুলাই ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,সন্ধ্যা ৬:৩৫

শিরকের পরিচয় ও ভয়াবহতা

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ইসলামি ডেস্ক :
শিরক একটি ছোট শব্দ। এটি একটি আরবী শব্দ। যার আভিধানিক অর্থ হলো অংশীদার সাব্যস্ত করা, শরিক করা, সমকক্ষ মনে করা, বহু প্রভুতে বিশ্বাস স্হাপন করা।

আর শরীয়তের পরিভাষায় শিরক বলা হয় আল্লাহর সমক্ষক মনে করা বা আল্লাহর ক্ষমতার মত অন্য কাউকে ক্ষমতাবান মনে করা।

সকল গুনাহের মধ্যে অত্যন্ত বড় গুনাহ হলো আল্লাহর সাথে শিরক করার গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা তার সাথে শিরক করার গুনাহ ব্যতীত সমস্ত গুনাহকেই তিনি ক্ষমা করে দেন।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনুল কারীমে বলেন :
“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শিরক করার গুনাহকে ক্ষমা করেন না। আর এটা ব্যতীত সবকিছু যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করে দেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে সে তো চরম পথভ্রষ্টতায় পথভ্রষ্ট হলো” ( সুরা নিসা-১১৬)

শিরক করলে তার জন্য জান্নাত হারাম :

আল্লাহ তায়ালা বলেন :
” নিশ্চয়ই যে আল্লাহর সাথে শরীক করে, তার উপর অবশ্যই আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দিয়েছেন এবং তার ঠিকানা জাহান্নাম। আর জালিমদের কোনো সাহায্যকারী নেই। (সুরা মায়িদা-৭২)

শিরক করলে সকল আমল ধ্বংস হয়ে যাবে :

আল্লাহ তায়ালা বলেন :
” আর তারা যদি শিরক করত,তবে তারা যা আমল করেছে তা অবশ্যই ধ্বংস হয়ে যেত। (সুরা আনআম-৮৮)

শিরক সবচেয়ে মহা পাপ :

“হে আমার পুত্র! আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করো না। নিশ্চয়ই শিরক মহা (পাপ) অত্যাচার”( সুরা লুকমান – ১৩)

আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করার নির্দেশ :

হযরত আবু হুরায়রা রাযি: থেকে বর্ণিত, রাসুল ( স.) ইরশাদ করেন, ইসলাম হলো, তুমি একমাত্র আল্লাহ তায়ালার ইবাদত করবে এবং তার সাথে কোনো শরীক করবে না। ( সহিহ বুখারি, হাদিস নং- ৪৮)

শিরক করা অবস্হায় মৃত্যুবরণ করলে জাহান্নামে যেতে হবে :

হযরত জাবির রাযি: থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন , রাসুল ( স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শিরক করা অবস্হায় মৃত্যুবরণ করল, সে অবশ্যই জাহান্নামে প্রবেশ করবে। ( মুসলিম-মিশকাত পৃ.নং -১৫)

শিরক না করলে নিশ্চিত জান্নাত :

হযরত জাবির রাযি: থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসুল ( স.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক না করে মৃত্যুবরণ করল সে নিশ্চিত জান্নাতে প্রবেশ করবে। (মুসলিম -মিশকাত পৃ.নং -১৫)

প্রিয় পাঠকবৃন্দ!

আমাদের সমাজে আজ শিরকের ছড়াছড়ি।
প্রচলিত শিরক নিয়ে আরেকদিন আলোচনা করব ইং শা আল্লাহ। একটু চিন্তা করে দেখুন! আমাদের ইবাদাত বন্দেগীর মধ্যে যদি শিরক থাকে, তাহলে আমাদের সমস্ত আমলই বরবাদ হয়ে যাবে। তাই সমস্ত ইবাদত একমাত্র আল্লাহ তায়ালার জন্যই করতে হবে।সাহায্য চাইতে হলে তাঁর কাছেই চাইতে হবে।সন্তান চাইলে তাঁর কাছেই চাইতে হবে। আসমান, জমিনের সমস্ত চাবিকাটি তাঁরই হাতে।

তাকেই সিজদাহ করতে হবে। অন্য কাউকে সিজদাহ করলে শিরক হবে। কোনো পশু জবাই করলে তাঁর নামেই জবাই করতে হবে। সমস্ত কিছু একমাত্র তাঁরই জন্য হতে হবে। তার সমক্ষক কাউকে কখনোই মনে করা যাবে না।

আল্লাহ তায়ালা আমাদের তাঁর শিরক করা থেকে হেফাজত করুন। (আমীন ইয়া রব)

লেখক : মুহা : আব্দুল্লাহ আল আফিক, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ