আজ শুক্রবার,৩রা আশ্বিন ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,১৮ই সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,ভোর ৫:২১

শৈলকুপায় করোনার ভিতরে সাপ্তাহিক হাট পেয়ে খুশি চাষিরা, উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ

Print This Post Print This Post

নিজস্ব প্রতিবেদক:
দীর্ঘদিন পর করোনার সংকটের ভিতরে হাট পেয়ে খুশি উপজেলার চাষিরা। করোনা সংক্রমণ রোধে সরকারের নির্দেশনায় নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ছাড়া কৃষি পণ্যের পাইকারী হাট বন্ধ থাকায় কৃষি শ্রমিক সহ সারের দাম মেটাতে বিপাকে পড়েন চাষিরা। প্রয়োজন মেটাতে মধ্যসত্ব ভোগীদের কাছে বাড়ি থেকে পণ্য বিক্রি করে মণ প্রতি ১ থেকে ২’শত টাকা ঠকছিলেন তারা।

শনিবার(১৮ এপ্রিল) সকালে ঝিনাইদহের শৈলকুপার উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের তত্বাবধানে কলেজ মাঠে কৃষি পণ্যের পাইকারী হাট পেয়ে দারুন উল্লসিত গ্রামের চাষিরা। তবে বিভিন্ন জেলা থেকে পণ্য কিনতে আসা ব্যবসায়ীদের নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক সমাজ।

সরকারী প্রজ্ঞাপন মেনে হাট পরিচালিত হবে তবে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলা থেকে কোন পাইকারী ব্যবসায়ী আসতে পারবে না বলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানা যায়। শুধুমাত্র স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করবে।

অনন্ত বাদালশো গ্রামের চাষি গোপাল পোদ্দার জানান, হাটে কৃষি পণ্য বিক্রি করতে পেরে তারা দারুন খুশি। পাইকারী হাট বন্ধ থাকায় কৃষি শ্রমিকের মজুরি, সারের দাম, জমি চাষের পাওনা সহ বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছিল। শৈলকুপায় ব্যাপাক পিঁয়াজ চাষ হওয়ায় চাষিরা এ পণ্যটির উপর নির্ভরশীল। তারা পিঁয়াজ বিক্রি করে বিভিন্ন পাওনা মিটিয়ে থাকেন। বাড়ির উপর পণ্য বিক্রি করে তারা এতোদিন অনকে টাকা লোকসান দিয়েছেন।

করোনা না হওয়ার সব নিয়ম মেনে মঙ্গলবার সকালে উপজেলা প্রশাসন চাষির জন্য শৈলকুপা সরকারী ডিগ্রী কলেজ মাঠে পণ্য বিক্রি করার ব্যবস্থা করে দেওয়ায় তারা খুশি। তারা পণ্যে ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন বলে জানান। আউশিয়া গ্রামের চাষি নুরু মিয়া কালা জানান, বহুদিন পরে হাটে পণ্য বিক্রি করে তারা হাফ ছেড়ে বেচেছেন। এখন তারা কৃষি কাজের বিভিন্ন সমস্যা মেটাতে পারবেন বলে জানান। হাটে পণ্য আনা বিভিন্ন গ্রামের চাষিদের সাথে কথা বলে জানা যায় সব নিয়ম মেনে উপজেলো প্রশাসনের এ উদ্যেগের জন্য তারা খুব খুশি।

তবে শৈলকুপার কৃষি পণ্য বিক্রির পাইকারী বাজারে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত ব্যবসায়ীদের নিয়ে শংকা প্রকাশ করেছেন উপজেলা করোনা বিস্তার রোধ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি কমিটি।

কমিটির সদস্য সচিব স্বপন কুমার বাগচী জানান, কৃষকের প্রয়োজন মেটাতে সামাজকি দুরত্ব বজায় রেখে পাইকারী বাজারের প্রয়োজন।

শৈলকুপা কৃষি পণ্যেও বড় পাইকারী বাজার। বিভিন্ন জেলা থেকে এখানে ব্যবসায়ীরা পণ্য কিনতে আসে। উপজেলা প্রশাসনের উচিত যদি কোন জেলা থেকে এখানে পণ্য কিনতে আসে তাহলে তাদের চিহিৃত করে বাজারে ঢুকতে না দেওয়া। এতে অনেকটা করোনা সংক্রমনের ঝুকি কমবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি সরকারের প্রজ্ঞাপনের সব কিছু মেনে কৃষকদের পণ্য বিক্রির হাটের ব্যবস্থা করেছেন। এখানে বাইরের কোন ব্যাপারী আসতে পারবেনা। শুধু স্থানীয় ব্যবসায়ীরা কেনাবেচা করবে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ