আজ সোমবার,১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৩০শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ১১:৩২

শৈলকুপায় ‘জয়িতা’ কনিকার সাফল্য | শৈলবার্তা

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ডেস্ক:

প্রায় দেড় যুগ আগে দারিদ্র জয়ের স্বপ্ন দেখে ‘জয়িতা’ কনিকা খাতুন। স্বামী সংসারে অর্থনৈতিক নানা টানাপোড়ন থাকলেও ইচ্ছেশক্তির কর্ম-দক্ষতা তার পিছু ছাড়েনি। শৈলকুপা পৌরসভার সামনে শ্বশুর মহিউদ্দিনের সেকেলে ছাপাখানায় সর্বপ্রথম তার কাজের হাতেখড়ি। তখন কাগজের ছাপাখানায় বই খাতা সেলাই, কখনো বাধাই কিংবা কাগজ সাজানোর মধ্যে অবসর কাটতো কনিকার। কালের বিবর্তনে হারিয়েছে লোহার অক্ষরের ছাপাখানা, মহিউদ্দিনের যৌথ পরিবারে জেঁকে বসে অভাব অনটন। কনিকার স্বামী রোকনুজ্জামান ঢাকায় একটি কোম্পানীর ছোট্ট পদে চাকরি করে। শ্বশুরের অনুপ্রেরণায় ভিন্নরকম হাতের কাজ খুঁজতে থাকে নগরপাড়ার হতদরিদ্র কনিকা। কনিকার মতে ‘লোকেতো কত কথাই বলে ভাত দেয় কে ?’ তার কাছে সম্মানের সাথে বেঁচে থাকা ও জীবিকার জন্য কোন পেশায় ছোট নয়। একপর্যায়ে লেডিস পোষাক তৈরির কাজ শিখতে শহরের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় শুরু হয় কনিকার পথচলা। পথের শব্দ, পাড়ার কটাক্ষ উপেক্ষা করে স্বামী সংসারে দুর্বার হেঁটে চলেছে শৈলকুপায় এ বছর নির্বাচিত নারীর মধ্যে সেরা ‘জয়িতা’ কনিকা খাতুন। ১৪ বছর পর। দীর্ঘ প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে শৈলকুপা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার সহযোগিতায় বর্তমানে সে শৈলকুপা বাজারের সফল ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। চৌরাস্তা মোড়ের স্কুল মার্কেটে দ্বিতীয়তলায় লেডিস ফ্যাশান এখন বেশ পরিচিত নাম।

শিশু-কিশোরী ও মহিলাদের বিভিন্ন অর্ডারী পোষাক পরিচ্ছদ তৈরি ছাড়াও বাহারী নানা রঙের গার্মেন্টস পোষাক বিক্রেতাও হিসেবেও পরিচিতি বেড়েছে। বাজার ব্যবসায়ীদের সাথে তাল মিলিয়ে দোকান খোলা-বন্ধ করা হয়। নিয়ম মেনে ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সর্বাত্বক চেষ্টার ত্রুটি নেই কনিকার। এরই মাঝে একাধিক প্রশিক্ষনার্থীও জুটেছে তার প্রতিষ্ঠানে। তারাও কনিকার নিকট কাজ শিখে বেশ স্বাচ্ছ্যন্দ বোধ করছে বলে জানিয়ে উত্তরপাড়ার আঁখি নামের এক শিক্ষার্থী। কনিকা’র অর্ডারী পোষাক তৈরি ও বেঁচাকেনার বাস্তব অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপকৃত হচ্ছে অনেক বেকার মেয়েরা। ‘জয়িতা’ কনিকার সংসারে তিন ছেলে সবাই লেখাপড়া করে। শত সংগ্রামের ভিতর দারিদ্রতাকে জয় করেই সফলতার আলোর সন্ধান মিলবে বলে সে বিশ্বাস করে। সংসার দেখাশোনার পাশাপাশি নিবিড় পরিশ্রম করে সে ব্যবসায় আরো পূজি বিনিয়োগে চেষ্টা চালাচ্ছে। শৈলকুপায় একটি লেডিস ফ্যাশানের স্বপ্নদ্রষ্টা কনিকা খাতুন জানায়, সাধারণ পোষাক তৈরির কাজ শিখে বাড়িতে অনেক বছর স্বল্প পরিসরে ব্যবসা করলেও মূলত বাজার ব্যবসায়ী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পিছনের কারীগর অন্যজন।
জানা যায়, উপজেলা মহিলা অধিদপ্তরের মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা খানম তাকে সর্বাত্বক সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে কনিকা খাতুন জানায়, উৎসাহ, ব্যবসার বিনিয়োগে ও স্তরে স্তরে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার সাহস যুগিয়েছে সরকারের উক্ত প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টগণ। এ বিষয়ে মহিলা অধিদপ্তরের শৈলকুপা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা রেশমা খানম বলেন, নানা বিবেচনায় ২০১৯ সালে সফল নারী ক্যাটাগরীর তালিকার সেরা ‘জয়িতা’ কনিকা খাতুন দারিদ্রতা জয়ের দারুন উদাহরণ। তিনি বলেন, জীবন সংগ্রামে শৈলকুপা নগরপাড়ার সাহসী এই নারী ভবিষ্যতে অনেক বেকার যুবতীদের আলোর পথ দেখাতে সাহায্য করবে বলে আশা করেন।

এ জাতীয় আরো সংবাদ