আজ সোমবার,৯ই কার্তিক ১৪২৮ বঙ্গাব্দ,২৫শে অক্টোবর ২০২১ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৬:৪৯

শৈলকুপায় সবজি ব্যবসায়ী প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন, সুরাহা হয়নি ৫ দিনেও

Print This Post Print This Post

শাহিদুজ্জামান বাবু, নিজস্ব প্রতিবেদক :
৪ বছর পূর্বের ঘটনা। অর্থি তখন ৭ম শ্রেণীর শিক্ষার্থী। একমাত্র ভাইকে নিয়ে অর্থির পরিবারে সদস্য সংখ্যা ৪ জন। অর্থির পিতা পেশায় একজন কৃষক। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি তিনিই। এ মানবজনম সংসারে রক্তের সম্পর্ক বাদেও অনেক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তেমনিই অর্থির পরিবারের সাথে সখ্যতা গড়ে ওঠে তারই পাড়ার আকাশ হোসেন ওরফে আক্কাস নামে এক ব্যক্তির সাথে। আকাশের বয়স আনুমানিক ৩৪/৩৫ বছর। সংসারে তার স্ত্রী ও দুটি সন্তানও রয়েছে। আকাশ বর্তমানে পেশায় একজন সবজি ব্যবসায়ী। তিনি সবজি পাইকারী কিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে চালান করে থাকেন। তবে আকাশের পূর্বের পারিবারিক অবস্থা এমনটি ছিল না। কথিত আছে অনেক কষ্টেই দিনপাত করেছেন আকাশ ও তার পরিবারের সদস্যরা। তবে হঠাৎ যেন আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন তিনি। এখন ৩টি ট্রাকের মালিক আকাশ। তবে দ্রুত এতো অর্থের মালিক বনে গেলেন কিভাবে তা নিয়ে খোদ তার গ্রামেই গুঞ্জন আছে। পাড়ার বড়ভাই হিসেবেই যাতায়াত শুরু অর্থির পরিবারে। অর্থি ছোট হওয়ায় প্রাথমিকদিকে আকাশ তাকে আপন বোন ভেবে খুবই স্নেহ করতেন। বাড়ির পাশের দোকান থেকে এটা ওটা কিনে দিতেন। ধীরে ধীরে অর্থি বড় হতে থাকে এবং তার শারীরিক গঠনও পরিবর্তন হতে থাকে। আর অপরদিকে আকাশের কামুক চরিত্রও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। হায়েনার নজর পড়ে অর্থির দেহের দিকে। তখনও অর্থি ও তার পরিবার জানে না তাদের মেয়ের সাথে কি ঘটতে যাচ্ছে। প্রায়ই আকাশ রাতে তাদের বাড়ি যেতো এবং অর্থিকে কাছে টেনে স্নেহ করতো। অর্থির পরিবার কখনো ভাবেনি যে আকাশ অর্থিকে আপন বোনের চোখে দেখে মনকে চরিতার্থ করবে । প্রায়ই আকাশ অর্থিকে স্নেহ করার নামে শরীরে বিভিন্ন স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিতো। কিন্তু ছোট্ট অর্থি পরিবারের সম্মান ও লাজলজ্জার ভয়ে কাউকে কিছু বলে উঠতে পারেনি। এমনই সুযোগ নিয়েছে আকাশ। এভাবেই বছরের পর বছর আকাশ অর্থিকে নির্যাতন করেছে। গত বছর বিষয়টি অর্থির পরিবার বিষয়টি জানতে পারে আকাশের মানুষ রুপে জানোয়ারের চরিত্র। কিন্তু তারই আগেই ঘটে গেছে অনেক ঘটনা। অর্থির অবুঝ মনের সুযোগে লম্পট আকাশ জেনে শুনে ভোগ করেছে অর্থির দেহ। ভয় আর লজ্জার কারণে অর্থিও সহ্য করে গেছে বছরের পর বছর। তাদের মাঝে গড়ে ওঠেছে অবৈধ প্রেমজ সম্পর্ক। এদিকে আকাশ অর্থিকে বিয়ে করা সহ নানা প্রলোভন দেখিয়েছে। এ বিষয়টি জানাজানি হলে গত বছর এবিষয় নিয়ে একদফা সালিশ বৈঠকও হয় আকাশের পরিবারের সাথে। এছাড়া থানাতে অভিযোগও করেন অর্থি পিতা। গ্রাম ও পাড়াপ্রতিবেশীর চাপে ও লজ্জার ভয়ে এমন ইস্যুতে আকাশ তার স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে শেখপাড়া বাজারে বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করতে শুরু করেন। তবে বছর পার না হতেই আবারও আনুমানিক গত ২০ সেপ্টেম্বর অর্থিকে বিয়ে ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে ভাগিয়ে নিয়ে যান এবং বিয়ের নামে একটানা ৫ দিন ঝিনাইদহ বন্ধুর বাসায় রেখে ধর্ষণ করেন। পরে তাকে ছেড়ে পালিয়ে আসেন শেখপাড়াতে এবং অর্থির সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এদিকে অর্থি পরিবার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে। অর্থি কোন উপায়ন্তর না পেয়ে হঠাৎ গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় আকাশের গ্রামের বাড়িতে ওঠেন এবং বিয়ের দাবিতে আমরণ অনশনে বসেছেন তিনি। ঘটনাটি শৈলকুপা উপজেলার কাচেঁরকোল ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামে। লস্পট আকাশ ওই গ্রামের আলম খন্দকারের ছেলে ও অর্থি একই গ্রামের সমির শেখের মেয়ে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন জানান, উপজেলার কাঁচেরকোল ইউনিয়নের জাঙ্গালিয়া গ্রামের বাসিন্দা ১০ শ্রেণীর ছাত্রী অর্থির সাথে একইপাড়ার আলম খন্দকারের ছেলে সবজি ব্যবসায়ী আকাশের সাথে দীর্ঘদিন অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। ধর্ম ভাই হিসেবে অর্থির পরিবারের সাথে আকাশের সখ্যতা ছিল। এভাবেই আসা যাওয়া করতো আকাশ৷ প্রথম পর্যায়ে আপন বোনের মতই অর্থিকে স্নেহ করতো আকাশ। যা পাড়ায় চাউর আছে। কিন্তু চরিত্রহীন আকাশ মেয়েরটির সরলতার সুযোগে এমন কাজ করবে তারা চিন্তাও করতে পারেনি। তারা আরো জানান, আকাশসহ তার পরিবারের প্রায় সদস্যই এমন খারাপ চরিত্রের মানুষ। সহজ সরল মেয়েটিকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ন্যাক্কারজনক যে কাজ করেছে আকাশ তার কঠোর শাস্তি হওয়া দরকার। আকাশের স্ত্রী ও দুটি সন্তানও রয়েছে বলে জানান তারা।

অনশনকারী স্কুল ছাত্রীর পিতা শমসের শেখ জানান, ‘আমার মেয়েকে ফুসলিয়ে ও বিয়ে প্রলোভন দেখিয়ে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করেছে আকাশ। আমার পরিবারের মানসম্মান শেষ করে দিয়েছে। এখন আমার মরণ ছাড়া গতি নেই। নানাভাবে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তার নিরাপত্তা নিয়েও আমরা এখন শঙ্কিত। মেয়েকে হয় আকাশ বিয়ে করবে, নইলে আমি মামলা করবো।

অনশনকারী স্কুল ছাত্রী অর্থি বলেন, ‘আমার সরলতার সুযোগে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে আকাশ আমার সব শেষ করে দিয়েছে। আমি কোন রাস্তা না পেয়ে তার বাড়িতে উঠেছে। তার বাড়ির লোকজন আমাকে নানাভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। জোড়পূর্বক বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার পায়তারা করছে। হয় বিয়ে না হয় আত্মহত্যা ছাড়া এখন আমার আর কোনো পথ নেই।

অভিযুক্ত আকাশ হোসেন জানান, সামাজিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ফাঁসানোর চেষ্টা চালাচ্ছে। মেয়েটির সাথে আমার কোন প্রেমের সম্পর্ক নেই আর আমি কোন বিয়ের আশ্বাস দেইনি। তবে মেয়েটির পরিবারের সাথে পূর্বে সম্পর্ক ছিল, বর্তমানে সম্পর্ক নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল কালাম জানান, বিষয়টি জানার পরই উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সুরাহা হয়নি। মেয়েটি এখনো অনশন চালিয়ে যাচ্ছে।

কাঁচেরকোল ইউপি চেয়ারম্যান এ্যাড. সালাউদ্দিন জোয়ার্দার মামুন বলেন, ‘ঘটনাটি আমি কিছুই জানিনা। সাংবাদিকদের কাছ থেকে বিষয়টি জেনেছি। এহেন ঘটনা আসলেই ন্যাক্কারজনক। এঘটনায় অবশ্যই লম্পট আকাশের শাস্তি হওয়া উচিত।

কচুয়া তদন্ত কেন্দ্রের এসআই আলমগীর হোসেন জানান, ‘ঘটনাটি আমি শুনেছি। বিষয়টি জানার পর ওই ছাত্রীর পরিববারকে থানায় লিখিত অভিযোগ দাখিল করতে বলা হয়েছে।

শৈলকূপা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, ছাত্রীর অনশনের ঘটনায় কোন লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে ইনশাআল্লাহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ