আজ সোমবার,১৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৩০শে নভেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ১০:২১

শৈলকুপায় ৫ হাজার গাছ দিয়ে সাজানো ‘গাছবাড়ি’

Print This Post Print This Post

শৈলবার্তা ডেস্ক:

ঝিনাইদহের শৈলকুপার লক্ষণদিয়া গ্রামটি এখন অনেকের কাছেই সুপরিচিত। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ গ্রামে আসছে এই ব্যতিক্রম বাড়ি দেখতে। যে বাড়িটি ‘গাছবাড়ি’ নামে পরিচিত।

১৪ বিঘা জমির উপর ৫ হাজার প্রজাতির গাছ দিয়ে সাজানো ব্যতিক্রম বাড়িটি। দুইতলা ভবনের ওয়ালগুলো গাছ দিয়ে মোড়ানো। ছাদেও আছে বড় বড় গাছ। বাড়ির আঙ্গিনায় মূল্যবান আর দূর্লভ সব গাছ শোভা পাচ্ছে। রাস্তার ধার দিয়ে লাগানো বনজ গাছগুলো নজর কাড়ে পথচারীদের। এমনকি বাড়ির পায়খানা ট্যাংটিও গাছ দিয়ে সাজানো। যা সকলের ইতিমধ্যে নজর কেড়েছে।

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কের শৈলকুপা উপজেলার চাঁদপুর নামক স্থান থেকে আনুমানিক ৪ কিলোমিটার পূর্বে গেলেই লক্ষনদিয়া গ্রামটির দেখা মিলবে।

‘গাছবাড়ি’ লক্ষনদিয়া গ্রামের মৃত গোলাম কওছার আলীর ছেলে আমিনুল ইসলাম। স্ত্রী সিন্ধা ইসলাম, ছেলে মেয়জাবিন আমিন, মেয়ে আনুশকা বিনতে আমিনকে নিয়ে তার সংসার।

গাছবাড়ির মালিক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, গ্রামের নারীদের দিয়ে সুচ শিল্পের (কাপড়ে নকশা তোলা) কাজ করানোর প্রয়োজনে ২০১৪ সালে সুই সূতোর কাজ করতে পছন্দ করেন। এতে তার নির্মান করা বাড়িটি অকেজো হয়ে যায়। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন বাড়িটিকে গাছের সংগ্রহশালা তৈরী করবেন। গাছের সংগ্রহশালা করতে গিয়ে পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া জমির সঙ্গে তিনিও জমি কিনে এভাবে ১৪ বিঘা জমির উপর গাছের সংগ্রহশালা গড়ে তোলেন। ঢাকা থেকে প্রতি মাসে বাড়িতে আসলেও অন্তত একটি করে গাছ সঙ্গে আনেন আমিনুল।

তার বাড়িতে বেলজিয়াম, পর্তূগাল, মালয়েশিয়া, ভারত, দুবাইসহ একাধিক দেশ থেকে গাছ নিয়ে লাগানো হয়েছে। আমিনুল ইসলামের ভাষ্যমতে বর্তমানে তার বাড়িতে প্রায় ৫ হাজার গাছ রয়েছে। প্রতি মাসেই এই গাছের সংখ্যা বাড়ছে।

বাড়িতে রিটা, নাগলিংগম, এ্যামাজিন, লিলি’র মতো মূল্যবান গাছ রয়েছে। আবার রয়েছে দেশীয় ষড়া গাছ। গাছটি জঙ্গলে হয়ে থাকে, সেটা তিনি এই বাড়িতে লাগিয়ে সুন্দর করে রেখেছেন।

বাড়িটির ওয়ালে ‘ওয়াল কার্পেট’ নামের গাছ দিয়ে মোড়ানো রয়েছে। গোটা বাড়ির চারপাশে ৫’শত চারা রোপন করেন। যা পরবর্তীতে গোটা ওয়াল ঘিরে রেখেছে। সেফটি ট্যাংকিটাও গাছ দিয়ে সাজিয়েছেন। সেখানে বসে মানুষ ফুলের ঘ্রান উপভোগ করেন। কিন্তু বুঝতে পারেন না নিচেই রয়েছে দূর্গন্ধযুক্ত ময়লা। তিনি এই বিশাল সংগ্রহশালায় হারিয়ে যাওয়া সব গাছ লাগানোর পরিকল্পনা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া অনেক গাছ তিনি লাগিয়েছেন।

গাছের পরিচর্চা করার জন্য নিয়মিত ৩জন শ্রমিক আছেন। আমিনুল জীবনে যা আয় করছেন তার একটা বৃহৎ অংশই গাছের পেছনে ব্যয় করেছেন বলে জানান।

‘গাছবাড়ি’তে কাজ করা কৃষি শ্রমিক জিন্নাহ আলম জানান, গাছগুলো স্যারের জীবনের অংশ। তিনি এগুলো সন্তানের মতো মানুষ করেন। এই গাছের মধ্যে থেকে আমারাও গাছগুলোকে ভালবেসে ফেলেছি।

এ জাতীয় আরো সংবাদ