আজ শুক্রবার,৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ,২০শে মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৭:০০

শৈলকূপায় ৪০ দিন মসজিদে নামাজ পড়ে সাইকেল পেল ৪৫ কিশোর

Print This Post Print This Post

রানা আহমেদ অভি, নিজস্ব প্রতিবেদক :
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলায় শিশুদের নিয়মিত নামাজ আদায় ও নামাজের প্রতি ভালোবাসা জাগাতে পুরুস্কারের ঘোষণা দেয়া হয়। সেই পুরস্কারে আহ্বান জানিয়ে টানা ৪০ দিন নামাজে তাকবিরের সাথে জামাতে অংশগ্রহণ করে প্রথম পুরস্কার সাইকেল জিতে নিয়েছে পঁয়তাল্লিশ (৪৫) কিশোর। গত শুক্রবার জুম্মার দিনে শৈলকুপার ত্রিবেনী ইউনিয়নের আনন্দনগর গ্রামে বাংলাদেশ দাওয়াহ সার্কেল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে এ উপহার দেওয়া হয়।

এছাড়াও নামাজে অংশ নেওয়ায় দ্বিতীয় পুরস্কার বড় ব্যাগ পেয়েছে ৩০ জন কিশোর এবং তৃতীয় পুরস্কার ১৩ জন শিশুকে বিভিন্ন সাইকেল উপকরণ দেওয়া হয়েছে এদিনে। চার মসজিদের বিচারককেও দেওয়া হয় সম্মাননা ক্রেস্ট। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি উপস্থিত ছিলেন মুজাহিদুল ইসলাম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে আল হাদিস এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক ড. আক্তার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ড. আ স ম শোয়াইব আহমাদ, আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. কামরুল হাসান, ত্রিবেনী ইউনিয়নের ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ মন্ডল, বঙ্গবন্ধু হলের ইমাম মওলানা মনিরুজ্জামানসহ এলাকার বিজ্ঞ ব্যক্তিরা।

বিচারক হিসেবে ছিলেন শেখপাড়া মসজিদের ইমাম মুফতি মাহফুজুর রহমান হাকিপুরী, আনন্দনগর কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম হাফেজ জুবায়ের আল হাদি, আনন্দনগর ইসলামনগর আনু মিয়া জামে মসজিদ ইমাম আবু মুসা ও পদমদী মসজিদের ইমাম আবু ইউসুফ। আহ্বায়ক ছিলেন শাখওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানটির আহ্বায়ক শাখওয়াত হোসেন বলেন, আমরা তাকবিরওয়ালাদের সাথে টানা চল্লিশ দিন ব্যাপী নামাজ আদায়ের জন্য মূলত এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিলাম।

বর্তমান তরুণ ছাত্রসমাজ গেমসে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে, মাদকের সাথে এবং অন্যায় অপরাধের সাথে সম্পর্ক করে ফেলছে ফলে মসজিদে আসছে না। এদেরকে মসজিদে আনার জন্য আমাদের এই আয়োজন করা। কারণ নামাজ মানুষে অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে।

আনন্দনগর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক আব্দুল লতিফ বলেন, এটা অত্যন্ত ভালো উদ্যোগ। এটা সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে গেলে সকলের মাধ্যে মসজিদের আসার আগ্রহ অনেক বাড়বে।

এ বিষয়ে প্রতিযোগিতার অন্যতম বিচারক মুফতি মাহফুুজুর রহমান বলেন, প্রথমে চিন্তায় করছিলাম শিশুরা সকাল চারটা পাঁচটাই উঠে পারবে কি-না। কিন্ত সেই সময়ে উঠে তারা নজির সৃষ্টি করে ফজরের নামাজে অংশগ্রহণ করেছে। আমরা প্রথমে শুধু সাইকেল পুরস্কার দিতে চেয়েছিলাম পরে তাদের আগ্রহ দেখে যারা তাকবির মিস করেছে তাদের অনন্য শিক্ষা সামগ্রী দিয়েছি।

আরও বলেন, আমরা ভেবেছি এলাকার কিশোরদের যদি নামাজের মাধ্যমে ইসলামের দিকে টেনে আনা যায়, তাহলে তারা পাপ কাজে যুক্ত হবে না। একসঙ্গে এত কিশোর যদি নামাজ পড়ে, তাহলে আশ পাশের মানুষের ভেতরও আগ্রহ বাড়বে। আগামীতে মধ্য বয়সী ব্যক্তিদের জন্য এ ধরনের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এ জাতীয় আরো সংবাদ