আজ শুক্রবার,৬ই জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ,২০শে মে ২০২২ খ্রিস্টাব্দ,সকাল ৭:০১

সীমাবদ্ধতা থামাতে পারেনি শৈলকূপার সেই পলাশের ব্যতিক্রমী শরীরচর্চা কেন্দ্র

Print This Post Print This Post

রাজীব মাহমুদ, নিজস্ব প্রতিবেদক :
পৃথিবী জুড়ে শুরু হয় করোনা মহামারীর বিপর্যয়। করোনার শুরুতে মানুষ ঘরে থেকে থেকে ডিপ্রেশনসহ শারীরিকভাবে অনেক দুর্বলতা হতে শুরু করে। জীম ছাড়া শরীরচর্চা সম্ভব না, এমনটা সবাই মনে করেন। এমন সব গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে নিজ চেষ্টায় এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন ঝিনাইদহের শৈলকুপার তরুন যুবক জীম উদ্যোক্তা পলাশ।

সেই দুঃসাধ্য কাজকেই সহজ করেছে ঝিনাইদহের শৈলকুপার যুবক এপি পলাশ। প্রত্যন্ত গ্রামে যেখানে কোনো ধরনের জীমের সুযোগ তো দূরের কথা জীম স্বচোখে দেখেছেন এমন মানুষ মিলানো কষ্টকর।

জানা যায়, করোনাকালীন সময়ে পলাশ তার এলাকার যুবকদের নিয়ে আলোচনায় বসেন। সেই আলোচনায় তিনি সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করেন সুস্থ থাকতে হলে শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। নিয়মিত ব্যায়াম দেহ মনে শান্তি ও সুস্থতা বয়ে আনে। বিকালে যে সময় বাইরে সবাই ঘুরে অযাচিত সময় নষ্ট করে। ঔই সময়টা কাজে লাগিয়ে কিভাবে সুস্থ থাকা যায়, সেই বিষয় সবাইকে উৎসাহিত করে এবং সবাইকে বুঝাতে সক্ষম হোন, শরীরচর্চার কোনো বিকল্প নেই। পলাশের এমন ভাবনায় গ্রামের অন্যান্য যুবারা তার ডাকে সাড়া দেয়। তারই নেতৃত্ব শুরু হয় নতুন জীম তৈরীর পরিকল্পনা।

তার জীমের প্রথম উপকরণ হলো হাতের কাছে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা ইট-বালি, মাটি-সিমেন্ট, প্লাস্টিকের পাইপ, বোতল, গাছের ডাল, বাঁশ-খুঁটি সহ পরিত্যাক্ত সব সামগ্রী হলো জিমের সরঞ্জাম।
এসব দিয়ে গ্রামে বসেই এপি পলাশের নেতৃত্বে একদল তরুণ ভিন্ন আঙ্গিকে তৈরী করেছে ডাম্বেল, বারবেল, পুলআপ বার, দঁড়িলাফ সহ আধুনিক জিম বা ব্যায়ামাগারের সব যন্ত্রপাতি। টেকনোলজি কে টেক্কা দিয়ে কোন রকম অর্থ বা পয়সা-কড়ি ছাড়াই তৈরী করা হচ্ছে ভারী ব্যায়ামের এসব যন্ত্রপাতি।

জীম টিমের কাঞ্চন, পারভেজ, রাব্বি, সবুজসহ কয়েকজন জানান, কোনো টাকা-পয়সা ছাড়াই এসব সরঞ্জাম দিয়ে তারা শরীরচর্চা করছেন। তারা সবাই আগের তুলনায় অনেক সুস্থ এবং সুন্দর আছেন।

শৈলকুপায় ব্যতিক্রমী এ জিমনেশিয়ামের উদ্যোক্তা এপি পলাশ জানান, শরীর অনুযায়ী ব্যায়ামসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিয়মিত পড়াশোনা করছেন তিনি। এছাড়া প্রশিক্ষণ নেয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ইউটিউবে বিভিন্ন কনটেন্ট দেখে তরুণদের শরীরচর্চায় উৎসাহিত করছেন। তিনি আরো জানান, তার এই উদ্যোগ উদ্যোগ সারাদেশে ছড়িয়ে পড়লে দেশের তরুণ সমাজ একত্রিত হয়ে তাদের পাড়া বা মহল্লায় গড়ে উঠবে এমন অসংখ্য জিমনেসিয়াম। দেশে থেকে নিমূল হবে মাদক সহ অন্যান্য খারাপ নেশা।

এ জাতীয় আরো সংবাদ