আজ শুক্রবার,২৩শে শ্রাবণ ১৪২৭ বঙ্গাব্দ,৭ই আগস্ট ২০২০ খ্রিস্টাব্দ,রাত ৪:৩৩

সুদখোরের পরিণতি

Print This Post Print This Post

ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। যাতে রয়েছে ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি ক্ষেত্রের পবিত্র, প্রগতিশীল, যুগপোযোগি বিধি বিধান। নিশ্চয় ইসলাম ধর্ম আল্লাহ তায়ালার নিকট মনোনীত ধর্ম।

ইসলামে যেখানে একটা হারাম কাজ থেকে বিরত থাকার কথা বলা হয়েছে ঠিক তার বিপরীতে একটা হালাল কাজের কথাও বলা হয়েছে।
যেমন জিনা করা হারাম, কিন্তু তার বিকল্পে রয়েছে বিয়ে করা। অনুরুপ ইসলামে সুদ খাওয়াকে হারাম করেছেন কিন্তু তার বিপরীতে ব্যবসাকে হালাল করেছেন। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো আমাদের সমাজে সুদ দেওয়া- নেওয়ার মহড়া চলছে। আজ আমরা হারাম কাজে ডুবে গিয়েছি। এসমস্ত হারাম কাজকে কিছুই মনে করছি না।

  • সুদ সম্পর্কে কুরআন আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ

﴿الَّذِينَ يَأْكُلُونَ الرِّبا لا يَقُومُونَ إِلَّا كَمَا يَقُومُ الَّذِي يَتَخَبَّطُهُ الشَّيْطَانُ مِنَ الْمَسِّ ذَلِكَ بِأَنَّهُمْ قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا﴾

অর্থাৎ, যারা সুদ খায় তারা (কিয়ামতের দিন) সেই অবস্থায় উঠবে যে অবস্থা হয় একজন শয়তান (জিবন) পাওয়া লোকের। তাদের উক্তরূপ হাশর হওয়ার কারণ এই যে, তারা বলে, ব্যবসা তো সুদের মতই! অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করেছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম। (সূরা বাক্বারাহ ২৭৫ আয়াত)

আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ

يَمۡحَقُ اللّٰهُ الرِّبٰوا وَيُرۡبِىۡ الصَّدَقٰتِ‌ؕ وَاللّٰهُ لَا يُحِبُّ كُلَّ كَفَّارٍ اَثِيۡمٍ﴾

“আল্লাহ সুদকে নিশ্চিহ্ন করেন এবং দানকে বর্ধিত ও বিকশিত করেন। আর আল্লাহ‌ অকৃতজ্ঞ দুষ্কৃতকারীকে পছন্দ করেন না। (সূরা বাক্বারা আয়াত ২৭৬)

﴿ يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا اتَّقُوۡا اللّٰهَ وَذَرُوۡا مَا بَقِىَ مِنَ الرِّبٰٓوا اِنۡ كُنۡتُمۡ مُّؤۡمِنِيۡنَ﴾

” হে ঈমানদারগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং লোকদের কাছে তোমাদের যে সুদ বাকি রয়ে গেছে তা ছেড়ে দাও, যদি যথার্থই তোমরা ঈমান এনে থাকো।( সূরা বাক্বারা আয়াত ২৭৮)

﴿ فَاِنۡ لَّمۡ تَفۡعَلُوۡا فَاۡذَنُوۡا بِحَرۡبٍ مِّنَ اللّٰهِ وَرَسُوۡلِهٖ‌ۚ وَاِنۡ تُبۡتُمۡ فَلَكُمۡ رُءُوۡسُ اَمۡوَالِكُمۡ‌ۚ لَا تَظۡلِمُوۡنَ وَلَا تُظۡلَمُوۡنَ﴾

“কিন্তু যদি তোমরা এমনটি না করো তাহলে জেনে রাখো, এটা আল্লাহ‌ ও তাঁর রসূলের পক্ষ থেকে তোমাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা। এখনো তাওবা করে নাও (এবং সুদ ছেড়ে দাও) তাহলে তোমরা আসল মূলধনের অধিকারী হবে। তোমরা জুলুম করবে না এবং তোমাদের ওপর জুলুম করাও হবে না। (সূরা বাক্বারা আয়াত ২৭৯)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡا لَا تَاۡكُلُوۡا الرِّبٰٓوا اَضۡعَافًا مُّضٰعَفَةً‌ وَاتَّقُوۡا اللّٰهَ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ‌ۚ﴾

“হে ঈমানদারগণ! এ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খাওয়া বন্ধ করো এবং আল্লাহকে ভয় করো, আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে। (সূরা আল ইমরান আয়াত ১৩০)

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيۡنَ اٰمَنُوۡۤا اِنَّمَا الۡخَمۡرُ وَالۡمَيۡسِرُ وَالۡاَنۡصَابُ وَالۡاَزۡلَامُ رِجۡسٌ مِّنۡ عَمَلِ الشَّيۡطٰنِ فَاجۡتَنِبُوۡهُ لَعَلَّكُمۡ تُفۡلِحُوۡنَ﴾

“হে ঈমানদারগণ! এ মদ, জুয়া, মূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকলাপ। এগুলো থেকে দূরে থাকো, আশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে। (সূরা মায়িদাহ আয়াত ৯০)

সুদ সম্পর্কে কিছু হাদিস :

হযরত জাবের রাযিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত,

لَعَنَ رَسُولُ اللهِ ﷺ آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه، وقال : هم سواء.

অর্থাৎ, আল্লাহর রসূল (সাঃ) সুদখোর, সুদদাতা, সুদের লেখক এবং তার উপর সাক্ষীদ্বয়কে অভিশাপ করেছেন, আর বলেছেন, ‘‘ওরা সকলেই সমান।’’ (মুসলিম ১৫৯৭নং মিশকাত ২৪৪ পৃঃ)

সুদের এক টাকা ছত্রিশবার ব্যভিচারের চেয়ে মারাত্মক :

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে হানযালা (গাসিলুল মালাইকা) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন মহানবী (স) বলেছেন- কোন ব্যক্তির সুদের একটি টাকা খাওয়া তার ছত্রিশবার ব্যভিচার করা অপেক্ষাও জঘন্য অপরাধ (মুসনাদ আহমদ,মিশকাত- পৃ.২৪৫-২৪৬)।

সুদখোরের পেট হবে গৃহের ন্যায় :

সর্বাধিক হাদীস বর্ণনাকারী হযরত আবু হুরায়রা (রা) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন- রাসূলুল্লাহ (স) বলেছেন- মিরাজের সময় আমি এমন একদল লোকের নিকট পৌঁছলাম যাদের পেটগুলো ছিল গৃহের ন্যায় বড়। আর পেট গুলোর ভিতরে বহু সর্প বিদ্যমান যা বাইরে থেকে দৃশ্যমান। আমি বললাম, হে জিবরাঈল এরা কারা? তিনি বলেন- এরা হলো সুদখোর (মুসনাদ আহমদ, ইবন মাজাহ, মিশকাত-পৃ.২৪৬)

সুদের নিম্নতম গুনাহ স্বীয় মাকে বিবাহ করা :

হযরত আবু হুরায়রা (র) থেকে বণিত, তিনি বলেন-রাসুলুুল্লাহ (স) বলেছেন, সুদের রয়েছে সত্তর প্রকার গুনাহ। তন্মধ্যে সর্বনিম্ন গুনাহ হলো স্বীয় মাকে বিবাহ করা। (ইবন মাজাহ- হাদীস নং-২২৬৫)

সুদী নিজেকে আল্লাহর শাস্তির উপযুক্ত করে :

মহানবী (স) বলেছেন- কোন সম্প্রদায়ে যখন সুদ ও ব্যভিচার প্রকাশ্যে ঘটতে থাকে তখন তারা নিজেদেরকে আল্লাহ তা’য়ালার আজাবের উপযুক্ত করে নেয় (মুসনাদ আহমদ- হাদীস নং-৩৬১৮)।

তাই আসুন- সুদ দেওয়া – নেওয়া থেকে বিরত থাকি হালাল ব্যবসার জন্য এগিয়ে আসি। হালাল ব্যবসায় যেমন আমরা নিজেরা আর্থিক ভাবে লাভবান হব, আবার দেশের অনেক উন্নতি সাধিত হবে ইনশাআল্লাহ।
আল্লাহ আমাদের বুঝার তাওফিক দিন। (আমীন)

লেখক : মুহাঃ আব্দুল্লাহ আল আফিক, ঝিনাইদহ।

এ জাতীয় আরো সংবাদ